ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: গ্যালোবার নদী ভাঙ্গনে বাড়ীটা ভাসি নিয়া গেল। সেই শোকে মোর স্বামীর ব্রেন ষ্টক করিল। সেই থাকি বিছানায় পড়ি আছে। মানষের জাগাত ঘর তুলি আছি। নদী বাঁধবো মাফযোগ করি নিয়া গেল। নদী বাঁধলে ওই ২ শতক জাগাত ঘরটা তুলি থাকমো। এ্যলা শুনি কাজ হবার নয়। সেটাও বুঝি আর হবার নয়। আল্লাহ কি হামার গুলার প্রতি দয়া করবার নয়। এভাবে বিলাপ করতে করতে কথা গুলো বলছিলেন, পশ্চিম বজরা মসজিদের ঈমাম মৌলভী আব্দুল খালেকের স্ত্রী মোছাঃ জরিনা বেগম।
ওই গ্রামের নদীর তীরের বাসিন্দা মো. নুরুল আলম(৬০)বলেন,গতবার অল্পের জন্যে বাড়ীটা বাচি গেল । এবার বুঝি আর রক্ষা হবার নয়।এ্যলায় যে নদীর ভাব গতি দেখি তাতে সে আশা নাই। নদী বাঁধার কথা শুনি নুতন করে স্বপ্ন দেখছিলাম। কাজটা না হওয়ায় সে স্বপ্ন ভেঙ্গে গেইছে। বাড়ী ভিটাটুকু ছাড়া কোন জাগা জমি নাই। বউ বাচ্চা নিয়া কোথায় যাবেন সে চিন্তায় দিশেহারা তিনি। শুধু জরিনা বেগম ও নরুল আলম নয়,ফরিদুল ইসলাম, রহিজল হক, নুর আলম, আম্বিয়া বেওয়া সবার একই কথা নদী বাঁধার কাজ দেখে সবাই আশায় বেচে থাকার স্বপ্ন বুৃনছিলেন। কিন্ত সে স্বপ্ন,স্বপ্নই থাকি যাবে বলে সবাই দুচির্ন্তায় পড়েছেন। ভাঙ্গন আতংকে ৪ গ্রামের মানুষের একটাই দাবী সরকার নদী বাঁধার টাকা দিল উজানে ও ভাটিতে কাজ হইল মধ্য খানের কাজ হচ্ছে না। যেখানে কাজ হয়েছে সে এলাকার মানুষ খুশিতে আত্মহারা। আর যে খানে কাজ হয়নি,সে এলাকার মানুষের বুক ফাটা আত্মনাদ আর আহাজারী। এ ধরনের হাসি কান্নার চিত্র তিস্তা পাড়ের বিরাজ করছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম বন্যা নিয়ন্ত্রন ও নিস্কাশন প্রকল্প (দক্ষিন ইউনিট) এর আওতায় থেতরাই ও বজরা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বামতীর ভাঙ্গনরোধে পুর্বসর্ত্তকতামুলক প্রকল্পের প্রথম ফেজে ৩কিলোমিটার, ১৩টি প্যাকেজ বরাদ্ধ ২০ কোটি টাকা ও দ্বিতীয় ফেজে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ৬টি প্যাকেজ বরাদ্ধ ১৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজ শুরু হয় । কাজের মেয়াদ ছিল ১৮/০৬/২৫ইং। নদী পানি বৃদ্ধির কারনে কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে ঠিকাদারা আবেদন করে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। নিদির্ষ্ট মেয়াদের মধ্যে সব কাজ প্রায় শেষ হলেও ওই ৩টি প্যাকেজের কাজ শুরুই হয়নি। ফলে বরাদ্ধকৃত সাড়ে ৫ কোটি টাকা ফেরত যাবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল সরোজমিনে পশ্চিম বজরা গ্রমে গিয়ে দেখা যায়, পাঁকা রাস্তা মাথায় তিস্তার বামতীর ভাঙ্গনরোধে পুর্বসর্ত্তৃকতামুলক কাজের (৩০০ মিটার) নদীর পাড়ের শুধূ স্লোপ কাটিং করে ঠিকাদার চলে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীচের জিও ব্যাগ ১৮ ফিট ডাম্পিং করা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। তাদের অভিযোগ নদীর এই এলাকাটি অনেক গভীর ও ভাঙ্গন প্রবন। গতবার এই স্থানে নদী ভাঙ্গনে ২টি গ্রামের ৫০টি পরিবারের বাড়ী ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্টান নদীতে বিলিন হয় এবং একটি নৌকা ডুবে একই পরিবারের ৭জনের মৃত্য হয়। খোজ নিয়ে জানা গেছে পশ্চিম বজরা এলাকার ৩০০ মিটার, ৩০০ মিটার করে ২টি প্যাকেজ এবং থেতরাই হোকডাঙ্গা এলাকায় ২০০ মিটার একটিসহ ৩ টি প্যাকেজের কাজ শুরু হয়নি। যে ভাবে নদীতে পানি বাড়ছে তিস্তা পাড়ের মানুষের ভাঙ্গন আতংক ততই বাড়ছে। এ ৩টি প্যাকেজের কাজ ঠিকাদার হাসিবুল হাসানের নামে হলেও হাত বদল হয়ে রাজনৈতিক ঠিকাদারদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নদীতে পানি যে ভাবে বাড়ছে তাতে করে এ সব প্যাকেজের কাজ নয় ছয় করে চলে যাওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি এনামুল হক।
পশ্চিম বজরা পাঁকার মাথা ৩০০ প্যাকেজের মুল ঠিকাদার হাসিবুল হাসানের হলেও হাত বদল হয়ে কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন রজব আলী নামের জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি জানান,আমি অসুস্থ ছিলাম তাই কাজ করতে পারিনি তবে ২/৪ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার হাসিবুল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের কাজ গুলো হাত বদল হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, কাজ গুলো শুরু ও শেষ করার জন্য জোড় চেষ্টা ও চাপ দেয়া হচ্ছে। তবে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ওই তিনটি কাজের নীচের জিও বালুর বস্তা ডাম্পিং করা হয়েছে। বাকী কাজও দ্রুত শেষ করার কথা জানান। স্থানীয় রাজনৈতিক চাপে কাজ গুলো তাকে দেয়া হয়েছে বলে জানান। কাজ না হলে টাকা ফেরত যাবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫০:৩৬ ৭০ বার পঠিত | ● আতংক ● উলিপুর ● তিস্তা পাড় ● মানুষ