ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
কুড়িগ্রাম: রাজারহাট উপজেলায় সুদের টাকা পরিশোধের পরও সাজানো মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি এবং প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার দিনোবাজার এলাকার দাদন ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। সুদ আদায়ের নামে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার। কেউ কেউ আত্মগোপনে,কেউবা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য,ফিরোজ আহমেদের মতো আরও শতাধিক দাদন ব্যবসায়ী উপজেলাজুড়ে সক্রিয়। তাদের মধ্যে হাজী নবীজল,মাহাবুব,মোস্তফা,লেবু,সুফিয়ান,ভোলা মিয়া,ফজিলা বেগম ও সবুজ অন্যতম। ফিরোজ মিয়া উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের ছাটমাধাই গ্রামের বাসিন্দা। ১৫বছর আগে ফিরোজ সামান্য বেতনে ফিড ব্যবসায় ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। পরে সামান্য পুঁজি নিয়ে শুরু করেন দাদন ব্যবসা। এক দশকের ব্যবধানে প্রতারণা ও অতিরিক্ত সুদের টাকায় তিনি এখন বিলাসবহুল বাড়ি,কয়েক একর ফসলি জমি,গাভির খামারসহ কয়েক কোটি টাকার মালিক।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এবং উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় ফিরোজ আহমেদ সুদের ফাঁদে ফেলেন অসংখ্য মানুষকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ আসল পরিশোধ করেও অনেকেই মুক্তি পাননি। উপরন্তু,দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে সাজানো মামলায় হয়রানি করেছেন বহু নিরীহ মানুষকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,বর্তমানে ফিরোজের দায়ের করা অন্তত অর্ধডজন মামলায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন । আরও এক ডজন মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই বাদী ও একই সাক্ষীর মাধ্যমে একের পর এক মামলা ঠুকে দিচ্ছেন কুখ্যাত সুদী ব্যবসায়ী ফিরোজ।
উপজেলার পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের মৃণাল কান্তি স্বপন বলেন,“চড়া সুদে দেড় লাখ টাকা নিয়েছিলাম। পরে আসলসহ সুদ পরিশোধ করি। অবশিষ্ট ৪০হাজার টাকার জন্য সময় চাইলেও ফিরোজ আমার বিরুদ্ধে ১২লাখ ১০হাজার ৫০০টাকার সাজানো মামলা দিয়েছে।”
নওদাবস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দশরত চন্দ্র বলেন,“সামান্য টাকা নিয়েছিলাম ফিরোজের কাছ থেকে। পরিশোধের পরও সে আমার বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৮০হাজার টাকার মামলা করার প্রস্ততি নিয়েছে।”
একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোবাশ্বের আলমের স্ত্রী মীরা বেগম জানান,“আমার স্বামী ১লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তিন বছর নিয়মিত সুদসহ টাকা দিয়েছেন। কয়েক মাস সুদ দিতে না পারায় ফিরোজ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার মামলা করে,যার ফলে তিনি প্রায় দুই মাস ধরে জেল খাটছেন।”
এলাকাবাসী জানান,লালমনিরহাট সদরের বিএনপি নেতা সাজু মিয়ার পা ভেঙে দিয়েছিলেন ফিরোজ অতিরিক্ত সুদের টাকার জন্য। ত্রিমোহনীর রহিম মিয়ার অটোরিকশাও কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি।
দিনোবাজার এলাকার নিরীহ হুরকা চন্দ্র বলেন,“সুদসহ প্রায় সব টাকা পরিশোধ করেছি। সামান্য বাকি আছে। সেই টাকার জন্য ফিরোজ হুমকি দিচ্ছে যে টাকা পরিশোধ না করলে, মেয়ের বিয়ে দিতে দিবে না।”
একই এলাকার সিন্ধু চন্দ্র বলেন,“স্ত্রী মিনা রানীর মরদেহ পর্যন্ত জিম্মি করে ফিরোজ সুদের টাকা আদায় করেছিল।”
অতিরিক্ত সুদের চাপে ফিরোজের টাকা শোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিমল চন্দ্র,সুবল চন্দ্র,নুর ইসলাম ও নূরজামালসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে ফিরোজ আহমেদ বলেন,“টাকা লেনদেনের প্রমাণ থাকায় মামলা করেছি।”তবে অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তছলিম উদ্দিন বলেন,“সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং ব্যাংকে সহজ শর্তে ঋণদান কার্যক্রম বিস্তারের মাধ্যমে এই ধরনের দাদন ব্যবসা রোধ করা সম্ভব।”
আফ/আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৯:৩৫ ১৮০ বার পঠিত | ● কুড়িগ্রাম ● রাজারহাট