ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুষ্টিয়া: ভেড়ামারা উপজেলার অন্তর্গত পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে চলছে মাটি ও বালি কাটার মহোৎসব। এতে যেকোনো মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যার ফলে তারা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র দিন-দুপুরে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার মূল সড়ক ও নদীর তীরবর্তী অংশ থেকে মাটি এবং বালি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বালি কাটার স্থানটির ঠিক পাশেই রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি। খুঁটিটির গোড়ার মাটি অধিকাংশ কেটে নেওয়ায় এটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে খুঁটিটি ভেঙে পড়লে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়সহ বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
নদীর তীরবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের গাড়ি যাতায়াত করে। স্থানীয় জনগণের প্রশ্ন—চোখের সামনে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কেন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাঝে মাঝে প্রশাসন বা পুলিশ আসে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, প্রশাসনের গাড়ি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর ৫-১০ মিনিট আগেই বালি খেকোরা খবর পেয়ে যায়। তারা দ্রুত ট্রাক ও লেবার নিয়ে সরে পড়ে। প্রশাসন চলে যাওয়ার পর আবারও শুরু হয় বালি কাটা।” স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, প্রশাসনের ভেতরেই কোনো ‘গুপ্তচর’ রয়েছে, যে অভিযানের গোপন তথ্য বালি খেকোদের কাছে ফাঁস করে দিচ্ছে।
এই সুসংগঠিত চক্রের কারণে একদিকে যেমন সরকারের লাখ লাখ টাকার সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা এই ‘তথ্য ফাঁস’ চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটিটি রক্ষায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৬:৩২ ৩৩ বার পঠিত | ● উৎসব ● বালি কাটা ● ভেড়ামারা