ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টিতে পাইকগাছার পাট চাষিদের মুখে নেমেছে হতাশার ছায়া। টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ পাটক্ষেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে পঁচে যাচ্ছে গাছ, কমছে ফলন। সোনালি আঁশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে যারা পাটের আবাদ করেছিলেন, সেই কৃষকদের স্বপ্ন আজ ভেসে যাচ্ছে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় ৩৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভার কিছু এলাকায় ব্যাপকভাবে পাট চাষ হয়। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেত পানির নিচে চলে যায়।
সোমবার(১১আগস্ট) সরেজমিনে স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত পানিতে পাটগাছের গোড়া পচে গিয়ে গাছের বৃদ্ধি থেমে গেছে। আরেক কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, বিঘাপ্রতি দুই মণ পাটও হবে না। গাছ ছোট হওয়ায় আঁশের মানও নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে এমন দুরবস্থার মধ্যে শ্রমিক সংকট কৃষকদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বেশি মজুরি দেওয়া সত্ত্বেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া, পাট কাটা, ধোয়া ও শুকানোর খরচও বেড়ে গেছে। যদিও বাজারে নতুন পাটের দাম মণপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা, কিন্তু খরচ তুলতে না পারায় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কিত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে গাছ বড় হতে না পারায় আঁশের মান খারাপ হয়েছে, ফলে কৃষকরা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না।
সব মিলিয়ে, সোনালি আঁশের স্বপ্ন এবার ভেঙে যাচ্ছে অতিরিক্ত বৃষ্টি পানিতে। কষ্টসাধ্য শ্রম শেষে যদি বাজারে ভালো দাম না মেলে, তবে এই ক্ষতির বোঝা কৃষকদের আরও দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৫২:২৫ ১২৭ বার পঠিত | ● পাইকগাছা ● পাট চাষী ● স্বপ্নভঙ্গ