ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: পাট উন্নয়ন কার্যালয়ে সমানে ১২টা সময় মাঝ বয়সি একজন মানুষ দাড়িয়ে আছে । বেশভুষা অতি সাধারন। উপজেলার নদী ওপারে সাহেবের আলগা থেকে এসেছেন বাবর মোল্লা(৫৫) । উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। কেন এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলের,হামরা চরের মানুষ পাট আবাদ করি তা দিয়ে মোগর সারা বছর চলে। চরের মধ্যে ম্যালা মানুষ পাট আবাদ করি। হুনছি পাট চাষীগোরে টেন্নিং( প্রশিক্ষন) দেয় । পাট চাষের জন্নি ইলিপ ( প্রনোদনা) দেয়। কিন্ত হামরা কোন কিছুই পাই না বলে তার অভিযোগ ।৩ দিন ঘুরি আজক্যা অফিস পাইলাম কেউ নাই অফিস বন্ধ।গত বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টায় পাট উন্নয়ন কার্যালয়ে গেলে এমন চিত্র দেখা যায়।
গত এক সপ্তাহ সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই মেলে উপসহকারী পাট উন্নয়ন কার্যালয়ে। গ্রামীন ব্যাংক উলিপুর শাখার পাশের কক্ষটি থাকে বন্ধ মাসের অধিকাংশ সময়। সাইন বোর্ডটিও ঝোপ জংঙ্গলে ঢাকা। কাগজে কলমে একজন কর্মকর্তা ও একজন পিয়ন থাকলেও নানা সমস্যা নিয়ে অফিসে এসে কৃষকরা তাদের পান না। ফলে কৃষকরা সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। ”উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদনএবং সম্প্রারন প্রকল্পটি”। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে।
গত ৬ অক্টোম্বর চর বজরা গ্রামের মশিউর রহমান পাট অফিসে আসেন তিনি বলেন, অনেক দিন থেকে খুজে আজ অফিস পেলাম । শুনলাম অফিসটি নাকি খোলে না। মাঝে মধ্যে পিয়ন এসে ঝারা মোছামুছি করে চলে যায়। গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই শাখায় ২ বছর হয় । কিন্ত কোন দিন অফিসটি খোলা দেখিনি। ওই কর্মকর্তাকে দেখিনি, চিনিও না। তবে একটা পিয়নকে মাঝে মধ্যে দেখি । ব্যাংকের কেউ পিয়নের নামও জানে না বলে জানান।
চায়ের দোকানদার মো. আব্দুস ছালাম বলেন, শুনেছি ওই ভিতরের একটা বাড়ীর মধ্যে পাটের অফিস। অফিস পিয়ন মাঝে মাঝে চা খেতে আসে তার নাম তিনি জানে না। অফিস ভবনের মালিক ব্যবসায়ী (অবঃ) সেনা সদস্য মো. আব্দুর রউফ বলেন, অফিসের কর্মকর্তা ও পিয়ন আছে । কিন্ত তাদের নাম ও ফোন নম্বর জানেন না
অফিস এলাকার কেউ জানেন না এখানে পাট অফিস আছে ।
ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার গ্রামে ওই পিয়নের বাড়ী কিন্ত নাম ফোন নম্বর জানি না। দেখা হলে ওর সাথে কথা বলাব। এর চার দিন পর গত গত ৮ অক্টোম্বর ওই ব্যবসায়ী পিয়ন জসিম উদ্দিনের কথা বলান। তার কাছে জানাতে চাই অফিস কেন বন্ধ থাকে।
উত্তরে বলেন, স্যার আসে না অফিস খুলি কি করব। তাছাড়া কাজ নাই। স্যার যে দিন আসে আমি সেদিন আসি। তার ফোন নম্বর চাইলে তা দিতে অপারগতা জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমি জানি না তার অফিস কোথায় শুনেছি বাস ষ্টানের দিকে । তিনি মাঝে মাঝে পাট চাষীদের নামের তালিকা নিতে আসেন প্রশিক্ষন এবং প্রনোদনা দিবেন। আর কিছু জানি না। তবে তিনি ওই কর্মকর্তার নাম ও নম্বর দেন।
এ বিষয়ে উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.মাসুদ রানার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্প শেষের দিকে,তেমন কাজ কর্ম নাই তাই মাঝে মধ্যে যাই। কিন্ত পিয়নের তো অফিস খোলা রাখার কথা। তিনি জানান, ৩ মাস পর পর ৫০ জন করে কৃষকদের প্রশিক্ষন দেওয়া ও প্রনোদনা দেওয়া হয় ।তখন অফিস নিয়মিত খোলা থাকে। প্রশিক্ষন ও প্রনোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন,নাম জানি না তবে ২/১ দিন অফিসে এসেছিলেন ।কিন্ত অফিস কোথায় তা জানি না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
এন/ আ
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৯:৩৯ ২৯৫ বার পঠিত | ● উলিপুর ● কার্যালয় ● পাট উন্নয়ন