ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
শিরোনাম
ভোলা: লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ও ধলীগৌরনগর, তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ও সোনাপুর ইউনিয়নের মানুষ মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে আসছে। নদীভাঙনের ফলে উপজেলার মূল ভূখণ্ড ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
লালমোহন ও তজুমদ্দিনবাসীকে এ দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে ১ হাজার ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে “ভোলা জেলার এবং তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলায় উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পের আওতায় উপজেলা দু’টিতে ৭ টি স্লুইস গেট, নৌ চলাচলের জন্য ২ টা বোটপাস এবং নৌকা রাখার জন্য ৯ টা হার্বার স্থাপন ও নদী তীরে জিওব্যাগ এবং জিওটিউবের মাধ্যমে তীর সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা লালমোহন ও তজুমদ্দিন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। দক্ষিণাঞ্চলের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর ৩৫ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে একটি দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের মূল ডিপিপিতেও এ কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং সে অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ব্যয় সাশ্রয়ের যুক্তিতে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের কাজ স্থগিত করা হলে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লালমোহন ও তজুমদ্দিনবাসীর দাবি, বেড়িবাঁধে কার্পেটিং করা হলে তা শুধু বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, বরং জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর অব: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়ে অনুমোদিত নকশা ও ডিপিপি অনুযায়ী কার্পেটিং, সোলার লাইট এবং রিভার অবজার্ভেটিভ রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত চার সদস্যের একটি কমিটি গত ২০ জুন লালমোহন ও তজুমদ্দিন পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ কার্পেটিংসহ মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, একনেক সভায় অনুমোদিত এবং প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত কার্পেটিং কাজ বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই সরকারের কাছে এলাকাবাসীর একটাই দাবি—লালমোহন ও তজুমদ্দিনের উন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে বেড়িবাঁধে কার্পেটিং সড়ক, সোলার লাইট ও অন্যান্য সুবিধা বহাল রেখে দ্রুত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হোক।
লালমোহন ও তজুমদ্দিনবাসীর বিশ্বাস, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপজেলা দু’টির যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে অধিক সুরক্ষা পাবে, তেমনি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হবে। বাস্তবায়িত হবে বহুদিনের প্রত্যাশিত ‘লালমোহন ও তজুমদ্দিন মেরিন ড্রাইভ’-এর স্বপ্ন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৬:৪৬ ৩ বার পঠিত | ● ডিপিপি ● লালমোহন