ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: গেলবার আলুর আবাদ কইরা দাম না পায়া হামরা সর্বশান্ত হইছি। এবার লাভের আশায় আলু না কইরা ৩ একর জমিতে ভুট্টার আবাদ করছি। অহন তরি আবাদ ভালা হইছে দেহা(দেখা) যায়, আল্লাহ ভালা ফলন দিলে গেলবারের ক্ষতি পোষাইবো বলে আশা করছি। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন,জোয়ান সেতরা চরের কৃষক ওসমান গনি(৫৫)।
ইন্দুর মারা চরের কৃষক বাদশা মিয়া(৬১) বলেন, আমাগো চরের চাষীরা বেশীর ভাগই আলুর আবাদ করতো।
কয়েক বছর থাইকা আলুর চাষ করি পানিত পড়া দামের লোকসান করি আলু বেচে অনেক সর্বশান্ত হইছি।গলায় ঝুলছে ঋনের বোঝা । তাই হাওলাত বরাত করি এবার ৬ একর জমিতে আগাম ভুট্টার আবাদ করছি। ফলন ভালা হইছে,আশা করি লোকসান পুষিয়ে লাভ হবে। ভুট্টার দাম ভালো, চাহিদাও আছে। ভুট্রা চাষ করলে গরুর খাদ্য ও সারা বছরের খড়ির চিন্তা থাহে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় জেগে উঠেছে নুতন নুতন চর, দ্বীপচর সহ আলুর আবাদ খ্যাত তিস্তা চরে এবার আগাম ভুট্টা আবাদের আধিক্ষ। আলু চাষ করে দাম না পেয়ে কয়েক বছরে কৃষকরা সর্বশান্ত হয়েছে। হয়েছে ঋণ গ্রস্থ। সেই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এবার আলুর চাষ না করে লাভের আশায় ভুট্টার চাষ করেছে। তিস্তার অববাহিকার জোয়ান সেতরার চর, ইন্দুর মারার চর, রামনিয়াশার চর, গোড়াই পিয়ার চর, পানিয়ালের চর, হাকডাঙ্গার চর ও দড়ি কিশোরপুর চরের দিগন্ত জুড়ে ভুট্টার আবাদ। সেদিকে চোখ যায় সবুজ ভট্টার ক্ষেত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলন ভাল হওয়ার সম্ভবনায় স্বপ্ন বুনছেন চরের কৃষকরা।
কৃষকরা জানান,ফলন ভালো, বাজার মুল্য ও ভালো, চাহিদাও বেশী। তাছাড়া গো খাদ্য ও ভুট্টার গাছ গুলো সারা বছর জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। আগাম ভুট্টা চাষ করে ওই জমিতে আবার ধান চাষ করা যায় বলে চরের কৃষকরা ভুট্টা চাষে বেশী আগ্রহী। এ সমস্ত চরের প্রায় ৩ শতাধিক হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।
জোয়ান সেতরা চরের নুর ইসলাম নিজের জমিসহ অন্যের জমি ২০০ টাকা শতক হিসাবে ভাড়া নিয়ে ৩০ একর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে আগাম ভুট্টার চাষ করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। ৩০ একর জমিতে ভুট্টার আবাদ করতে ঘরে উঠা পর্যন্ত তার খরচ হবে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা। ফনল হবে সাড়ে ৪ হাজার মন। যার বর্ত্তমান বাজার মুল্য প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। মজুত রেখে বিক্রি করতে পারলে আরো বেশী দামে বিক্রি করা যাবে বলে তার আশা।
চরের ভুট্টা চাষীদের মধ্যে মমিনা বেগম,রাশেদুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম, সামছুল হক,মনজুরুল ইসলাম বলেন, আলু চাষে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি,সেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের আশায় আগাম ভুট্টার চাষ করেছি। যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে বাম্পার ফলনের আশা করছি। তবে বীজ, সার ও বালাই নাশক ঔষধের দাম সহনীয় ও সরকারী ভাবে স্বল্প সুদে ঋনের দেয়া এবং সহযোগিতা পেলে ভুট্রা চাষে আরো বেশী আগ্রহী হত বলে জানান চরের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়,চলতি মোসুমে ভুট্টা চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৯১০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৯০০ হেক্টর। উৎপাদন হবে ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। যার বাজার মুল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এছাড়া খরচ কম, বেশী ফলন এবং বিক্রির সুবিধা থাকায় চরের কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুকছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন,চরের কৃষকরা খুব পরিশ্রমি। অল্প খরচে অধিক ভ্ট্টুার ফলনে তারা খুশি। চর গুলোতে বাদামসহ তৈলজাত ফসল করে বেশ লাভবান হচ্ছে। আমরাও অর্থকরি ফসল উৎপাদনে বেশী উৎসাহীত করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সিংহ ভাগ আবাদ হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চলে। কৃষকদের সময় মত কৃষি উপকরন ও পরামর্শ দেয়ায় গতবারের তুৃলনায় এবার দ্বিগুন ভুট্টার চাষ হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০১:৫২ ৮৮ বার পঠিত | ● আলু চাষ ● উলিপুর ● ছেড়ে ভুট্টা চাষ