ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম

খুলনা: পাইকগাছায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মধুমিতা পার্কের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিস বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মধুমিতা পার্কের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও বহাল তবিয়তে রয়ে যায় আ’লীগের উপজেলা অফিস। আদালতের রায় কার্যকর না হওয়া অসন্তোষ দেখা দেয় সচেতন নাগরিকদের মাঝে। অবশেষে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় উপজেলা আ’লীগের অফিস।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার ভূমি ফজলে রাব্বী। এসময় উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জানা গেছে,পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মধুমিতা পার্ক। যা জনৈক মাদার মন্ডল তার স্বত্ব দখলীয় বাতিখালি মৌজার সাবেক ৯১ খতিয়ানের ১৭১, ১৭২ দাগের ১.০৭ একর জমি ভারত সরকারের নামে দান করেন। দানীয় জমিতে পুকুর খননের মাধ্যমে এলাকার মানুষের মিষ্টি পানির অভাব দূর হতে থাকে।
ওই পুকুরের পানি মিষ্টি হওয়ায় এলাকার লোকজন পুকুরটির নাম দেন মিষ্টি পুকুর। এরপর ১৯৮০ সালে তৎকালীন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মিষ্টি পানির পুকুরটির সংরক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে খুলনার জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম পুকুরটির প্রাচীরের মধ্যে চলাচলের জন্য চারি পাশে রাস্তা নির্মাণ করেন এবং লোকজনের বসার জন্য পাকা বেঞ্চ, পাকা ঘাটসহ চারি পাশে বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ রোপণের মাধ্যমে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
এরপর স্থানটির নাম হয় মধুমিতা পার্ক। যা উদ্বোধন করেন তৎকালীন খুলনার জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম। ঐ সময় থেকে একমাত্র চিত্তবিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে মধুমিতা পার্ক এবং পার্কের অভ্যন্তরে থাকা মিষ্টি পানির পুকুরটি এলাকার পানির অভাব দূরীকরনের একমাত্র আঁধার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এ অবস্থায় মধুমিতা পার্ক ও মিষ্টি পুকুরের উপর কু-নজর পড়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ীদের। তারা খুলনা জেলা পরিষদের কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগ করে পার্কের প্রাচীর ও রাস্তা ভেঙে পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেন।
তখন সচেতন মহল মধুমিতা পার্ক সংরক্ষণ কমিটি গঠন করে প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পার্কটি সংরক্ষণের জন্য আবেদন-নিবেদন করতে থাকেন। ব্যর্থ হয়ে সহকারী জজ আদালত পাইকগাছায় অবৈধ বন্দোবস্ত ও দখলকারিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা করেন ও নিষেধাজ্ঞা পান। অপর দিকে পাইকগাছার অবৈধ দখলকাররা তা অমান্য করে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করতে থাকেন। পরবর্তীতে পার্ক সংরক্ষণ কমিটি তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পীকারের শরণাপন্ন হন এবং তার পরামর্শে বিগত ২০০৫ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন।
যার নং-৩৫৯০/০৫। হাইকোর্ট মামলাটির শুনানি অন্তে বিগত ২০০৫ সালের ২৪ মে মধুমিতা পার্কের অভ্যন্তরে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করার আদেশ দেন। সরকারি কর্মকর্তা এবং অবৈধ দখলদাররা হাইকোর্টের আদেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ স্থাপনা রেখে কেউ কেউ নিজে দোকান দিয়ে ব্যবসা করেছেন। আবার কেউ কেউ অগ্রিম মোটা অংকের টাকা ভাড়া নিয়ে দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে তাদের অবৈধ স্থাপনাসহ দখল বজায় রাখেন।
বিষয় উল্লেখ করে মধুমিতা পার্ক সংরক্ষণ কমিটি হাইকোর্টে কোর্ট অব কন্টেম পিটিশন দাখিল করেন। যার নং ১০২/২২। উক্ত পিটিশন কয়েক দফায় শুনানীঅন্তে গত ১৩ মার্চ ২০২৩ তারিখে হাইকোর্ট মামলার বিবাদীদেরকে আগামী ২০ দিনের মধ্যে মধুমিতা পার্কের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মধুমিতা পার্কটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। ঐ সময়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। থেকে যায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, আদালতের নির্দেশে মধুমিতা পার্কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:২২:৪২ ৪৪ বার পঠিত | ● অফিস ● আ'লীগ ● পাইকগাছায ● পার্ক ● মধুমিতা