ঢাকা    রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
সালথার পেঁয়াজ চাষিদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠালেন ইউএনও নাজিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে এমপি সুলতানা জেসমিন জুইয়ের মতবিনিয় ভোলা জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সুজানগর হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান লালমোহনে দেবরের মারধরে ভাবি আহত পটুয়াখালীতে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে শিল-পাটার আঘাতে হত্যা, ছেলে আটক পীরগঞ্জে এডিপি প্রকল্প হতে ২০৮ জন পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন কল্যাণমুখী রাজনীতি করে যাবো:ফজলুল হক মিলন এমপি সুজানগরে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা লালমোহনে কলেজছাত্র হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » আশ্রায়নের ঘর বিক্রির হিড়িক, ঘরে থাকেন না কেউ

আশ্রায়নের ঘর বিক্রির হিড়িক, ঘরে থাকেন না কেউ


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫


আশ্রায়নের ঘর বিক্রির হিড়িক, ঘরে থাকেন না কেউ

কুড়িগ্রাম: পানি, বিদ্যুৎ, রাস্তা ঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও আশ্রায়নের সুবিধা ভোগিরা দেদাছে পানির দামে প্রকাশ্যে ও গোপনে অন্তত ২৫টি ঘরবাড়ী বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে আরো কয়েকটি ঘর। শুরু থেকে ঘরে থাকেন না অর্ধশত সুবিধা ভোগি। সুবিধা ভোগি নির্বাচনে অনিয়ম দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে বেহাল অবস্থা মুন্সি বাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পের। বর্তমানে বলতে গেলে প্রায় সুবিধা ভোগি বাসিন্দা শুন্য হয়ে পড়েছে আশ্রায়নটি।
মুন্সিবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পের সুবিধা ভোগি বাসিন্দা মমেনা বেগম বলেন, কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে ঘর বিক্রি করে আশ্রায়ন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অনেকে ঘর গুলো কিনে নিয়ে দখল করে রেখেছেন। কেউ আবার পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। প্রশাসনের লোকজন জেনেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে ঘর বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না।
উপজেলা ভুমি অফিস জানায়, ২০২০-২১ও ২০২১-২২ অর্থ বছরে আশ্রায়ন প্রকল্পের -২ এর অধিনে মুন্সিবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পে দুই দফায় ১২১টি ঘর নির্মান করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। প্রতিটি বাড়ীতে ২টি শয়ন কক্ষ, রান্নাঘর,শৌচাগারসহ বারান্ধা রয়েছে। রয়েছে বিদ্যুৎ,সুপেয় পানি ও পয়ঃনিশস্কাশন ব্যবস্থা। ২ শতক জমিসহ ওই বছরে সুবিধা ভোগিদের নামে দলিলমুলে বন্ধব¯ত দেওয়া হয়। বর্তমানে ১২১টি ঘরের মধ্যে ৬০টি ঘরে কেউ থাকেন না। শুরু থেকেই তালা দিয়ে দখলে রেখেছেন বলে বাসিন্ধাদের অভিযোগ। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে ঘর বিক্রি করেছেন যা অব্যাহত রয়েছে বলে তারা জানান।

আশ্রায়ন প্রকল্পের সরকারী বন্ধোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করায় ২০২২ সালে ইউএনও অফিস থেকে ২৪ নম্বর ঘরে মালিক আমিনুল ইসলামসহ ৬ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে ১৭ এপ্রিল দৈনিক সমকালে ”অধিকাংশ ঘরে ঝুলছে তালা”শীরনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রধান মন্ত্রির দপ্তরের নিদের্শে সহকারী কমিশনার (ভুমি) তদন্ত করে ৬০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। পরে তারা মুশলেকা দিয়ে রক্ষা পান। কিন্ত অবস্থা উন্নতি তো দুরের কথা আরো ভয়াবহ অবনতি হয়েছে।
মুন্সিবাড়ী আশ্রায়ন প্রকল্পে সরেজমিনে কয়েক দিন গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ সুবিধা ভোগির ঘর গুলোতে কেউ বসবাস করছেন না। ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। ঝোপ ঝারে ও ময়লা আবজর্নায় ভরে গেছে। বারান্দা গুলোতে গোবর কাঠি সারি সারি শুকানোর জন্য দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা গেল, আশ্রায়নের ৩টি ব্লকে ১২১টি ঘরের মধ্যে ১৫টি ঘর ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে বিক্রি হয়েছে। আর ১০টি ঘর গোপনে বিক্রির আলোচনা হচ্ছে। স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন ৪০ জন সুবিধা ভোগি। মাঝে মধ্যে আসেন ১০ জন। ঘর কিনে বসবাস করছেন ১১ জন। ৬০ ঘরে একেবার কেউ থাকেন না । এদের কেউ চেনেন না বা কোন দিন দেখেননি বলে বাসিন্ধারা জানান।
আশ্রায়নের বাসিন্ধা ৪১ নং ঘরের মালিক নুর আক্তার, ২৭ নং ঘরের মালিক মরিয়ম বেগম, ৩৮নং বাসিন্ধা শামছুন্নাহার,৩৬ নং বাসিন্ধা ছকিনা বেওয়া ও মমেনা বেগম বলেন, ৩নং ব্লকের রেবেকা বেগম ঘর নং (৫১), কিনেছেন মিম হিজলা, মালেকা বেগম ঘর নং (৪৫),কিনেছেন ইব্রাহিম আলী,আয়শা বেগম,কিনেছেন নুর মোহাম্মদ, সাহাবুদ্দিন ৪ নং ঘর কিনেছে মোঃ গাজী, মাহমুদুল্লা পিতা মোহামামদ আলী (মেলেটারী) ঘর নং (৩৩) কিনেছেন আলমগীর হোসেন, শিমুল মেহেদী ঘর নং (১৪) কিনেছেন সুমন মিয়া, আইরিন বেগম ঘর নং (৫৯) কিনেছেন আমিনা বেগম, ৬১ নং আকবর আলী,কিনেছেন আশরাফুল, বদিউজ্জামান (৪৬ নং),কিনেছেন এজাজুল,ও নাজমুল হোসেন ঘর নং ৪৩ কিনেছেন শাহীদুল ইসলাম,২নং ব্লকের মাজেদা বেগম, ফজলু মিয়াসহ মোট ২৫টি ঘর বিক্রি হয়েছে। ঘর গুলো বেচা বিক্রি হয়েছে ১৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। কোন কোন ঘর একাধিক মানুষের কাছে কেনা বেচা হয়েছে বলে আশ্রায়ন বাসিন্দাদের জানান। ৩৩ নং ঘর ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন আলমগীর হোসেন বলেন, নিজের বাড়ী ঘর নাই অন্যের বাড়ীতে ছিলাম, ধার দেনা করে ঘরটি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। সরকার যদি বের করে দেয় তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নাই। আলমগীরের মত,একই কথা বলেন, ঘর কিনে নেওয়া আমিনা বেগম, মমিনুল ইসলাম, গাজী মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, এজাজ আলী ও মমতাজ বেগম।
৪৬ নং ঘরে বসবাসকারী এজাজুল হক বলেন, ঘরটি বরাদ্ধ ছিল আব্দুল হাকিম গ্রামের বদিউজ্জামানের নামে। তার কাছ থেকে কিনে নেন মারুফ হোসেন। তার কাছে ২৫ হাজার টাকা কিনে নিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ৩৩নং ঘরের মালিক মাহমুদুল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ একাব্বর হোসেন বলেন, যাদের ঘরব্ড়াী আছে, তারা টাকা পয়সা দিয়ে ঘর গুলো নিয়েছেন কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে। এখন তারা ঘর গুলো বিক্রি করছে। প্রকৃত বাড়ীভিটা নাই তারা ঘর পায়নি। এমন যারা পেয়েছেন তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
ধরনীবাড়ী উপসহকারী ভুমি কর্মকর্তা মন্টু কূমার সরকার বলেন, বিক্রি হচ্ছে শুনেছি। কিন্ত বিক্রি ঠেকানো যাচ্ছে না। অথচ সরকারী বন্ধবস্ত শর্ত হচ্ছে কোন ভাবে ঘর গুলো বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন, এ আশ্রায়নের বিষয়ে কিছু জানি না। নিয়ম অনুযায়ী ঘর বিক্রি করতে পারে না। বিষয়টি আমি তহসিলদারে মাধ্যমে খোজ খবর নিয়ে বন্ধবস্ত শর্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ০:৩৬:১৬   ২৫৯ বার পঠিত  |         







রংপুর থেকে আরও...


পীরগঞ্জে এডিপি প্রকল্প হতে ২০৮ জন পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন
ডিমলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
উলিপুরে জলবায়ু ন্যায্যতা ও কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা
পীরগঞ্জে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা
উলিপুরে বাইপাস সড়কের নির্মান কাজ শুরুর দাবীতে মানববন্ধন



আর্কাইভ