ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, এক যুগ পর হত্যা মামলা

ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, এক যুগ পর হত্যা মামলা


কয়রা ( খুলনা ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫


ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, এক যুগ পর হত্যা মামলা

খুলনা: কয়রায় ক্যান্সার ও স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যাওয়া জামায়াতকর্মীর মৃত্যুর এক যুগ পর হত্যা মামলা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীকে। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদাবাজি করতে ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা ও এক জামায়াত নেতা এই মামলার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন।

মামলার বাদীর পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসামিকেই মামলার বাদী চেনেন না। এমনকি কারা আসামি হবেন, সেটাও মামলার আগে তিনি জানতেন না।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের কয়রা উপজেলার নেতাকর্মীরা। সেই মিছিল লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করলে ২৯ জন আহত হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম।

এ ঘটনার এক যুগ পরে গত ১৭ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী ছবিরন নেছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। মামলায় সাবেক দুই সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব সানা ও আক্তারুজ্জামান বাবু, সাতজন আইনজীবী, ছয়জন সাংবাদিক, চারজন শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়রা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, দৈনিক ভোরের কাগজের সাংবাদিক শেখ সিরাজুদ্দৌলা লিংক, কালের কণ্ঠের ওবায়দুল কবির সম্রাট, যায়যায় দিনের মো. হাবিবুল্লাহ, খুলনা অঞ্চলের শাহাজান সিরাজ, আজকের দর্পণের তারিক লিটুসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে আসামি করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু রেজিস্টারে দেখা গেছে ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই জাহিদুল ইসলাম মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ক্যান্সার ও স্ট্রোক উল্লেখ করা হয়েছে রেজিস্টারে।

মামলার বাদী ছবিরন নেছা  বলেন, মামলার আসামি কারা আমি চিনি না। আমার কাছ থেকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এভাবে যে সাংবাদিক ও নিরীহ মানুষের নাম আছে আমি জানতাম না।

এখন শুনছি এই মামলায় একপক্ষ ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী এক নেতা ফোন করে আমাকে আদালতে যেতে বলেন। সেখানে জামায়াতের এক নেতা ও কয়েকজন উকিল ছিলেন। মামলায় যা লেখার তারাই লিখেছে। মামলার কাগজও আমাকে পড়তে দেয়নি।
মামলায় জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও বাদী ছবিরনের দাবি, তার স্বামী ঘটনাস্থলে মারা যাননি। গুলিবিদ্ধ হয়ে কয়েক মাস চিকিৎসা নিয়ে তারপর মারা যান। মামলার কয়েক দিন আগে বৈষম্যবিরোধী নেতা গোলাম রব্বানী ও আব্দুর রউফ ছবিরনকে একটি স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের করার ব্যবস্থা করিয়ে দেন।

নিহতের চাচাতো ভাই কয়রার নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বাবুল আক্তার বলেন, ছবিরন নেছা সম্পর্কে আমার বোন হয়। আমার ভাই মারা যাওয়ায় পর থেকে ওদের পরিবারের সব বিষয়ে জামায়াত দলীয়ভাবে সহযোগিতা করে। মামলা করার দিন জামায়াত নেতারা দলীয়ভাবে ডেকেছেন ভেবে বোনটা গিয়েছিল।

খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন বলেন, কয়রার মামলার ঘটনাটি আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে হয়নি। বাদী অন্য কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলাটি করতে পারেন। তারপরও মামলার পেছনে আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক আগের ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে নিরীহদের নাম যুক্ত হওয়ার শঙ্কায় খুলনার কোন উপজেলায় আমরা মামলা করিনি।

মামলার ৩৮ নম্বর আসামি এবং কয়রা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তারিক লিটু বলেন, “ঘটনার সময় আমি গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছিলাম। ২০১০ সালের পর পড়াশুনার জন্য আমি কয়রার বাহিরে ছিলাম,পড়াশুনা শেষ করে একটি এনজিও’র দায়িত্ব নিয়ে ২০১৯ সালে কয়রায় আসি। ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়রা উপজেলা আহ্বায়ক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা জেলার আহ্বায়ক তাসনিম আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কয়রার কমিটির দেওয়ার পর থেকে আমরা একাধিক অভিযোগ পাচ্ছি। আমাদের কয়রার নেতৃত্ব নির্বাচন সঠিক হয়নি। দ্রুতই কয়রার কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি দেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৫:৪৮   ২৯৩ বার পঠিত  |      







খুলনা থেকে আরও...


ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল
ভুয়া তালাকনামায় বিয়ে,কাজীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
মহম্মদপুরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা,অভিযুক্ত আটক
বিএনপির নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের বোমা ও গুলি নিক্ষেপ,আহত ১
ভেড়ামারা দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা



আর্কাইভ