ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি! ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস সাধু বাবার আস্তানায় ধর্ষণের শিকার নারী টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন খোকন কলাপাড়ায় সৌদিপ্রবাসী নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহন হয়নি, ফেরত গেল বরাদ্দের টাকা

পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহন হয়নি, ফেরত গেল বরাদ্দের টাকা


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫


 পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহন হয়নি, ফেরত গেল বরাদ্দের টাকা

কুড়িগ্রাম: কারিগড়ি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর লক্ষে ২০১৯ সালে ৩২৯টি উপজেলায় সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (দ্বিতীয় পর্যায়ে) করার উদ্দ্যোগ নেয় সরকার। উলিপুরসহ জেলার কয়েকটি উপজেলা রয়েছে। প্রতিটি অবকাঠামো নির্মানে বরাদ্ধ দেয় ১৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। ২ বছর আগে নাগেশ্বরী উপজেলা অবকাঠামো নির্মান করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।

তবে উলিপুরে ভবন নির্মান তো দুরের কথা মেয়াদ কাল শেষ হলেও এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত ১৫ কোটি টাকা ফেরত গেছে। একই কারনে রাজারহাট, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বরাদ্ধ ফেরত গেছে।
সংশিষ্টরা বলছেন, উলিপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের(টিএসসি)জন্য পাঁচ বছরেও জমি অধিগ্রহন না হওয়ায় বরাদ্ধের ১৫ কোটি টাকা ফেরত গেছে। কী কারনে অধিগ্রহন হলো না তারও কোন সদুত্তর নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। অথচ কলেজটি স্থাপন হলে কর্মসংস্থানের পাশা পাশি নদী কবলিত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে ভুমিকা রাখতে পারত প্রতিষ্টানটি।
জানা গেছে,তিন একর জমিতে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন বিশিষ্ট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ নির্মান হবে। কলেজে থাকবে প্রশাসনিকও একাডেমিক ভবন, ২০০ শয্যার শিক্ষার্থী নিবাস,শিক্ষক ডমেটরি, শহীদ মিনার, ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের তখ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে বরাদ্ধের টাকা নিয়ম অনুযায়ী ফেরত চলে যায় বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে।
তথ্য প্রযুক্তির যুগে কারিগরি শিক্ষা অপরিহার্য্য উল্লেখ করে বিশিষ্ট লেখক ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আবু হেনা মোস্তফা বলেন,উলিপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ হলে দরিদ্র পিড়িত এলাকার শিক্ষার প্রসারে ভুমিকা রাখত। কিন্ত পাঁচ বছর পার হলেও কার গাফিলতির কারনে জমি অধিগ্রহন হলো না এবং বরাদ্ধে টাকা ফেরত গেল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশিষ্ট দপ্তর সুত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্টাটি স্থাপনের জন্য উলিপুর বাস টার্মিনালের পাশে হায়াৎ খাঁ মৌজায় তিন একর জমির প্রস্তাব পাঠানো হয়।এরপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর জমির কাগজ ও ভিডিওসহ অধিকতর সুবিধাজনক জমি পাওয়া গেলে তার প্রস্তাব ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসককে পাঠাতে বলা হয়। মিক্ষা অধিদপ্তরের (কারিগরি) তৎকালিন প্রকল্প পরিচালকও অতিরিক্ত সচিব ড. মাসুম আহাম্মেদ চৌধুরী এ নিদের্শ দেন।
একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) নিশাত তামান্না জমির পুনাঙ্গ প্রস্তাব পাঠানোর জন্য উলিপুর সহকারী কমিশনারকে (ভুমি) চিঠি দেন। যথা সময়ে প্রস্তাব না পাওয়ায় ২০২৩ সালে ২৫ জানুয়ারী আবার বিকল্প প্রস্তাব চেয়ে উলিপুর সহকারী কমিশনারকে (ভুমি)চিঠি দেওয়া হয়।

এরপ্রেক্ষিতে উলিপুর সহকারী কমিশনার(ভুমি) ২০২৪ সালের ১১ জুলাই রামদাস ধনিরাম মৌজার ব্যক্তি মালিকাধিন তিন একর জমি অধিগ্রহনের বিকল্প প্রস্তাব দেন। প্রকল্প সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত জমি এলাকা পরিদর্শন করে পুকুর বাদ দিয়ে প্রকল্পের চাহিদা মোতাবেক জমির কাগজপত্রসহ সংশোধিত পুনাঙ্গ প্রস্তাব ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরনের জন্য ২৫ আগষ্ট ২০২৪ জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন প্রকল্প পরিচালক( যুগ্ন সচিব) ড. মো. মশিউর রহমান। কিন্ত এর পর আর কোন কার্যক্রম না থাকায় জমি অধিগ্রহন করা যায়নি। ইতিমধ্যে গত ২০২৪ সালে ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফেরত গেছে প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত টাকা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি কয়েকদিন হয় এখানে যোগদান করেছি। তাই এ বিষয়ে অবগত নই। জেনে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
সহকারী কমিশনার(ভুমি) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি কিছু জানি না। আমি খোজ খবর নিয়ে দেখব কি অবস্থা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম মোস্তফা বলেন, কলেজটি হলে নদী কবলিত দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা অল্প খরচে লেখা পড়ার সুযোগ পেত। কলেজটি না হওয়াকে দুঃখজনক। সেই সাথে অনেক গরিব শিক্ষার্থী সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহন না হওয়ায় অবকাঠামো নির্মানে উদ্দ্যোগ নেয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের টাকা নিয়ম অনুযায়ী ফেরত যাবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৭:২৯   ৭৩ বার পঠিত  |            







রংপুর থেকে আরও...


উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা
আগুন-লোহার টুংটাং শব্দে মুখর চারপাশ,দম ফেলানো সময় নেই কামারশালয়
নীলফামারীর খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ
রাজারহাটে জাতীয় বিজ্ঞান- প্রযুক্তি সপ্তাহ
উলিপুরের ক্ষীরমোহন এখন দেশ ছেড়ে বিদেশে



আর্কাইভ