ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ রোপন করে অনন্য অবদান রেখে চলছে অরন্য। সেচ্ছাসেবী সংগঠন অরন্য নিরবে জীবও বৈচিত্র, পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় তালগাছ নিমগাছসহ পরিবেশ বান্ধব ২২ হাজার গাছ লাগিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি। গাছ প্রেমিক মো.আব্দুস সোবহান জুয়েলের উদ্যাগে গড়ে উঠা সংগঠনটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে বজ্র পাত রোধে ২টি করে তাল গাছসহ বৃক্ষ রোপন ও ১৩ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে টাকা ছাড়াই গাছের চারা রোপন ও বিতরন করেছেন।
১৬টি নদ নদী বেষ্ঠিত কৃষি নির্ভর কুড়িগ্রাম জেলায় প্রতি বছর নদী ভাঙ্গন,বন্যা, খরা,বজ্রপাতসহ বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। ফলে এখানে পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব অনেক বেশী। এতে করে জেলায় বসবাসকারী মানুষজন, অর্থনৈতিক,সামাজিক ভাবে ক্ষয় ক্ষতির শিকার হন। প্রাকৃতি দুর্যোগ, পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব কমিয়ে আনতে বেশী করে গাছ লাগানোকে উৎসাহিত করতে গাছ প্রেমি উচ্চ শিক্ষিত কিছু তরুনদের সমন্ময়ে সংগঠনটি গঠন করে নিজেরাই অর্থ দিয়ে সমাজ সেবা মুলক কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করেন। উদ্দোশ্য সবুজায়নের লক্ষে সংগঠনের নাম দেন অরন্য”।
তাদের মুল স্লোগান ”একটি করে গাছ লাগাই জীবনও পরিবেশ বাচাই”। এভাবে বৃক্ষ রোপনের মত মহত সমাজিক কাজটি করে যাচ্ছে অরন্য। তাদের দেয়া তথ্যমতে জেলার ৮টি উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু করেন। সংগঠনটি শুরুর দিকে ধীর গতিতে কাজ করলেও ২০২২ সাল থেকে পুরো দমে কাজ শুরু করেন। গত ৩ বছরে বজ্রপাত রক্ষাকারী তাল গাছ,পরিবেশ বান্ধব নিম গাছ, খেজুর গাছ, বকুল গাছ,কৃঞ্চচুড়া ও বাবলা গাছের ২২ হাজার গাছের চারা রোপন করেন। ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্টান,১০ কিলোমিটার বাধের রাস্তা,৬টি সড়ক ১০ কিলোমিটার, ২৫০টি নবজাতকের বাড়ীতে ৫০০,৮টি মসজিদ.৬টি ঈদগাহ মাঠ ও নদী ভাঙ্গন রোধে নির্মিত টি বাঁধে এ সব বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। প্রাইমারী স্কুল গুলোতে বেশী গাছ রোপন করা হয়েছে। শিশুদের সাথে গাছ গুলোও বেড়ে উঠবে বলে জানান তারা।
অরন্যের সভাপতি মো. আব্দুস সোবাহান জুয়েল বলেন,বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংগঠন রয়েছে। তাদের কাজ গুলো সাময়িক মানুষের কল্যানে কাজ করে। আমরা একটু ভিন্ন ধর্মী, দীর্ঘ মেয়াদী এবং পরিবেশ রক্ষা,সবুজায়ন সহ মানুষকে গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করা অরন্যের মুল লক্ষ্য হিসাবে বেচে নিয়েছি।
সংগঠনের উপদেষ্টা মো. নুর আমিন বলেন,অন্নান্য সামাজিক কাজের চেয়ে বৃক্ষ রোপন করা অনেক মহত কাজ। এ কাজটি দীর্ঘ স্থায়ী ও এর সুফল সকল মানুষ উপভোগ করবে অনন্ত কাল। গাছ ছায়া দেয়,অক্সিজেন দেয়, জ্বালানী দেয়,সর্বপরি জীবনকে নিরাপদ রাখতে গাছের বিকল্প নাই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জলবায়ুর বিপর্যয়ের জীব ও বৈচিত্র হুমকির মুখে। তাই পরিবেশ রক্ষায় এ কাজকে আমরা বেঁচে নিয়েছি। যত দিন বাচব এ কাজ করে যাব। একদিন দেখবেন পুরো জেলা সবুজায়ন হয়েছে।
হযরত ফাতিমা(রাঃ)স্কুল এন্ড কলেজর অধ্যক্ষ হাফিজ রুহুল আমিন বলেন,জলবায়ু পরিবর্ত্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে মোকাবিলা করতে বেশী বেশী গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের বিকল্প নাই। অরন্য’আমার প্রতিষ্টানে ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা দিয়েছে। এটি একটি মহত উদ্দ্যোগ।
স্থানীয়রা জানান,গাছ গুলো বড় হলে এলাকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করবে এবং বাঁধ গুলো টেকসই হবে। মানুষ এর ছায়া গ্রহন করবে। এমন কাজের প্রসংসা করেন তারা। নন্দুনেফরা গ্রামের নাজমা আকতার বলেন, নাগড়াকুড়া টি বাঁধে কৃঞ্চচুড়া গাছ গুলো তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁধটিকে রক্ষা করবে। ভ্রমন পিপাসুদের ছায়া দিবে। আনন্দ দিবে। টি বাঁধের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করবে। যে কাজটি আমরা এলাকার মানুষ করতে পারিনি এ সংগঠনটি তা করিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিল। এখন আমাদের দায়িত্ব গাছ গুলোকে রক্ষা করা।
টি বাঁধে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ফুল মিয়া বলেন, এখানে মানুষ ঘুরতে আসে চিত্তবিনোদনের জন্য, কিন্ত গাছ না থাকায় রোদে বড় কষ্ট হয়। গাছ গুলো রোপন করে মহতি কাজ করেছে। যারা করছে তাদের ধন্যবাদ জানাই।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:১২:৪৬ ৬১ বার পঠিত | ● অরন্য ● উলিপুর ● বৃক্ষ প্রেমী