ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
মানিকগঞ্জ: শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া একটি ভাড়া বাসা থেকে মাসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে থানা-পুলিশ। এ খবর শুনে বাসাটির সামনে উৎসুক জনতা ভিড় করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সদরের শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার ভাড়া বাড়িতে।তবে পুলিশের ধারণা, দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর মা হয়তো বিষপান করে আত্মহত্যা করতে পারে। নিহতরা হলেন, শিখা আক্তার (২৯), তাঁর ছেলে আরাফাত ইসলাম (৯) ও মেয়ে সাইফা আক্তার (২)। শিখা আক্তার হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের শাহিন আহমেদের স্ত্রী। শাহিন মালয়েশিয়া প্রবাসী। সে প্রায় ২ মাস আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যায়। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর ওই ভাড়া বাড়িতে ছেলে সন্তান নিয়ে উঠেন।
স্থানীয় ও থানাপুলিশ সূত্রে জানাযায়, হরিরামপুর উপজেলঅর আন্ধারমানিক গ্রামের শাহিন প্রায় পাঁচ বছর আগে শিখা আক্তারের সাথে বিয়ে হয়। তাদের উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু শিখার আগের স্বামীর সংসারে ছেলে আরাফাত ও দ্বিতীয় স্বামী শাহিনের সংসারে সাইফার জন্ম হয়। এরপর শাহিন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় এক মাস আগে পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন।
মঙ্গবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর হয়ে গেলেও কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে তাঁদের ডাকাডাকি করেন প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ারা। পরে তারা থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পওে পুলিশ এসে দুপুর ২ টার দিকে সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ২ জন শিশুসহ ও খাটের উপর থেকে মা শিখা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন।
এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোসাম্মৎ ইয়াছমিন খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট (ডিবি), ডিএসবি, সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। পরে পুলিশ নিহত শিখার মুঠোফোন নম্বরে ভিডিও কল করে তাঁর স্বামী শাহিন আহমেদ এর সাথে কথা বলেন।
এ সময় শাহিন পুলিশকে জানায়, সোমবার দিনে তাঁর স্ত্রীর সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে তার মোবাইলে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। শিখা দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলঅ পুলিশ সুপার মোসাম্মৎ ইয়াছমিন খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, কক্ষের ভেতর থেকে বিষাক্ত রাসায়নিকের খালি বোতল পাওয়া গেছে। বিষাক্ত ওই পদার্থ দুই শিশুসন্তানকে পান করিয়ে হত্যার পর ওই নারীও আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর রহস্য জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এব্যাপারে সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আমান উল্লাহ বলেন, ওই তিনজনের লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:০১:১৫ ১১১ বার পঠিত | ● মরদেহ ● মা ● মানিকগঞ্জ ● শিশু ● সিংগাইর