ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নাসিরনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে হাওর অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন গ্রামাঞ্চলে চলছে পাটকাটা, পাট মাড়াই এবং পাট শুকনোর কাজ। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতে পাট পঁচানোর জন্যে অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঙ্খিত পানির দেখা না পাওয়ায় অনেকটাই বিপাকে পরেছেন ভাটি অঞ্চলের পাট চাষিরা।
পাট চাষিদের অভিযোগ পাটের উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। এ অবস্থায় অনেক কৃষকই পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে এবছর পাটের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
পাটের অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায়, এক সময় পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ, বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় অর্থকরী ফসল পাটের সেই সোনালি দিনগুলো এখন আর নেই। তারপরও বংশ পরম্পরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার হাওড় বেষ্টিত নাসির নগর উপজেলা অঞ্চলের পাট চাষিরা পাটের আবাদ করে যাচ্ছেন।
চলতি বছর প্রতিকূল ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে পাটের আকার কিছুটা ছোট হলেও ফলন ভাল হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামীন জনপদে এখন চলছে পাটকাটা, মাড়াই এবং পাট শুকানোর কাজ। তবে বর্ষা মৌসুমে জমিগুলোর আশপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না আসায় পাট গাদা এবং পঁচানো নিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন পাট চাষিরা। এতে শ্রমের মূল্যের পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও চাহিদা অনুযায়ী পাটের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অনেকটাই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পাট চাষিরা।
জেলার নাসিরনগরের পাট চাষি মো. জসিম বলেন, জমিতে পাটের আবাদ করতে গিয়ে এখন আমাদের অনেক আর্থিক সমস্যা হচ্ছে। সারের দাম অনেক বেশি, চাষ করতেও এখন টাকা বেশি লাগে। সব খরচ দিয়ে আমাদের বিক্রির দামে গিয়ে পোষায় না। এখানে ব্যাপারীরা লাভবান হচ্ছেন। তারা স্টক রেখে উচ্চ দামে বিক্রি করেন। পক্ষান্তরে আমরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাইনা। তিনি বলেন, এবছর ৩ হাজার ২০০ টাকা প্রতিমণ দরে পাট কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের জন্য পাটের একটা নির্ধারিত দাম দিতো তাহলে আমরা সেই দামে বিক্রি করতে পারতাম।
নাসির নগর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের নীরুধ সরকার নামে অপর পাট চাষি জানান, আমরা পাট করে খরচাপাতি করে শেষে গিয়ে পুঁজিই পাই না। দামে গিয়ে আমাদের খরচের সাথে মিলে না। সরকার দাম দিবে এই হিসাব করেই প্রতি বছর পাট বিক্রি করতে পারতাম।
তিনি বলেন, গতবার পাটের দাম না পাওয়াতে এবছর অনেক কৃষক পাটচাষ করেনি। এছাড়া এবছর আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, খালে প্রয়োজনীয় বর্ষার পানি না আসায় আমরা পাট গাদা এবং পঁচানোর জন্য অনেক দূর যেতে হচ্ছে। এতে শ্রম ও খরচ দুটোই বাড়ছে। কিন্তু দামের বেলায় সেই হিসাব মিলাতে পারিনা। আমাদের যদি সরকার একটা দাম নির্ধারণ করে দিতো তাহলে আমরা কৃষকরা উপকৃত হতাম। কিছু টাকা হয়তো আমাদের থাকতো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, এ উপজেলায় প্রচুর খাল- বিল, নদ- নদী থাকার কারণে কৃষকরা সহজেই পাট পঁচাতে পারে। আমরা কৃষকদের পাট চাষে উদ্ধুদ্ধকরণ এবং মাঠ পর্যায়ে পাট চাষীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ায় পাটের ভালো ফলন হয়েছে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ০:২৮:১৬ ৪৯৭ বার পঠিত | ● নসিরনগর ● পাট ● ফলন ● বাম্পার