ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঠাকুরগাঁও: পীরগঞ্জে ৫৬৪ কেজি সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করার অভিযোগে বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে মানিক নামে আরো এক ভাংগি দোকান মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এর আগে বিকালে তাদের আটক করে উপজেলা প্রশাসন সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। পাঠ্যবই বিক্রি করার দায়ে গেপ্তার হওয়া ঐ দুইজন সহ ৩ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলম ও সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম গত বুধবার বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির ৫৬৪ কেজি সরকারি পাঠ্যবই মানিক নামে এক ভাংরি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহ মোবাইল ফোনে বই বিক্রির খবর পান।
এ সময় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে অফিসের নিরাপত্তা কর্মী শহিদুল, ফকিরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ও সেনুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হুমায়ুন কবীর শহরের শান্তিবাগ এলাকা থেকে বিক্রি হওয়া বইয়ের মধ্যে ৯০ কেজি বই জনৈক অটো চার্জার ভ্যান চালক সন্তোষ রায়ের কাছ থেকে উদ্ধার করে উপজেলায় নিয়ে আসেন।
বই উদ্ধারের সময় ওই ভ্যান চালক সন্তোষ জানায়, বাকি বই গুলি শহরের মাষ্টার মোড় এলাকার ভাংগী ব্যবসায়ী মানিকের কাছে বিক্রি করেছেন। তার কথা মত বই উদ্ধারের জন্য নিরাপত্তা কর্মী শহিদুল, প্রধান শিক্ষক মানিক এবং সহকারী শিক্ষক হুমায়ুনকে রাতেই ভাংরী ব্যবসায়ী মানিকের দোকানে পাঠানো হয়।
এ সময় মানিক জানান, ৪৭৪ কেজি সরকারী বই তিনি বগুড়ায় বিক্রি করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে বই বিক্রির বিষয়ে জানার জন্য প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমকে সাথে নিয়ে ঐ ভাংগী দোকানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান। এ সময় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারে সাথে ছিলেন।
এ সময় দোকানদার মানিক জানান, প্রধান শিক্ষক আলম ও ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষাক সালামের কাছ থেকে তিনি বই কিনেছেন। প্রধান শিক্ষক আলমও বিষয়টি স্বীকার করেন। সরকারী বই বিক্রির প্রমান পাওয়ায় পর প্রধান শিক্ষক আলম ও দোকানদার মানিককে থানায় সোপর্দ্দ করেন উপজেলা প্রশাসন।
রাতে প্রধান শিক্ষক আলম, সহকারী শিক্ষক সালাম এবং দোকানদার মানিকের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহ। এজাহার পাওয়ার পর পুলিশ আলম ও মানিককে গ্রেপ্তার দেখায়। সালাম পলাতক রয়েছে।
আটক হওয়ার সময় বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলম জানান, বুধবার হঠাৎ করে স্কুলের স্টোর রুমে সাপের আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে স্টোর রুম পরিস্কার করা হয়। আমাকে না জানিয়েই সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম বইগুলো বিক্রি করেছেন।
বই বিক্রির ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে সরবরাহ করা পাঠ্যবই বিক্রি করা চরম অন্যায় কাজ। বই বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানান, সরকারী বই বিক্রি করার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। একজন পলাতক আছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান জানান, সরকারি বই বিক্রির খবর পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও বই বেচা কেনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৬:৩০ ১৬৪ বার পঠিত | ● গ্রেপ্তার ● পীরগঞ্জ ● প্রধান ● শিক্ষক