ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা এসব অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি এ উপজেলায় মোট ২২৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের আওতায় প্রায় ১১৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭০০ শিক্ষক তার অধীনে কর্মরত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাতে ৫০ হাজার টাকা ও গত বছর ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘স্লিপ ফান্ড’ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও তিনি প্রতিটি বিদ্যালয়ের সভাপতি।এই বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের সময় চেকের পাতায় তাহার থেকে সাক্ষর নিতে হয়। চেক বইয়ে সাক্ষর নেওয়ার জন্য আসলে মাহবুবুর রহমান বাধ্য করে জোরপূর্বক প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রুটিন মেইনটেন,ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ শেষে দশ হাজার টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তৈল খরচ আদায়ের ও বিভিন্ন সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের নামে সরকারি বরাদ্দ থেকে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অবৈধ লেনদেনের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্ধারিত উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়ে টাকা তুললেও সে টাকায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কেনা সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করেন, সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য বরাদ্দকৃত ৫৪০ টাকা থেকে খাবার ও যাতায়াত বাবদ প্রকৃত ব্যয় না করে তিনি অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করেন। সকালের নাস্তার নামে চা-সিঙ্গারা এবং দুপুরে ফার্মের মোরগের মাংস ও কমদামী খাবার সরবরাহ করে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নিয়ে পুরো বরাদ্দ তুলে নেন।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণের নির্ধারিত সময়ে তিনি উপস্থিত না থেকে শুধুমাত্র খাবার সময় এসে নিজের উপস্থিতি দেখিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করেন। এতে প্রকৃত প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার উন্নতি ঘটছে না। তিনি কথায় কথায় লক্ষীপুরের জনৈক বিএনপি নেতার ভয় দেখান। শিক্ষকেরা এই আচরণে যথেষ্ট বিব্রত বোধ করেন। প্রায় শিক্ষকের সাথে খারাপ আচরণ করেন। অসংখ্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এই ঘুষ বাণিজ্যের স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। নিম্নে কিছু শিক্ষকের নাম ও বিদ্যালয়ের নাম দেওয়া হলো।
একরামুল হক,প্রধান শিক্ষক, হাতিয়া বাজার সপ্রাবি। আহছান উল্যাহ, প্রধান শিক্ষক, ফরেস্ট সেন্টার সপ্রাবি, জ্যোতি লাল দাস, প্রধান শিক্ষক, মাইনউদ্দিন বাজার সপ্রাবি, আবদুল মালেক, প্রধান শিক্ষক, আলহাজ্ব নুরুন্নেছা সপ্রাবি। আকতার হোসেন, প্রধান শিক্ষক, চরআজমল ভূমিহীন বাজার সপ্রাবি,। আলতাফ হোসেন, প্রধান শিক্ষক, ইউনুসপুর সপ্রাবি। রীতা রানী মজুমদার, প্রধান শিক্ষক, মীর আদর্শ গ্রাম সপ্রাবি।
শিক্ষকগণ মাহবুবুর রহমান এর অন্যায় আচরণ ও অনৈতিক দাবী থেকে রক্ষা পেতে চাই।
এ বিষয় গুলো অস্বীকার করে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, স্কুলের অর্থ দুই কিস্তিতে দেয়া হয়। কেউ কেউ প্রধান শিক্ষক না হয়ে প্রতিনিধি পাঠালে চেক জারির বিষয়ে জটিলতা দেখা দেয়। সে কারণে হয়তো কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আমার কাছে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে মৌখিকভাবে কিছু অভিযোগ শুনেছি। যদি লিখিত অভিযোগ আসে, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত পুর্বের চারটি থেকে দুইটি ক্লাস্টার পরিবর্তন করে দিয়েছি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪১:৩৮ ১৯৬ বার পঠিত | ● কর্মকর্তা ● প্রাথমিক ● শিক্ষা ● সহকারী ● হাতিয়ায