ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুকুল দূর্বৃত্তদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার রাতে নবীনগর পৌর সদর এলাকায় পদ্মপাড়া নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। তাকে দ্রুত আহত অবস্থায় নবীনগর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা রেফার করেন। পরে তাকে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপালে ভর্তি করা হয়।
তবে শনিবার তার অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানা গেছে। মুকুলের সঙ্গে থাকা জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী জানায়, ‘মুকুল ভাইয়ের অবস্থা ভালো নয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে তার সিটি স্ক্যান করার পর ডাক্তার জানিয়েছেন, তার দেহের তিনটি গুলি মূত্র থলি, কিডনি ও লাঞ্চে এফেক্ট করেছে।
জানা যায়,উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নে ও শিবপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে দলের রাজনৈতিক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে রাতে একাই নবীনগর সদর পদ্মপাড়ায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি আসলে পিছন দিক থেকে কতিপয় দুর্বৃত্ত তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায়।
সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান জানান,তার শরীরের পিছনে তিনটা গুলি লেগেছে, পিঠের মাঝ বরাবর দুটি গুলি ও তা পাছায় একটি গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক,দ্রুত তাকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
স্থনীয়রা জানায়, গুলিবিদ্ধ নেতা মফিজুর রহমান মুকুলের তার নিজস্ব কোন ব্যাবসা বানিজ্য নেই,তিনি ফুল টাইম একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ,এলাকায় কোনদিন ব্যক্তিগতভাবে কারোর সাথে দ্বন্দ্বে জড়াননি,ব্যক্তিগত কোন শত্রুু থাকার কথা নয়।
স্হানীয় রাজনৈতিক নির্ভরযোগ্য একটি গোপন সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর উপজেলা বিএনপি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত রয়েছে। রাতেই তিনি নাকি তার স্ত্রীকে জানিয়েছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় শিকার,তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যই গুলি করা হয়েছে।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর ইসলামকে বলেন, ঘটনার খবর শুনেই পুলিশের সার্কেল স্যার (এডিশনাল এসপি)সহ আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যে তিনটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।’
এটি কি পলিটিক্যাল কোনো ভায়োলেন্স নাকি ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, ‘দুটো বিষয়কে সামনে রেখেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।ওই এলাকার সকল সিসি ক্যামেরাগুলো পরিক্ষা নিরীক্ষা চলছে।
মামলাও প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। আমাদের ইনভেস্টিগেশন চলছে। অপরাধী যেই হোক আমরা খুঁজে বের করবই।
এই ঘটনায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম এ মান্নান, জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ও কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুনুর রশিদ এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের দলের মাঝে রাজনৈতিক কোন দ্বন্দ্ব নেই,মুকুল অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র ছেলে,কারোর সাথে কোনদিন তার কোন দ্বন্দ্ব ছিল বলে শুনিনি।নবীনগর আমরা সকল রাজনৈতিক দল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করে আসছি। তারা দ্রুত সন্ত্রাসীদের খুঁজে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে শনিবার বিকেলে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর মার্কেটস্থ বিএনপি’র উপজেলা কার্যালয়ে এডভোকেট এম এ মান্নানের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান সবুজের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা ও দোয়া মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি গোলাম হোসেন খান টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজুসহ দলের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা/কর্মীরা।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪৮:৩৮ ৩৩২ বার পঠিত | ● গুলিবিদ্ধ ● দ্বন্দ্বে ● নবীনগর ● বিএনপি নেতা ● ব্যাক্তিগত