ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ফরিদপুর: ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফয়জুল হক মুন্সীর অবস্থা আশংকাজনক ও একই ওয়ার্ড সদস্য ইদ্রিস মোল্লার বাম হাত কেটে ফেলার খবর পাওয়া গেছে। তাদের দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
আজ রবিবার সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো: সাঈদ মুন্সী জানান, ভাঙ্গায় দুই ধারায় বিএনপির রাজনীতি বিভক্ত। এক পক্ষের শহীদুল ইসলাম বাবুল এবং শামা ওবায়েদ। আমরা শহীদুল ইসলাম বাবুল ভাইয়ের পক্ষের। সম্প্রতি, ভাঙ্গায় কৃষক দলের কর্মীসভা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন শামা ওবায়েদ ও সাবেক, ভাঙ্গা বিএনপির সভাপতি খন্দকার সেলিমের সমর্থক ঘারুয়া ইউনিয়নের সাবেক বিএনপির সভাপতি আনোয়ার মাতুব্বর ও সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হক মুন্সীর লোকজন। সেই জের ধরেই আজকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ঘারুয়া ইউনিয়নের খারদিয়া ৮ নং ওয়ার্ডের কৃষক দলের সভাপতি করিম মোল্লা জানান, গত ২৫ তারিখে মালিগ্রামে কৃষক দলের কর্মী সভায় আমরা নেতাকর্মীরা অংশ নেই। সেখানে প্রতিপক্ষের চান মিয়া মাতুব্বর, ইয়াদ আলী মীর গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায় আমাদের লোকজন। সেই জের ধরে গতকাল রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কৃষক দলের কর্মী মল্লিক ফরাজী, আনসার মীর, তোতা খলিফা সহ ৭-৮ নেতা কর্মীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায় প্রতি পক্ষের লোকজন। এরপর আজ শনিবার সকালে শরিফাবাদ বাজারে পুনরায় তার পক্ষের কৃষক দলের নেতাকর্মীকে মারধর করেন নান্নু, ইয়াদআলী, জাহাঙ্গীর খলিফা ও কুতুবউদ্দিন ফরাজীর লোকজন। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরে দুই গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। করিম মোল্লা দাবি করেন, প্রতিপক্ষের চান চান মিয়া মাতুব্বর ও ইয়াদয়ালী মীর পূর্বে আ’ লীগের সমর্থিত নিক্সন চৌধুরীর কর্মী ছিলো। ৫ আগষ্টের পর তারা ভোল পাল্টে বিএনপির পরিচয় দিয়ে ক্ষমতা প্রদর্শন করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।
প্রতিপক্ষের চান মিয়া মাতুব্বর ও ইয়াদয়ালী মীরের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার সেলিম জানান, গত পাঁচ আগষ্টের পর ভাঙ্গায় অনেকেই আওয়ামী লীগ থেকে ভোল পাল্টে বিএনপি ছায়াতলে এসে দাঁড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সকালে খারদিয়া গ্রামে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের আওয়ামী লীগের লোকজন ঘারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কর্মীর উপরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় ঘারুয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ফয়জুল হক মুন্সীর অবস্থা খুবই আশঙ্কজনক, এছাড়াও সংঘর্ষে ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ইদ্রিস মোল্লার বাম হাত কেটে ফেলেন হামলাকারীরা। তাদেরকে উন্নত জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়াও আরো প্রায় ১২ জন নেতাকর্মী ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি রয়েছেন।
আহত যারা ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যারা ভর্তি রয়েছেন, ফয়সাল শেখ, কুদ্দুস শেখ, মোশক শেখ ও প্রতিপক্ষের গুরতর আহত ফয়জুল হক মুন্সী, ইদ্রিস মোল্লাকে প্রথমে ভাঙ্গা ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া আহত দুই গ্রুপের প্রায় আরও ১২ জন স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা) সার্কেল মো: আসিফ ইকবাল জানান, রাত ৭ টার আগ পর্যন্ত কোন পক্ষের অভিযোগ পাইনি। তবে এলাকায় আইজনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪০:৫৯ ১৯৩ বার পঠিত | ● আধিপত্য বিস্তার ● ফরিদপু ● বিএনপি