ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
গাজীপুর: সুদ ও ঘুষ খাওয়া হারাম বলে জুম্মা নামাজের পূর্বে হুজুরের বয়ান নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো নিয়ে গেলে সেখানে এক পক্ষের হয়ে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন প্রিন্স প্রতিপক্ষকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে। হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের মারধর, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সরকারি কাজে বাঁধা সৃষ্টি করার অপরাধে ছাত্রদলের নেতাসহ ৬ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেন। এই সংক্রান্তবিষয়ে উভয় পক্ষ কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে হাসপাতালে ত্রাস সৃষ্টি করায় পুলিশের এস আই মিলন মিয়া বাদী হয়ে ৬ জনের নামে পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (১৫ মার্চ) ইফতারের আগে কালিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড বালীগাঁও উত্তরপাড়া এলাকায় সুদ ও ঘুষ খাওয়া হারাম বলে মসজিদে হুজুরের বয়ান নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
এই ঘটনায় বিএনপির প্রবীন নেতা হরমুজ আলীর তিন ছেলে জাহাঙ্গীর আলম খোকন, মোহাম্মদ সোহেল ও মোহাম্মদ সুমন গুরুতর আহত হলে স্থানীয় ও আত্মীয়স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে যায়। অপর পক্ষ আহত ওয়ার্ডবিএনপির সহ-সভাপতি মো.গোলজার হোসেন, তার ভাই মোক্তার হোসেন, হাবিবুল্লাহ, বাদু মিয়া ও মো.শামীম তাদেরও হাসপাতালে নেয়া হয়। তখন বিএনপির নেতা গোলজার হোসেন হাসপাতালে প্রতিপক্ষের লোকজনের মধ্যে মোহাম্মদ সুমন কে সেখানে মারধর করে।
এদিকে ছাত্রদলের কর্মী রিয়াদ হোসেন তার বাবা মোহাম্মদ সোহেলকে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করেছে বলে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন প্রিন্সকে বিষয়টি জানায়। এরপর ছাত্রনেতা প্রিন্স তার দলবল নিয়ে হাসপাতাল গিয়ে আহত রোগীদে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকে।
পরে রাতে বিএনপির নেতা গোলজার হোসেন ৭ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের করেন। অপর পক্ষের জাহাঙ্গীর আলম খোকন বাদী হয়ে ১১ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে রোববার ভোররাতে আহতদের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই ছাত্রদল নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে সকালে থানা ঘেরাও করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা প্রায় দুই ঘন্টা থানার ফটকে অবস্থান করে।
আটককৃতরা হলেন- কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন প্রিন্স (২২), ছাত্রদলের কর্মী রিদয় (২৪), চয়ন (১৬) আরাফাত (২০) ও সিহান (১৮) ও তারিকুল ইসলাম।
ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো.গোলজার হোসেন বলেন, পূর্বশক্রতার জেরে জাহাঙ্গীর ও তার ভাইয়েরা আমাকে একা পেয়ে মারধর করে । পরে আমাকে আমার আত্মীয়স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে গেলে সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে তারা পুনরায় মার খাওয়ায়।
অপরপক্ষের আহত জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন, গোলজার হোসেন ও তার ভাই এবং তাদের আত্মীয়স্বজন মিলে আমার দোকানের সামনে মারধর করে। এই খবর পেয়ে বাড়ি থেকে আমার ছোট দুই ভাই আসলে তাদেরও তারা মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে সেখানেও গোলজার আমার ছোট ভাই সুমনকে মারধর করে।
কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম প্রধান বলেন, অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদল নেতা হাসপাতালে তার বন্ধুর বাবাকে দেখতে গিয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে ভেতরে সংঘর্ষে তার জড়িত থাকার পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও দলীয়ভাবে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। হাসপাতালে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘মসজিদে সুদ ও ঘুষ খাওয়া হারাম সংক্রান্ত বয়ানকে কেন্দ্রকরে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে ১৪/১৫ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত রোগীদের মারধর করার অপরাধে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দুপুরে গাজীপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৫:০৯ ১৩৮ বার পঠিত | ● কালীগঞ্জ ● গাজীপুর ● গ্রেপ্তার ● ঘেরাও ● থানা ● সংর্ঘষ