ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
সুনামগঞ্জ: মা এই শব্দটাই যেন ভালোবাসার চূড়ান্ত রূপ। জীবনের শেষ মুহূর্তে সন্তানকে বাঁচাতে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে সেই সত্যই আবারও প্রমাণ করলেন এক অসহায় মা বিলকিস।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার নওনাগর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হয় স্থানীয়রা। গ্রামের পাশের কাদামাটি মিশ্রিত পানিতে ভেসে ওঠে দুইটি নিথর দেহ একজন মা, আর তার বুকের সঙ্গে শক্ত করে আঁকড়ে ধরা তিন বছরের মেয়ে বিথী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিলকিস ছিলেন ডিভোর্সি। ভিক্ষা করে চলতেন কোনো রকমে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়েকে কোলে নিয়ে ফিরছিলেন বাড়ির পথে। পথে পানিতে ডুবে থাকা একটি রাস্তা পার হওয়ার সময় মা-মেয়ে দুজনেই পানিতে তলিয়ে যান। সেখান থেকেই শুরু হয় এক বিষাদঘন অধ্যায়।
রাত গড়িয়ে ভোর হলেও তাদের খোঁজ মেলেনি। শুক্রবার সকালে গ্রামবাসীরা দেখতে পান পানিতে একটি মৃতদেহ ভাসছে। কাছে যেতেই দেখা যায়, ছোট্ট বিথীকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে আছেন বিলকিস—মৃত্যুর শেষ মুহূর্তেও যেন সন্তানকে আঁকড়ে রেখেছেন নিরাপত্তার সর্বশেষ চেষ্টায়।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, চাইলেই হয়তো মা উঠে আসতে পারতেন, কিন্তু মা কি কখনো সন্তানের প্রাণ ফেলে নিজে বাঁচে? ওঁনার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু সন্তানের প্রতি ভালোবাসার এমন নিদর্শন চিরকাল মানুষের মনে থাকবে।
এই করুণ দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। নওনাগর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। চারদিকে শুধুই কান্না আর ভারী নিঃশ্বাস। সমাজের মানুষের মনে প্রশ্ন—একজন মা আর তাঁর শিশুর জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতির দায় আসলে কে নেবে?
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষায় রাস্তা ডুবে যাওয়া এখানে নতুন কিছু নয়। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বারবার ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। এখন প্রশ্ন—এই প্রাণগুলো কি অবহেলার বলি?
শেষ মুহূর্তে মেয়েকে জড়িয়ে ধরা মায়ের সেই দৃশ্য যেন চিরন্তন এক বিদায়ের প্রতিচ্ছবি। সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে এই মৃত্যু যেখানে ভালোবাসা হার মানেনি মৃত্যুর কাছেও। শেষ আলিঙ্গনেই অমর হয়ে থাকবেন মা বিলকিস আর ছোট্ট বিথী।
এন. আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০২:২১ ১৫৭ বার পঠিত | ● মধ্যনগর ● মরদেহ ● মা-মেয়ে