ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: ব্রীজডা ওই যে বানের পানিতে ভাংগি গেল আর হইল না। এখন আমরা চিলমারী যাইতে পারি না , উলিপুরও যাইতে পারি না। পাঁকা আস্তা থাইকাও আমাদের কাজে লাগছে না। উল্টা মরন ফাঁদ হইছে। আমরা ব্রম্মপুত্র নদীর পাড়ে বসবাস করি আমাদের চলাচলের জন্য পাকা আস্তাট হয়া খুব উপকার হইছিল।
কৃষি ফসল দুই উপজেলা হাটে সহজে নিয়া বিক্রি করতাম। কিন্ত বান সে সুখ কারি নিল। ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজ যাইতে পারে না। হামার চলাচলের খুব কষ্ট হইছে বাহে। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন বড়য়া তবকপুর গ্রামের কৃষক শহীদুর রহমান (৬৫)।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) উলিপুর ২০১৫ সালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে উলিপুর হাসপাতাল মোড় থেকে তবকপুর ইউনিয়নের বড়ুয়া তবকপুর বাজার হয়ে চিলমারী উপজেলার রসুলপুর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৩টি ব্রীজ নির্মান করে। ২০১৮ সালের বন্যায় পানিতে বড়ুয়া তবকপুর বাজারের পাশের ব্রিজটি ভেঙে যায়। কিন্ত ৮ বছরে ব্রীজটি পুর্নঃনির্মান না হওয়ায় নদী পাড়ের ৩০ গ্রামে ৫০ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচিন্ন হওয়ায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ অসু¯’ রোগির স্বজনরা । সেই সাথে ওই সড়ক দিয়ে মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার প্রায় শতাধিক রিক্সা, অটো ও অটোভ্যান চালকরা এক রকম বেকার হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ওই বছরেই ব্রীজটি পুর্নঃ নির্মানের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দুই দফা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর পর ২০২৩ সালে পর্নরায় নুতন করে ব্রীজ নির্মানে প্রস্তাব চান । সে প্রস্তাব ও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আজ অবদি প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা ব্রীজ এলাকায় বিরাট গর্ত্তের সৃষ্টি হয়েছে । বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন অটো রিকসায় এসে ব্রিজটির উত্তর প্রান্তে নেমে ড্রামের ভেলায় করে, আবার কেউ কৃষিজমির আইল দিয়ে কাপড় ভিজে পার হয়ে হেটে গন্তবে যাচ্ছেন। নারী-পুরুষ, শিশু কিংবা ব্যবসায়ী সবাইকে একই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
উলিপুর সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার বলেন, যখন বেশি পানি হয়, তখন ভয়লাগে কখন জানি পানিতে পড়ে যাই। তাছাড়া বাড়ী থেকে ৩ কিলোমিটার রাস্তা হেটে এসে ভেলায় পাড় হয়ে বড়ুয়া তবকপুর বাজার এসে অটো করে কলেজে যেতে হয়। এখন হাটতে হয়, টাকাও বেশী লাগে তাই মাঝে মাঝে কলেজে যাই ।
স্থানীয় বাসিন্দা মমেনা বেগম(৪৫) বলেন, ব্রিজটি কয়েক বছর ধরি ভাঙ্গি পরি আছে, কাইয়ো দেখে না। গর্ভবতী ও অসুস্থ মহিলাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করি হাসপাতালোত নিয়ে যাওয়া খায়। বেশি অসুস্থ হইলে তকতাত তুলি ঘারোত করি নিয় যাওয়া নাগে। হামার ব্রিজটা ভাল করি দেও বাহে ।
অটোচালক আমিন উদ্দিন(৫৫) বলেন,৮ বছর হয় সেতুটা ভাঙ্গি গেইছে ভাল করার নাম নাই। হামার কামাই ওজগার কমি গেইছে। আগেত কামাই হইছিল দিন ৪০০/৫০০ এল্যা সারাদিন খাটি পাই ২০০ টাকা। গরিবের দুঃখ দেখার কাইও নাই।
স্কুল শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সেতু ভাঙ্গার কারনে অনেক শিশু শিক্ষাথী স্কুলে আসে না। এই সড়ক দিয়া আমার স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।
তবকপুর ইউপি চেয়ারম্যান, মোকলেছার রহমান বলেন, এই পথে তবকপুর, চিলমারীর থানাহাট ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত করে। এমপিসহ অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রিজটি নির্মাণসহ সড়কের অংশটি মেরামতের জন্য অনেক চেষ্টা-তদবির করা হয়েছে। ড্রামের ভেলা দিয়ে চলাচল করতে হয়। আট বছর ধরি এই অবস্থা চলছে।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন,আগে কয়েক দফা প্রস্তাব পাঠানে হয়েছে। সম্প্রতি আবার নতুন করে ব্রিজটির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, ব্রিজটি সাপোর্টিং রুরাল ব্রীজ প্রকল্পে ডিপিপি ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেলে ব্রীজটি নির্মান করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩৯:৩৮ ১০২ বার পঠিত | ● উলিপুর ● নির্মান ● ব্রীজ