ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » শিরোনাম » ‘হামার কী দোষ, হামার বাড়ি ঘর নাই, থাকমু ক্যানও’

‘হামার কী দোষ, হামার বাড়ি ঘর নাই, থাকমু ক্যানও’


এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫


‘হামার কী দোষ, হামার বাড়ি ঘর নাই, থাকমু ক্যানও’


হবিগঞ্জ:
‘হামার কী দোষ, হামার বাড়ি ঘর নাই, থাকমু ক্যানও’ বৃদ্ধ আলাউর মিয়ার উক্তি। তিনি ২০ বছর ধরে নদীর তলে বসবাস। বাড়ি ঘর কিছু নাই থাকবেন কোথায় তাই নদীর তল দেশে সেতুর নীচে পরিবার নিয়ে তার বসবাস। নবীগঞ্জ ইউএনও অফিসে ভুমিহীন হিসাবে আবেদন কনেরনি অফিস সুত্র জানায়। তাই বাস্তুভিটাহীন আলাউর মিয়ার পরিবারকে কোন বরাদ্ধ দেয়া যাচ্ছে না।
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রুস্তমপুর এলাকায় শাখা বরাক নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতুর নিচে বসবাস করছেন আলাউর মিয়ার পরিবার। সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলছে অসংখ্য ভারী যানবাহন, বাস, ট্রাক, লরি। আর নিচে চলছে জীবনের নির্মম যুদ্ধ। আবার বর্ষার মওসুমে পানির সাথে যুদ্ধ করতে হয়। বৃষ্ট্রির পানি অথবা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তার বসত ঘরে পানি জমে যায়। নদীতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধাতা তার বসত ঘরের জন্য। তবুও তিনি স্থান পরিবর্তন করছেন না। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সেই ব্রিজের নিচে জীবন কাটাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আলাউর মিয়া ও তার পরিবার।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর নিচে বসবাস করা এ পরিবারটির জন্য প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক মৃত্যুঝুঁকি। ছয় ফুটের মতো উঁচু-নিচু জায়গায় সামান্য পলিথিন ও কাঠ দিয়ে তৈরি বাঁশের ঘরেই স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ মোট ১৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
রুস্তমপুর এলাকার রহিম উদ্দিন বলেন, আলাউর মিয়া যেমন অসহায়, ভুমিহীন তেমনি আমাদের জন্য গলার কাটাও বটে, তার বাড়িটি নদীর নীচে হওয়ার জন্য নদীর পানি নিস্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। সরকার যদি তাকে পুর্নবাসন করে কোথায় নিয়ে যায় এলাকার জন্য অনেক উপকার হবে।
আলাউর মিয়া বলেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে বলে তিনি কোন বাড়ি ঘর পাচ্ছেন না, তাই সেতুর নীচে বসবাস করেন। তিনি আরও বলেন, ‘হামার কী দোষ, হামার বাড়ি ঘর নাই, থাকমু ক্যানও’ তাই নদীর তলেই আছি” তাকে বলা হয় ভুমি অফিসে আবেদন করতে বলা তিনি করেননি। তিনি বলেন, আমি আবেদন করতে জানি না। ২০ বছর ধরে সেতুর নিচে জীবনের নির্মম যুদ্ধ তিনি বলেন, জীবনের শেষ বয়সে একটি ঘরও জোটেনি। পরিবারের কেউ লেখাপড়া করতে পারছে না। অসুস্থ হলেও ওষুধ কেনার টাকা নেই। বাঁচার জন্য প্রতিদিন লড়াই করতে হয়।

আøলাউর মিয়া তিনি আশ্রয়ের খোঁজে ২০০৫ সাল থেকে তিনি পরিবারসহ ব্রিজের নিচে বসবাস শুরু করেন। দিনরাত ভারী যানবাহনের শব্দে ঘুম ভাঙে তাদের। ছোট-ছোট শিশুদের ঘুমাতে কষ্ট হয়, সবসময়ই থাকে এক অজানা আতঙ্ক। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ হয় চরম ঘরে পানি ঢুকে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে জীবন।
বৃদ্ধ আলাউর মিয়ার ছেলে কামাল মিয়া বলেন, তিনি সিএনজি চালান, তার পরিবারের সদস্যরা অনেক কষ্টে বসবাস করছেন। অনেকবার স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কোনো সরকারি ঘর বরাদ্দ পাননি তারা। তাদের পরিবারের প্রতিদিন খাদ্য সংকট থাকে। একবেলা খাবার জুটলেও অন্য বেলা অনাহারে দিন কাটাতে হয় পুরো পরিবারকে। অসুস্থ হলে টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দা জাবেল মিয়া বলেন, এইপরিবারটির অবস্থা দেখে চোখে পানি এসে যায়। এখনই সহযোগিতা না করলে হয়তো এই শিশু গুলোকে আমরা হারিয়ে ফেলব অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। এদিকে স্থানীয়রা এই অসহায় পরিবারের পাশে সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন।
দেবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের শাহরিয়াজ নাদির সুমন জানান, আমি বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্যারের কথা বলবো। পরিবারটি সরকারি ঘরের জন্য আবেদন করলে কেন এখনো বরাদ্দ সম্ভব হয়নি জানার জন্য চেষ্টা করবো। তবে এই পরিবারের বিষয়টি ইউপি অফিস ও প্রশাসনের নজরে রয়েছে ।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, ‘পরিবারটিকে সরকারি বন্দোবস্তের আওতায় আনার প্রক্রিয়ার জন্য আমরা পরিবারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে আবেদন দেওয়ার জন্য বলেছি, কিন্তু এখনও কোন আবেদন দেয়া হয়নি। আবেদন দেয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের চাহিদা মোতাবেক জায়গায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ বসত ঘরের জন্য পানি নিস্কাশনের সমস্যা হলেও মানবিক কারনে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৫:০১   ১১৬ বার পঠিত  |   







শিরোনাম থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল
সুজানগরে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা
চাটমোহরে এলাকাবাসী পেলো কাঠের সেতু
ময়মনসিংহ-২ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ, ব্যালট সংরক্ষণে আদালতের নির্দেশ



আর্কাইভ