ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: নোয়াখালী জেলা কমিটি ঘোষণা ও নব গঠিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানানো উপলক্ষ্যে তমরদ্দি বাজারে শান্তিপূর্ণ মিছিলে রবিবার রাতে হঠাৎ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন (৪৫) মোহাম্মদ আবদুল জলিল (৫০) মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন (৪০) মোহাম্মদ আলী(৪৭) মোহাম্মদ ভূটো (৪০) । খবর পেয়ে উপজেলা সদর ওছখালী থেকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। এঘটনার জন্য তমরদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির অপর গ্রুপকে দায়ী করছে আহত গ্রুপের সদস্যরা। তার সাথে সাথে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি কঠোর ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
জানাযায় গতকাল রবিবার নোয়াখালী জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করায় তমরদ্দি বাজারে এক বিশাল আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন তমরদ্দি ইউনিয়ন সিনিয়র নেতা আলমগীর কবির, নিজাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরী।
স্থানীয় ইউনিয়ন সভাপতি ও তাদের অনুসারীদের নেতারা কর্মী উপস্থিতি কম হওয়ায় আনন্দ মিছিল করতে পারেনি। আলমগীর গ্রুপের মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার পথে থাকলেও হঠাৎ করেই এক অপত্যাশীত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনায় আহতদের সূত্রে জানা যায়,মিছিলটি তমরদ্দি বাজারের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় তমরদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দারের বাসা থেকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী মাথায় হেলমেট ও হাতে বগি-দা নিয়ে মিছিলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনকে গুরুতরভাবে আহত করে। ঘটনাস্থলেই রক্তের দাগ ও উত্তেজনার চিহ্ন ছড়িয়ে পড়ে যা স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় এক প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের দাবি
নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট এ ঘটনায় জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে,তমরদ্দি ইউনিয়ন সভাপতি তানভীর হায়দারের সরাসরি মদদে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি এই হামলা চালিয়েছে, যা রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন তারা। এ প্রসঙ্গে তাদের
কঠোর দাবিসমূহ হলো:(১) তানভীর হায়দারকে দলীয় ও প্রশাসনিকভাবে তাত্ক্ষণিক বহিষ্কার করা।(২)হামলাকারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের কঠোর আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। (৩) ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান। (৪)ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের প্রকৃত নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
এলাকাবাসী ও বিএনপি সমর্থকরা জোরালোভাবে জানিয়েছেন, তারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা চান—কোনো বিশৃঙ্খলা নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই হোক, সন্ত্রাস ও হিংসার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দমন করার চেষ্টা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন। এ ঘটনায় আহতদের নিকট আত্মীয় স্বজনদের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানাযায়।
এব্যাপারে অভিযুক্ত তানভীর হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। আমি ইউনিয়ন বি এন পির সভাপতি আমি কেন বিএনপির মিছিলে হামলা করব।
হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজমল হুদা বলেন, মিছিলে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৩:৫৭ ৩২৬ বার পঠিত | ● কমিটি ● নতুন ● বিএনপি ● হাতিয়া