ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » আড়াইহাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ২০, ঘরবাড়ি ভাংচুর

আড়াইহাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ২০, ঘরবাড়ি ভাংচুর


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫


আড়াইহাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ আহত ২০, ঘরবাড়ি ভাংচুর

নারায়ণগঞ্জ:
আড়াইহাজারে স্থানীয় বিএনপি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারী সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের জের ধরে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।  মঙ্গলবার সকালে দশটার  দিকে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টীম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের বাচেরচর এলাকায় বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনের সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়া একে অপরকে আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে বলয় ভারী করার অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলার সিনিয়র নেতাদের সামনে বাকবিত-ায় শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় বেলায়েতের অনুসারী ইদ্রিস আলীর লোকজন জাকারিয়ার লোকজনকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকে খাগকান্দা এলাকায় কাকাইলমোড়া, নয়নাবাদ ও চম্পকনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। মঙ্গলবার সকালে  ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলায়েত হোসেনের অনুসারী কাকাইলমোড়ার ইদ্রিস আলীর বাড়িতে জাকারিয়ার সমর্থিত লোকজন দেশিয় অস্ত্রেসজ্জে সজ্জিত হয়ে হামলা করে। পাল্টা হামলা করলে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে মঞ্জুর হোসেন (৪০) মনির  হোসেন (৩৫) মীম আক্তার (১৬) মকবুল (৫৫) ফতি বেগম (৪০) রনি মিয়া (১৬) জসিম উদ্দিন (৫৫) ফাহাদ মিয়া ও ( ১৬) সাইমন মিয়াসহ (৩৫) উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে টেটাবিদ্ধ মঞ্জুর হোসেন, শাহালমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাসময় কাকাইলমোড়া ইদ্রিস আলী, মঞ্জুর হোসেন, আবেদ আলীসহ দশ বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টীম ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে।

আহত মনির হোসেন জানান, তিনি সকালে মুরগির ফার্মে কাজ করার সময় কোন কিছু বুঝার আগেই ২০/২৫ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ ফার্মে থাকা ১১০০ মুরগী লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ইদ্রিস আলী জানান, জাকারিয়া খাগকান্দা ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান মেম্বার লোকজনের সহায়তায় তাদের দশটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

এদিকে এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়া এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ইদ্রিস আলী ও তার অনুসারী জুলহাস মেম্বার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন ও তার ভাই শাহ আালমের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তার সমর্থিত লোকজনের উপর হামলা চালিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৮-১০ জনের মত আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের কোনো খবর আমরা এখনো পাইনি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিন গ্রামের পরিস্থিতি থমথমে

মঙ্গলবার বিকেলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর কাকাইলমোড়া, বাহেরচর ও চম্পকনগন গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী যে কোন সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অংগসংগঠনের চিহ্নিত নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে বিভিন্ন কৌশলে এসব পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীরা এলাকায় আসতে শুরু করেন। খাগকান্দা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া তাদের নিজস্ব বলয়ের শক্তি বৃদ্ধি করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া শুরু করেন। আধিপত্য বিস্তারে তাদের নিজম্ব শক্তিমত্তা প্রদর্শণ করতে গিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ফের তার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা কমে যাওয়ায় তিনটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। উভয় পক্ষের লোকজন টেটা, বল্লমসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। তবে এ ব্যপারে আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ব্যপারে এখনও কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আফ/আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:০০:১৩   ৭৪ বার পঠিত  |   







ঢাকা থেকে আরও...


কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
মধুখালীতে গাঁজাসহ ‘হাতকাটা রাজিব’ গ্রেপ্তার
সদরপুরে নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
দোহারে ইট ভাটায় পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, কাটছে ফসলী জমি
ভূঞাপুরে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সেলিনা



আর্কাইভ