ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ময়মনসিংহ: ঈশ্বরগঞ্জে অনাবাদি জমিতে হাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন স্বপন মিয়া (৩৮), তাঁর মা রাশিদা বেগম (৬৩) এবং আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিয়া আক্তার (৩৩)। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন এবং তাঁর শাশুড়ির গলা থেকে রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নিজ পুবাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ ঘটনায় স্বপনের বাবা মো. সিরাজুল হক (৬৮) একই গ্রামের মৃত পিয়ার বক্সের ছেলে মো. মোশারফ হোসেন (৫০) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শিমুল মিয়া (২৫) ও মো. বাবু মিয়ার (২৭) বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের একটি অনাবাদি জমিতে সিরাজুল হকের পরিবারের পালিত হাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোশারফ হোসেন ও তাঁর দুই ছেলে সুইচগিয়ার চাকু, দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সিরাজুল হকের বসতবাড়ির উঠানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁরা গালিগালাজ শুরু করেন। এতে বাধা দিলে মোশারফের নির্দেশে শিমুল তাঁর হাতে থাকা সুইচগিয়ার দিয়ে স্বপনের মাথার দুই পাশে পরপর দুটি আঘাত করেন। অন্য অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে স্বপনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
স্বপনের চিৎকার শুনে তাঁর মা রাশিদা বেগম ও আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিয়া আক্তার এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজুল হক।
গৃহবধূ সাবিয়া আক্তার বলেন, হামলার সময় তাঁর গলা থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং শাশুড়ি রাশিদা বেগমের গলা থেকে প্রায় ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্বর্ণের চেইন উদ্ধারের চেষ্টা করলে শিমুল তাঁকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তাঁর ছেলে শিমুল মোটরসাইকেলে মাজার বাজারে যাওয়ার সময় ধানখেতের পাশের পুকুরে প্রতিপক্ষের হাঁস নেমে মাছ খেয়ে ফেলছিল। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করায় প্রতিপক্ষের লোকজন শিমুলকে আটকে মারধর করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘নিজ পুবাইল গ্রামের একটি ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৪:৩১ ২ বার পঠিত | ● অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত ● ঈশ্বরগঞ্জে হামলা ● নিজ পুবাইল গ্রাম ● হাঁস নিয়ে বিরোধ