ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: ব্রীজটা ভাংছে আজ কত দিন হয় ভাল করছে না। আমরা ইস্কুলে যাইতে পারি না। জীবন হাতে নিয়া ভয়ে ভয়ে কোন মতে পার হই। বর্ষা হলে যাওয়া আসা বন্ধ হয়া যায়। এইটা ছাড়া আর কোন রাস্তা নাই। ব্রীজ পার হলেই ইস্কুল (আধা মাইল) কিন্ত ৪ মাইল রাস্তা ঘুরি যাইতে হয়। ব্রীজটা ভাল করি দেন নাহলে আমাদের ইস্কুল যাওয়া বন্ধ হয়া যাইবে। এ ভাবে কথা গুলো বলছিলেন, দ্বিগল হ্যাল্লা দাখিল মাদরাসার ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী শোভা খাতুন।
মাদারটারী গ্রামের প্রবাসি মাঈদুল ইসলাম বলেন, ব্রীজের এপাড়ে আমার বাড়ী কিন্ত ওই গ্রামও উলিপুর অথবা অনন্তপুর বাজার যেতে হলে ৩/৪ কিলোমিটার ঘুরে যাইতে হয়। গ্রামের মানুষ কৃষি দ্রব্য নিয়ে বাজারে যেতে খুব কষ্ট পোয়াচ্ছে। ব্রীজটা আমাদের দুই গ্রামের সেতু বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। কিন্ত ব্রীজ ভেঙ্গে ডেবে যাওয়ায় মানুষ ও যান বাহন পাড়া পাড় বন্ধ হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে দুই গ্রামের যোগাযোগ। এ অবস্থায় এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে মারাত্ক বিঘ্ন ঘটেছে।
শোভা খাতুন ও মাঈদুল ইসলামই নয় তাদের মত শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম,অফিজল হকসহ গ্রামবাসিদের দাবী খালের উপর নুতন ব্রীজ করা হউক।
ব্রীজটি প্রত্যক্ষ কালে স্থানীয় বাসিন্ধারা বলেন, আগে বামনী খালের উপর কোন ব্রীজ ছিল না। গ্রামবাসিরা বাশেঁর চরাট দিয়ে সাকো করে পারা পাড় করতাম। তখন খুব কষ্ট ছিল। সাকো ভেঙ্গে পানিতে পড়ে দুটি শিশু মারা গেছে। কয়েক বছর আগে ব্রীজটি নির্মান করলে আমাদের চলাচলের সুবিধা হইছিল। ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আবারও সেই কষ্টে পড়েছি। বেশী কষ্টে পড়েছে মাদারটারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিগলহ্যাল্লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,দ্বিগলহ্যাল্লা দাখিল মাদরাসা, নুতন অনন্তপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও নুতন অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন অফিস জানায়, ব্রীজ না থাকায় হাতিয়া ও ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। গত ২০১৬/১৭ অর্থ বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বামনী খালের উপর কাসারী ঘাট মাদারটারী সেতু / কালভাটটি নির্মান করেন। কিন্ত গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড বামনী খাল পুর্নঃ খনন করলে ওই বছরেই পানির তোরে ব্রীজটি ডেবে যায়। ফলে ব্রীজটি চলাচলে ঝুকি পুর্ন হয়ে পড়েছে। নুতন ব্রীজের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. এরশাদুল হক বলেন,মাদারটারী ব্রীজসহ আমার ইউনিয়নে বামনী খালের উপর কেকতির পাড় ব্রীজ, রুপার খামার ব্রীজ ও মাঝ বিল ব্রীজ/ কালভাড ডেবে গেছে। ফলে মানুষের চলাচলে মারাক্তক অসুবিধায় পড়েছে। ব্রীজ গুলো মেরামত ও নুতন ব্রীজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তা মো.ফিজানুর রহমান বলেন,মাদাররী ব্রীজসহ ক্ষতি গ্রস্থ ব্রীজ গুলো নির্মানের প্রস্তাব অধিদপ্তরে নক্্রাসহ প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ব্রীজ নির্মানে অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া গেলে জুন মাসের মধ্যে টেন্ডার করা যাবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, ত্রান শাখা থেকে নুতন ব্রীজের প্রস্তাবনা গেছে, চেষ্টা করছি যাতে ব্রীজ নির্মান করা যায়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৫:২৬ ২৩৩ বার পঠিত | ● উলিপুর ● ঝুঁকি ● ব্রীজ ● ভাঙা