ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
মুন্সীগঞ্জ: অটোরিকশা চালক ও স্কুল ছাত্র রোমান শেখের (১৫) সন্ধানের দাবিতে পূর্বঘোষিত মানববন্ধন শেষে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদূখান থানা ও সহকারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার দরজা ও জানালা, সিসি ক্যামেরা, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, ডিএসবির অফিস কক্ষ, থানার ভিতরের আসবাবপত্র, পুলিশের গাড়িসহ ৫ টি গাড়ী ভাংচুর করা হয়। একই সময়ে থানার পাশে থাকা সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়। পরে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের সন্ধানের দাবীতে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে মানববন্ধনকারীরা।
খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশ সুপার সিরাজদীখান থানা পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর থেকে সিরাজদীখান থানা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সদস্যদের থানা প্রাঙ্গনে মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানান, বুধবার সকালে সিরাজদীখান উপজেলা মোড়ে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা জড়ো হয়ে মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা সিরাজদিখান থানায় অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও সিরাজদিখান থানার ওসির পুলিশ ভ্যান এবং থানা কম্পাউন্ডের ভেতর থাকা ৩ টি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীরা থানার ভেতর দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে তারা নিখোঁজ স্কুল ছাত্রের সন্ধানের দাবীতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিরাজদীখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান বলেন, মানববন্ধন শেষ করে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এসময় বেশ কিছু গাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। নিখোঁজ ছাত্রের সন্ধানে মানববন্ধনকারীরা ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে।
প্রসঙ্গত: গত ২১ শে জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে রোমান বেলতলী গঙ্গাপ্রসাদ জগন্নাথ (জি জে) উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীতে ভর্তি হয়। পরে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দুপুর ১ টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। এরপর থেকে রোমানের খোঁজ না পেয়ে ২৬ জানুয়ারি তার বাবা মিরাজ শেখ বাদী হয়ে সিরাজদীখান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। পরদিন সিয়াম (জিহাদ) (১৯), মানিক শেখ রাসেলকে এবং ১ ফেব্রুয়ারী এপ্রিল হোসেনকে (৩৯) গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারকৃত ৩ জনকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে প্রেরন করে পুলিশ। পরে এপ্রিল হোসেন জামিনে বের হয়। কিন্তু নিখোঁজ রোমানের কোনো সন্ধান মিলেনি। ফলে এ নিয়ে নিখোঁজের স্বজন, স্থানীয় গ্রামবাসী ও তার সহপাঠিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সিরাজদীখান থানা ও সহকারী পুলিশ সুপার কার্যালয় ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা।
নিখোঁজ রোমামের বাবা মিরাজ শেখ জানান, পার্শ্ববর্তী শ্রীনগর উপজেলার বেলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে এ বছরের ২১ জানুয়ারি সকালে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয় তার ছেলে। একই দিন দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বের হয় রোমান। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি।
রোমানের বোন মিতু শেখ বলেন, নিখোঁজের দিন সকালে আমার ভাই স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। ওইদিন দুপুরে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। ভাইকে খুঁজে না পেয়ে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মিন্টু বলেন, অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি অটোরিকশা চালাতো রোমান। ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় কান্নাকাটি করছে তার মা-বাবা।
বেলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. সাঈদুল কাজী বলেন, রোমানের বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। অভাবের কারণে সংসারের স্বচ্ছতা আশায় পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে অটোরিকশা চালাতো রোমান। স্কুল ছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা।
এইচ/এল
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৭:৪১ ১১৫ বার পঠিত | ● এএসপি ● থানা ● ভাংচুর ● মুন্সীগঞ্জ ● সিরাজদীখান