ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » অসহায়দের শেষ ভরসা পাগলা হোটেল

অসহায়দের শেষ ভরসা পাগলা হোটেল


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫


অসহায়দের শেষ ভরসা পাগলা হোটেল

কুড়িগ্রাম: গরীবের মাবতার এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম রন্জু মিয়া রাজু(পাগলা)। ৩৫ বছরের এক তরুন পাগল,প্রতিবন্ধি, ভিক্ষুক, গরীব দুঃখি, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবা ও প্রতি শুক্রবার বিনা টাকায় পেট পুড়ে এক বেলার খাবার দেওয়া তার পাগলামি কাজ। প্রতি শুক্রবার দেড় শত থেকে ২ শত দুস্থ মানুষদের জন্য তার হোটেল ফ্রি।

যারা হাটতে বা চলতে পারেন না তারা রিক্সা বা ভ্যানে করে আসলে সে ভাড়া দেন তিনি। এ সমস্থ মানুষের ফ্রি খাবারের জন্য মাইকিং ও করেন। তার এ মহত উদ্দ্যোগ রিতিমত এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। গরীব হয়ে গরীবের প্রতি তার মানবতায় অবাক এলাকার মানুষ। এ ভাবে শুরু হয় অসহায় মানুষের এক বেলা খাবার দেওয়া রন্জু মিয়ার মানবতার গল্প। মানবিক রন্জু মিয়া আপন মহিমায় নিরবে করে যাচ্ছেন মানব সেবা।
উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রম্মনদী থেকে আধা কিলোমিটার দুরে নিভৃত দ্বিগলহ্যালা গ্রামের গাজীর বাজারে রন্জু মিয়ার বাবা দরিদ্র নজির হোসেন লাবনী হোটেল নামে ব্যবসা শুরু করেন ২০ বছর আগে। রন্জু মিয়া বাবার সাথে ব্যবসায় সহযোগিতা করেন। পরে সে ঢাকা চলে যায় কাজ পান ঢাকা ফুড প্যালেস বাংলা চায়নিচ হোটেলে। রন্জু মিয়াকে হোটেল মালিক সিয়াব হোসেন খুব ভাল বাসত। ওই হোটেল মালিক প্রতি শুক্রবার গরীব দুখি অসহায় দুস্থ মানুষদের বিনা টাকায় খাওয়াতো।

সেখান থেকে তার ইচ্ছা হয় বাড়ী ফিরে সেও তার এলাকার অসহায় মানুষের জন্য এই মহত কাজ করবেন। এই চিন্তা থেকে রন্জু মিয়া ২০২৩ সালে বাড়ী ফিরে এসে বাবার হোটেলের দায়িত্ব নেয়। কিন্ত সে নিজেই দরিদ্র এত টাকা পাবে কোথায় । তার বাড়ী ভিটা ছাড়া কোন সম্পদ নাই। কিন্ত ছোট বেলা থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো ও সহযোগিতা করা ছিল তার অভ্যাস। এত বড় একটি দঃুর্সাসিক কাজ কিভাবে করবে সে চিন্তায় তার ঘুম নেই। কিন্ত অর্থ না থাকলেও সাহস ছিল তার প্রবল।

অর্থের চিন্তায় সাহস পায় না কাজটি শুরু করার। তবে পাগল, প্রতিবন্ধি, ও অসহায় লোকদের টাকা ছাড়াই ২/৪ জনকে খাওয়ানো শুরু করে। এ ভাবে কেটে যায় দু বছর। একদিন বিষয়টি তার স্ত্রী মোছাঃ আছিয়া বেগমকে খুলে বলে যে আমাদের তো সন্তান নাই। তাই সম্পদের প্রয়োজন নাই। তাই আমি চিন্তা করেছি প্রতি শুক্রবার গরীব দুখি অসহায় পাগল, প্রতিবন্ধি মানুষদের বিনা টাকায় এক বেলা খাবার দিব। কিন্ত টাকার অভাবে কাজটি শুরু করতে পারচ্ছি না। স্ত্রী স্বামীর এ কথা শুনে সাহস দিয়ে বলে রান্না আমি করব তুমি পরিবেশন করবে। টাকা যোগাড় করার জন্য একটি মাটির ব্যাংকে প্রতিদিনের রোজগাড় থেকে ৩০০ টাকা ওই ব্যাংককে রাখলে ৬ দিনে ১৮০০ টাকা জমবে তা দিয়ে ফ্রি খাবার ব্যবস্থা হবে।

স্ত্রী আছিয়ার পরামর্শ ও সাহসে ২০২৪ সালে আল্লাহর নামে শুরু করেন। এলাকার মানুষ তার এ পাগলামী দেখে তিরস্কার করে। কিন্তু রন্জু তাতে কান না দিয়ে এগিয়ে যান। পরে এলাকার মানুষ,হোটেলের নাম পরিবর্তন করে, নাম দেন পাগলার হোটেল। ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে তার এ মানবতার কাজটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। এ ভাবে প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অসহায় মানুষদের খাওয়ান তিনি।

শুরুতে ২০জন পরে ৫০ জন পর্যন্ত এক পর্যায়ে অসহায় মানুষ পাগল, প্রতিবন্ধি ,ভিক্ষুক ও দুস্থদের বিনা টাকায় খাওয়ানোর জন্য এলাকায় মাইকিং করেন। তার এ সাহস দেখে এলাকাবসি অবাক হয়ে যান। চাল, ডাল, সবজি ও মুরগীর মাংস দিয়ে খিচরী করে খাওয়ানো হয়। এতে তার খরচ হয় ২০০০ হাজার খেকে ২৫০০ টাকা। বর্তমানে ১৫০ জন থেকে ২০০ জন পর্যন্ত মানুষ দিবি খাচ্ছেন। এলাকাবাসি তার এ কাজকে প্রথমে পাগলামী বললেও এখন তারা মহত কাজের জন্য তার প্রসংসায় পঞ্চমুখ।

তবে অন্য হোটেল ব্যবসায়ীরা তার জন্য ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছেন বলে নানা ভাবে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন বলে জানান রন্জু মিয়া। তবে সে কোন কিছুতে ভয় পান না মানুষের দোয়া আছে বলে জানান। তার ইচ্ছা যতদিন বাচবেন এ কাজ চালিয়ে যাবেন। নিজের সম্পদ থাকলে আরো বড় পরিসরে,উন্নত মানের খাবার দিতে পারতাম। তবে কিছু কিছু মানুষের সহযোগিতা পাচ্ছি। অনেক দুর দুরন্ত থেকে মানুষ দেখতে আসে।

মিডিয়ার সাংবাদিকরা আসে ফেস বুকে দিয়ে তারা আমাকে উৎসাহ দেন। রন্জু মিয়ার এ উদ্দ্যোগ ধীরে ধীরে এলাকাবাসির মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে জেলা ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে পাগলা হোটেলের নাম। রন্জু মিয়া বলেন, এ কাজ করে আমি আনন্দ পাই। তিনি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। গরীব মানুষ হজ করতে পারব না। এ কাজের মধ্যে হজের মহত্ব আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি টেবিলে পাগল, অন্ধ, প্রতিবন্ধি ও দুস্থ নারী পুরুষরা খাচ্ছেন। পরিবেশন করছেন মালিক রন্জু মিয়া নিজে। বাইরে দাড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছেন অনেক মানুষ। কথা হয় প্রতিবন্ধি মো. ফজলুল হক(৫৫), মানুষিক ভারসাম্যহীন ফুলবালা,অন্ধ মানিক মিয়া(৪৫),সবুর মিয়া,আমিনা বেগম বলেন, গ্যারামে অনেক বড় লোক মানুষ হজ করছে। হেরা দান করে না। রন্জু ভাই গরীব মানুষ আমাগো অন্য দিয়া হজের কাজ করছে। শুক্রবার করি আসি শান্তি করি প্যাট ভরি খিচরী খাই। আর দোয়া করি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৯:৩১   ১৩২ বার পঠিত  |      







রংপুর থেকে আরও...


অভিযোগ ধামাচাপা দিতে পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দৌড়ঝাঁপ
পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
অবৈধ সার ব‍্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
রমজানে পীরগঞ্জে বাজার বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
উলিপুরে সাংবাদিকদের সাথে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর মতবিনিময়



আর্কাইভ