ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
রংপুর: নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিকদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত এবং প্রায় ২০জন আহত হয়েছেন। উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রীন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লিমিটেডে শ্রমিক অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শনিবার থেকে ২৩ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে এভারগ্রীন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লিমিটেডের শ্রমিকরা।
অবৈধভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, জিএম এর পদত্যাগ, বেতন বকেয়া, নামাজের সময় না দেওয়াসহ মোট ২৩ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।
তিনদিনের উত্তেজনার পর মঙ্গলবার সকালে তা রূপ নেয় সহিংসতায়। এতে উত্তরা ইপিজেডের ইকু প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির এক শ্রমিক নিহত ও এভারগ্রিনসহ বিভিন্ন কম্পানির অন্তত ২০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় আন্দোলনকারীরা নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়ক বন্ধ করে রাখে।
উত্তরা ইপিজেড কম্পানির মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি না মেনে উল্টো অনির্দিষ্টকালের জন্য এভারগ্রিন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে শ্রমিকদের মাঝে। মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে মাঠে নামে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ এবং পরবর্তীতে গুলি চালানো হয়। ঘটনায় ইকু প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির শ্রমিক হাবিব হোসেন নিহত হন। আহত হন এভারগ্রীন ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কম্পানির অন্তত ২০ জন শ্রমিক। জানা যায় নিহত হাবিব হোসেনের বাড়ি নীলফামারী সদরের বড়সংগলশী মাছির চাক এলাকায়।
নিহতের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, আমার ছেলে ইকু প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে চাকুরী করে। সে রাতের বেলা ডিউটিতে গেছে। সে সকালবেলা বাড়ি ফেরার পথে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। আমার ছেলে তো আন্দোলনে ছিলো না। সে অন্য ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। তারপরেও কেনো আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো। আমি এর বিচার চাই।
নিহতের স্বজনরা হাসপাতালের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, আর বার বার বলতে শোনা গেছে। “ভাইরে তুই তো সকালে বাড়িতে আসার কথা কিন্তু তোর এমন হলো কেনো, এখন আমি কাকে ভাই বলে ডাকবো”।
শ্রমিকরা জানান, বেবজা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শ্রমিক বলেছেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গত শনিবার থেকে আন্দোলনে করতেছি। তারা আমাদের দাবী না মেনে উল্টো অনির্দিষ্টকালের জন্য কোম্পানী বন্ধ করেছেন। সকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে আমাদের দাবী না মেনে আমাদের উপর লাটিচার্জ শুরু করে। এক পর্যায়ে টিয়ারগ্যাসসহ সরাসরি গুলে ছুড়ে।
তারা কতটা নিচু হলে একজন শ্রমিক ডিউটি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করে হত্যা করে। আমরা এর তীব্রনিন্দা জানাই। হত্যাকারীদের বিচারসহ অবিলম্বে এই সমস্ত ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চাই।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহান তানভীর ইসলাম বলেন, সকালে ৬জন শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে তাদের মধ্যে একজনকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আহতের চিহ্ন রয়েছে। এসব পরিক্ষা নিরিক্ষার প্রয়োজন।
এছাড়াও সৈয়দপুরের ১০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আহতদের। বর্তমানে উত্তরা ইপিজেড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৭:২৫ ২৬৭ বার পঠিত | ● নিহত ● নীফামারী ● শ্রমিক ● সংঘর্ষ