ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
হবিগঞ্জ: নবীগঞ্জের নোয়াপাড়া গ্রামে সুদের টাকা নিয়ে সংঘটিত সংঘর্ষে নিহত সিয়াম আহমদ হত্যাকান্ডের ঘটনার ৬ দিন পর ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পিতা আব্দুল ওয়াহিদ। এরমধ্যে ১১ জন মহিলাকে আসামী করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উক্ত মামলাটি নবীগঞ্জ থানায় রুজু হয়। এতে দেখা যায় ৫/৭ জন নিরাপরাধ লোকজনকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা নিহত সিয়াম আহমদের প্রকৃত হত্যাকারীদের শাস্তি দাবীর পাশপাশি নিরাপরাধ লোকদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবী জানিয়েছেন। এছাড়া উক্ত মামলা দায়েরের পুর্বে একদল কুচক্রি মহল বিভিন্ন ধর্ণাঢ্য লোকদের কাছে চাদাঁ দাবী করেছিলেন। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত অপরাধীরাও মামলার আসামী হয়নি। এমন গুঞ্জন চলছে এলাকা ব্যাপী। এ হত্যা মামলায় নিরপরাধকে আসামি করার প্রতিবাদে আগামীকাল (১২ এপ্রিল) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, নবীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া গ্রামের সুদখোর জমির উদ্দিন ওরপে চড়া মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম একই গ্রামের ওয়াহিদের ছেলে সিয়াম আহমদকে ১০ হাজার টাকা সুদে দেয়। ওই টাকাকে কেন্দ্র করে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নাজমা বেগম, তার ছেলেরাসহ সিয়াম আহমদ এর উপর ও তার বাড়ীতে হামলা করে। এতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের অনন্ত ১০ আহত হয়। সংঘর্ষের ঘটনার ১ দিন পর আহত সিয়াম আহমদ ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বেলা ২ ঘটিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটে মৃত্যু বরণ করে। ৮ এপ্রিল বিকালে জানাযার নামাজ শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতের পরিবার মামলা দিতে গড়িমশি করলেও পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জাহাঙ্গীর মিয়া নামে এক যুবক’কে ১ দিনের মাথায় গ্রেফতার করেন। ১০ এপ্রিল রাতে নবীগঞ্জ থানায় ১১ জন মহিলাসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ্য করে ৮/১০গং রেখে একটি মামলা নবীগঞ্জ থানায় দায়ের করেন। মামলাটি শনিবার দুপুরে এজাহার হিসেবে রুজু করেন থানা পুলিশ। এতে দেখা যায় বিএনপি নেতা ও শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া, তার ছোট ভাই পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ইসলাম উদ্দিনসহ ৫/৭ জন নিরাপরাধ বিএনপি, যুবদলের নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। এর আগে বাদীর পক্ষে জনৈক ব্যক্তি মাসুক মিয়াকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ২ লাখ টাকা চাদাঁ দাবী করা হয়। তিনি দিতে অনিহা প্রকাশ করায় তাকে ও তার ভাইকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে উক্ত মামলায় নিরাপরাধ মাসুক মিয়াসহ ৫/৭ জন লোককে আসামী করায় নোয়াপাড়া গ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গ্রামবাসী জানান, আমরা যে ভাবে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই, টিক তেমনি ভাবে নিরাপরাধ লোকদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দাবী করছি। এছাড়া মামলার ২৭ নং আসামী আসামী আজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে চট্রগ্রামে গার্মেন্সকর্মী হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার দিনও সে চট্রগ্রাম ছিল। তাকেও আসামী করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, ঘটনার সাথে জড়িত ছিল প্রায় ১০/১২ জন। কিন্তু স্থানীয় কিছু দালাল অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে নিরাপরাধীদের আসামী ও অপরাধীদের আসামী দেয়া থেকে বাদ দেয়ার বিস্তুর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিহত সিয়াম আহমদ ছিল ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারী ছিল বলে জানান গ্রামবাসী। ওই ইয়াবা ব্যবসার জন্যই সুদে ১০ হাজার টাকা আনেন নাজমা বেগমের কাছ থেকে সিয়াম। এই টাকা নিয়েই সংঘর্ষের ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৩০:৩৯ ৮৪ বার পঠিত | ● নবীগঞ্জ ● মামলা ● সিয়াম হত্যা