ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
সরকার ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা–ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে আজ ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছে পুলিশ। এরপর তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়।
![]()
রাকিবুল হাসান রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থাকা অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে রাকিবুল হাসানকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।
অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরদিন রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে রাজধানীর রাজারবাগে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করে ডিএমপি।
ওই দিন রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে পরদিন (১৮ সেপ্টেম্বর) ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
এরপর এক সপ্তাহ রাকিবুল হাসান কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। আজ তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানান ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার ওই কমিটি ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এরপর আজ রাকিবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
অডিওতে কী বলেছিলেন রাকিবুল
অডিওতে পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’
ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা,…নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’
অডিওতে রাকিবুল হাসান পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের পদায়ন দেওয়ার অভিযোগ করেন।
মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।’
রাকিবুলের বিরুদ্ধে মামলায় যা বলা হয়েছে
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আসামিকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৬:৫৯ ৩ বার পঠিত |