ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: পাইকগাছার সফল চিংড়ি চাষী ও উদ্যোক্তা গোলাম কিবরিয়া রিপন নিজের প্রচেষ্টায় তৈরি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির পেছনে না ছুটে ব্যবসার প্রতি মনোনিবেশ করেন তিনি। তার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু হয় বাগদা চিংড়ির পোনা বিক্রির মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে তাকে চিংড়ি চাষের দিকে নিয়ে যায়। অক্লান্ত পরিশ্রম ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি চিংড়ি চাষে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেন।
বর্তমানে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় তার প্রায় ২ হাজার বিঘার ৬টি চিংড়ি ঘের রয়েছে। তার সফলতা তাকে এনে দিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও সম্মাননা। চিংড়ি চাষ ছাড়াও তিনি অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
গোলাম কিবরিয়া রিপন খুলনার বয়রার রায়ের মহলের শেখ নজির উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তার বাবা ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী এবং চাউল আড়তের মালিক। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী; খুলনা নৌবাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি, খুলনা বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
তার সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরির প্রতি কখনোই আগ্রহ ছিল না। বাবার অনুপ্রেরণায় ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেন এবং বাগদার পোনা ব্যবসা দিয়ে নিজের যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ‘রয়্যাল ফিস ট্রেডিং’ ও ‘রয়্যাল কালচার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কক্সবাজার ও চালনা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাগদার পোনা সরবরাহ করে থাকেন। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় তার ১,৮০০ বিঘার ৬টি চিংড়ি ঘের রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় করেন। ২০২৪ সালে তার চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার। তার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭৬ জন কর্মচারী স্থায়ীভাবে কাজ করছেন।
শুধু ব্যবসায়িক সফলতা নয়, সামাজিক কাজেও তার অবদান অনস্বীকার্য। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ দান করে তিনি ‘দানবীর’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে ৫০ বছর বয়সে এসেও তিনি চিংড়ি চাষের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে, কয়রা ও পাইকগাছায় লবণ পানির চিংড়ি চাষ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তার প্রচেষ্টায় এই শিল্প টিকে থাকে এবং হাজারো চাষীর জীবিকা অব্যাহত থাকে।
গোলাম কিবরিয়া রিপনের উদ্যোগ ও সাফল্য দেশের চিংড়ি শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তার কঠোর পরিশ্রম, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও সাহসিকতা তাকে আজ দেশের অন্যতম সফল চিংড়ি চাষীতে পরিণত করেছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৫:৫৭ ২২৭ বার পঠিত | ● চাষী ● চিংড়ি ● পাইকগাছা ● সফল