ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পাবনা: সুজানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুলাই উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ গাইড বই চালানোর কথা বলে দুই প্রকাশনীর থেকে অর্থ নেওয়া কে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য খোন্দকার গোলাপ আলী মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানাযায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭২০ জন। চলতি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্য সহায়ক হিসেবে দুই প্রকাশনী পাঞ্জেরি ও লেকচারের সরকার নিষিদ্ধ অবৈধ গাইড বই চালানোর চুক্তি করেন শিক্ষক প্রতিনিধি গ্রুপ ও প্রধান শিক্ষক গ্রুপ। এর মধ্যে লেকচার প্রকাশনীর নিকট থেকে নিষিদ্ধ গাইডবই চলানোর চুক্তিতে প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন লিটন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অপরদিকে শিক্ষক মন্ডলীদের পক্ষ থেকে সহকারী শিক্ষক এনামুল হোসেন পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের নিকট থেকে তিন লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে জানা যায়।
লেকচার প্রকাশনী থেকে নেওয়া অর্থ প্রধান শিক্ষক তার অনুসারী সহকারী শিক্ষক মোল্লা মো. শামসুদ্দৌলার মাধ্যমে ব্যাংকে জমা রাখেন। যা পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষক নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। অপরদিকে সহকারী শিক্ষক এনামুল হক পাঞ্জেরি প্রকাশনী থেকে গ্রহণ করেন তিন লাখ টাকা।যা অপর শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন করা হয় বলে জানা যায়।
এ দিকে গত রবিবার প্রধান শিক্ষক লেকচার গাইডের উপর ভিত্তি করে সিলেবাস তৈরি করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষ অপর গ্রুপের শিক্ষকেরা তাতে বাধা প্রদান করে। তাদের দাবি প্রধান শিক্ষককে লেকচার পাবলিকেশনের নিকট থেকে নেওয়া ৩ লক্ষ টাকা অন্য সকল শিক্ষকদের মাঝে সঠিক ভাবে বন্টন করতে হবে। তা না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঞ্জেরী প্রকাশনীর গাইডের উপর ভিত্তি করে সিলেবাস তৈরি করা হবে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোল্লা মো. শামসুদ্দৌলার কাছে জানতে প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান। অপর গ্রুপের বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হকের কাছে জানতে চাইলে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিদ্যালয়ে পাঞ্জেরী গাইড চালানো হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি আব্দুর রহমান ও লেকচার প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন না বলে জানান।
অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, যে শিক্ষকেরা সঠিক পথ দেখাবেন,সেই শিক্ষকেরাই ছাত্রছাত্রীদের ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছেন। নিষিদ্ধ গাইড বই পড়তে বাধ্য করছেন। শিক্ষকেরা প্রকাশকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে গাইডবইগুলো বিক্রি করতে সহায়তা করছেন যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। আর একই স্কুলে দুই প্রকাশনীর গাইড চললে শিক্ষার্থীদের তো উভয় প্রকাশনীর গাইড ক্রয় করা সম্ভব নয়। আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এ অবস্থা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করেছেন তারা ।
দুলাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন লিটন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে এ প্রতিনিধিকে জানান, কোন গাইডবই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নী, বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষক কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর সাথে সম্পৃক্ত তারা এ নিষিদ্ধ গাইডবই বিদ্যালয়ে চালানোর সাথে জড়িত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বুধবার(৩০ এপ্রিল) জানান অবৈধ গাইড বই চালানোর কথা বলে দুই প্রকাশনীর থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সোলায়মান হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরকারী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:২১:৩১ ৯৬ বার পঠিত | ● গাইড ● দ্বন্দ্ব ● বই ● শিক্ষক ● সুজানগর