ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » ভারী বৃষ্টির কারণে পাইকগাছা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

ভারী বৃষ্টির কারণে পাইকগাছা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি


পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫


খুলনা: জেলাধীন পাইকগাছা উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষকের কাঁচা ফসল ও হাজার হাজার মাছের ঘের।

বৃহস্পতিবার( ৩১জুলাই)সরেজমিনে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কাঁচা ও পাকা রাস্তায় হাঁটুপানি জমে আছে। অনেক দোকানপাট, বাজারের রাস্তা ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানাগেছে,গত ৩০ জুলাই( বুধবার) সকাল ৯টা থেকে এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরো জানা গেছে, কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি,লতা,চাঁদখালী, লস্কর, গড়ইখালী,সোলাদানা, কপিলমুনি, হরিঢালী, রাড়ুলী ও গদাইপুর সহ পাইকগাছা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের,আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, কয়েক’শ নার্সারি ক্ষেত, পুকুর ও কাঁচা-পাঁকা রাস্তা।আর নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা সহ গবাদিপশুর খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীণ রাস্তাগুলি ও বাড়ির উঠান পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ পড়েছে বিড়াম্বনায়। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষরা কাজে যেতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়ে আর্থিক অনাটনের মধ্যে পড়েছে তারা। ফলে একটানা বৃষ্টিতে মানুষের জনদূর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

এ বিষয়ে রাকিব হোসেন,সুমন রায়,চিত্তরঞ্জন সানা,মনিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম,আমান, বারিকুল ইসলাম সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক এলাকাবাসি জানান, আমাদের পাইকগাছা উপজেলার প্রায় অধিকাংশ ইউনিয়নের স্লুইচ গেট দিয়ে পানির সরবরাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্হা না থাকা সহ সরকারি খাস খালগুলি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর সে কারণে এলাকায় আমন ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত রাখা জমিও এখন থমথমে পানির নিচে। সবজির খেতেও জমে আছে হাঁটুপানি।এছাড়াও ছোট ছোট মাছের ঘেরের ভেড়ি (বাঁধ) ভেঙ্গে মাছ বেরিয়ে গেছে। বড় বড় ঘেরের অবস্থাও টলমল। যে কোনো সময় ভেড়ি ভেঙ্গে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলার লেবু চাষী জলিল সানা,কেরামত মালী,হালিম গাজী ও ধীমান সরকার সহ একাধিক চাষীরা জানান,সরকারি নানা প্রকল্পে কালভার্টগুলো সচল রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কালভার্ট বন্ধ থাকে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।তাই এ বছরও উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্ল্যাহ সরদার ও লস্কর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর বর্ষায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এবারও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার চাঁদখালী, লস্কর,গড়ইখালী ও সোলাদানা সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।আর জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান,অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে এবং সবজি খেত সহ কাঁচা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাইকগাছার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নদীর স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পৌরসভায় ড্রেন পরিষ্কারে একটি টিম কাজ করছে।

আফ/আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৬:২৪   ৮৬ বার পঠিত  |   







খুলনা থেকে আরও...


ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল
ভুয়া তালাকনামায় বিয়ে,কাজীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
মহম্মদপুরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা,অভিযুক্ত আটক
বিএনপির নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের বোমা ও গুলি নিক্ষেপ,আহত ১
ভেড়ামারা দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা



আর্কাইভ