ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি! ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস সাধু বাবার আস্তানায় ধর্ষণের শিকার নারী টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন খোকন কলাপাড়ায় সৌদিপ্রবাসী নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » অধ্যক্ষ কলেজে আসেন না ৮ বছর,তবুও পান বেতন ভাতা

অধ্যক্ষ কলেজে আসেন না ৮ বছর,তবুও পান বেতন ভাতা


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬


 অধ্যক্ষ কলেজে আসেন না ৮ বছর,তবুও পান বেতন ভাতা

কুড়িগ্রাম: বেলা তখন ঠিক ১২.৩৫ মিনিট। কলেজে সুনসান নীরবতা। শ্রেনীকক্ষ বা মাঠে নেই শিক্ষার্থীদের কোলাহল। নেই কোন শিক্ষক, পিয়ন,আয়া। শুধু অফিস সহকারী তার কক্ষে বসে খাতা পত্রের কাজ করছেন, তার পাশে বসা একজন প্রভাসক। তয় তালায় ৭জন স্কুল শিক্ষার্থী বসে গল্প করছে। অধ্যক্ষের কক্ষে ঝুলছে তালা ।

সাংবাদিকের আগমনের খবর টের পেয়ে কয়েকজন শিক্ষক অর্ধেক রাস্তা থেকে ফিরে আসেন। গত সোমবার ১৬ ফেব্রয়ারী উপজেলার কৃষ্ণমঙ্গল স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেল এমন চিত্র। পর দিন মঙ্গলবার ও বুধবার প্রতিষ্টানে গিয়ে মেলে একই চিত্র।
এলাকাবাসি ও অবিভাবকদের অভিযোগ কয়েক বছর ধরে অধ্যক্ষ প্রতিষ্টানে আসে না। কিন্ত বিল ভাতা পাচ্ছেন কি ভাবে। তার অনুপস্থিতির সুযোগে শিক্ষকরা আসে হাজিরা খাতা স্বাক্ষর করে চলে যান। কোন ক্লাস হয়না। জাতীয় সংগীত ও পতাকা উঠে না। এমন অবস্থার কারনে বাধ্য হয়ে স্থানীয় অবিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের অন্য প্রতিষ্টানে ভর্ত্তি করে দিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিষ্টানটি প্রায় শিক্ষার্থী শুন্য।

জানা গেছে,অধ্যক্ষের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও অনিয়ম দুর্নীতির বিচার ও তার অপসারনের দাবীতে গত ১০ সেপ্টেম্বর এলাকার ছাত্র জনতা বিক্ষেভ ও মানব বন্ধন করে উপজেলা নির্বাাহী অফিসার বরাবর স্বারক লিপি প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ মাধ্যমিক কর্মকর্তা তদন্ত করে অধ্যক্ষের দীর্ঘ ৭ বছর প্রতিষ্টানে অনুপস্থিতি ও ব্যাপক অনিময়,দুর্নীতির সত্যতা পান মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে ম্যানেজিং কমিটি গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অধ্যক্ষ মো. মাহমুদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব চান। অধ্যক্ষ এই বরখাস্তের বিরুদ্ধে হাইকোটে রিট করলে হাইকোট তার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২ জুন ২০২৫ সালে বরখাস্ত প্রত্যাহার করে বিল ভাতা প্রদান করেন। বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে । অফিস সহকারী হারুনুর রশিদ হাজিরা খাতা দেখিয়ে বলেন,অধ্যক্ষ দীর্ঘ ৮ বছর ধরে প্রতিষ্টানে অনুপস্থিত। তার সাথে কোন যোগাযোগ নাই। শিক্ষার্থীরাও আসে না। ক্লাসও হয় না। শিক্ষকরা আসেন আর চলে যান। কলেজ ও স্কুল মিলে শিক্ষক কর্মচারী ৪৫ জন।

শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষে ১১ জন ও দ্বিতীয় বর্ষে ৩০ জন। মাধ্যমিকে ৪১ জন। সর্ব মোট ৮২ জন। শুধূ স্কুলের শিক্ষাথী আসে ১০/১২ জন। অচল অবস্থার জন্য অধিকাংশ শিক্ষাথী অন্য প্রতিষ্টানে চলে গেছে বলে স্বীকার করেন। কিন্ত তার করার কিছু নাই। প্রতিষ্টানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অনুসন্ধানে কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী খুজে পাওয়া যায়নি।
প্রভাষক নজরুল ইসলাম বলেন,শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আসে না। তাই ক্লাসও হয় না। শিক্ষকরা আসে কিন্ত শিক্ষার্থী না থাকায় ক্লাস হয় না। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা আসে। দীর্ঘ দিন ধরে এ অবস্থা চলছে।গত ২৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৫ জন।

শিক্ষার্থী রিনা আক্তার বলেন,কলেজে গিয়ে কি লাভ কোন ক্লাস হয় না। তাই কলেজ যাওয়াই বাদ দিছি। আমার অনেক বান্ধুরীর বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ অন্য কলেজে ভর্ত্তি হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহজাবীন আক্তার বলেন, কলেজের বেহাল অবস্থার কারনে আমার লেখা পড়া বন্ধ তাই বাবা মা বিয়ে দিয়েছে। আমার বাবা গরীব মানুষ বাইরের কলেজে পড়াতে পারবে না বলে বাড়ীর কাছের কলেজে ভর্ত্তি করে দিয়েছিল। কিন্ত কি করব কপাল খারাপ কলেজের অচল অবস্থার কারনে লেখা পড়া বন্ধ হয়ে গেল। ৬ষ্ট শ্রেনীর শিক্ষার্থী মো. রাব্বি মিয়া বলেন,গরীব মানুষ বলে এ স্কুলে ভর্ত্তি হয়েছি। প্রতি দিন আসি ক্লাস হয় না। স্যারদের ডেকে ক্লাস করতে হয়। একই অভিযোগ নাদিয়া আক্তার, মিম আক্তার, ইসমাইল হোসেন ও পার্থ কুমারের।

স্থানীয় বাসিন্দা মহুবর রহমান ক্ষোভের সাথে বলেন,অধ্যক্ষ আসে না ছাত্র ছাত্রী আসে না। জাতীয় সংগীত হয় না, পতাকা তোলে না । কিভাবে চলে আমরা বুঝি না। এ কারনে আমার ছেলেকে অন্য স্কুলে ভর্ত্তি করে দিয়েছি।

সাবেক শিক্ষক মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, গ্রামের দরিদ্র ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করার জন্য এলাকার মানুষ অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্টাটি করেছে। কিন্ত অধ্যক্ষের জন্য প্রতিষ্টানটি ধবংস হয়ে গেল। অধ্যক্ষ অনেককে চাকুরী দেয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন তাদের ভয়ে আসেন না।

চাকুরীর জন্য টাকা দিয়ে প্রত্যারিত হয়েছেন স্থানীয় আমিনুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে বলেন, টাকাও দিয়েও চাকুরী পেলাম না। এখন চাকুরীর বয়সও শেষ । টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। অধ্যক্ষের দেখা পেলে বেধে টাকা আদায় করব। টাকা দিয়েও চাকুরী পাননি শাহজাহান আলী সহ ২জন টাকা আদায়ের জন্য কোটে মামলা করেছেন বলে জানান।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো.আব্দুল ওয়াহিদ বলেন,আমি যোগদান করার পর এমন কোন ।ভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিষ্টান ১০ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত চলবে। এর কোন ব্যত্যয় ঘটলে সেটা অনিয়ম বলে জানান।
কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.হায়দার আলী বলেন,আমি সভাপতি হওয়ার পর অধ্যক্ষকে কলেজে বসিয়ে দিয়েছি। তার কাছে অনেকে টাকা পাবে এ ভয়ে সে যেতে পারে না। তবে আমি উদ্দ্যোগ নিয়ে অনেকের পাওয়া টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। বর্তমানে সে এক মাসের মেডিকেল ছুটিতে রয়েছে।
অধ্যক্ষ মো. মাহমুদ হাসানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি আপনাকে পরে ফোন দিব বলে ফোন কেটে দেন। তার পর তার বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন,ওই কলেজের ব্যাপারে আমার কাছে কোন অভিযোগ নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব কোন ব্যতয় পেলে উর্দ্ধতন কতৃর্পক্ষে জানাব।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১:০৪:১৬   ৯৯ বার পঠিত  |      







রংপুর থেকে আরও...


উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা
আগুন-লোহার টুংটাং শব্দে মুখর চারপাশ,দম ফেলানো সময় নেই কামারশালয়
নীলফামারীর খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ
রাজারহাটে জাতীয় বিজ্ঞান- প্রযুক্তি সপ্তাহ
উলিপুরের ক্ষীরমোহন এখন দেশ ছেড়ে বিদেশে



আর্কাইভ