ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: উজিরপুর জেলার শিকারপুর সন্ধ্যা নদীর খোয়া ঘাটের ট্রলার চালক মাহাবুল হাওলাদার অপহরণের ১১ দিন পর হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে ১১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বাবুগঞ্জ ও মুলাদী থানা পুলিশ পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবারী আসামীদের নিয়ে সুগন্ধা ও আরিয়াল খা নদীর মোহনায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল নিয়ে দিনভর চেষ্টা চালিয়ে মোল্লার হাট পয়েন্টে নদীর মধ্যে বস্তা বন্দি মাহবুলের লাশ উদ্ধার করেছে।
আপন চাচাকে হত্যা করে তার দেহের সাথে ব্লক বেধে নদীতে ফেলে দিয়ে ১১ দিন ধরে নিজে পুলিশের সাথে থেকে চাচাকে জীবিত উদ্ধারের জন্য নানা নাটক করেছিলো বখাটে সুজন হাওলাদার (৩০) এমনকি ট্রলার বন্ধ রেখে ৫ ফেব্রয়ারী বুধবার সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া বাজারে বিক্ষেভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে পুলিশের সাথে চা খেয়ে তার চাচাকে জীবিত উদ্ধারের অল্টিমেটামও দিয়েছিলেন।
ট্রলার চালক মাহাবুল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের মুল ঘাতক নিহত মাহাবুলের ছোট্র ভাই শহিদুলের পুত্র সুজন হাওলাদারের তথ্য ও দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে বস্তা বন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মাহাবুল হাওলাদার বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম মুন্ডপাশা গ্রামের সেকান্দার আলী হাওলাদারের পুত্র।১২ ফেব্রুয়ারী বুধবার বিকালে বরিশাল জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে মাহাবুল হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ৬ জনের পরিচয় প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়া ভিকটিম মাহাবুলকে তার পরিবারের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে এবং খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বাবুগঞ্জ থানার মামলা নং-০২, তারখি-০১-০২-২০২৫খ্রি., ধারা-৩৬৪/৩৬৫/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড মূলে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ নিখোঁজ হওয়া ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেন।
নিখোঁজ হওয়া ভিকটিমকে মুক্তির দাবীতে ভিকটিমের ছেলের নিকট মুঠোফোনের মাধ্যমে একটি ফোন কল আসে। উক্ত ফোন কল এর প্রেক্ষিতে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ মামলার রহস্য উদঘাটনে বরিশাল জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শরিফ উদ্দীন এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আলাউল হাসান, বাকেরগঞ্জ সার্কেল, বরিশাল মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় অফিসার ইনর্চাজ, বাবুগঞ্জ থানা এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিরস্ত্র)/মোঃ আনোয়ারুল হক সহ সঙ্গীয় ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করে।
বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদকালে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে আরও ৪ জন আসামীর নাম প্রকাশ করে। বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার সাথে সম্পৃক্ত আরো ০৪ (চার) জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, ভিকটিম মোঃ মাহাবুব হাওলাদার’কে অপহরনপূর্বক পিছনে হাত বেঁধে পায়ে ইট বেঁধে তিন নদীর মোহনায় ফেলে দেয়া হয়। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত গ্রেফতারকৃতরা হলেন বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা গ্রামের -মোঃ শহিদুল ইসলাম হাওলাদার পুত্র মোঃ সুজন হাওলাদার(২৫) মুলাদী থানার বড়ইয়া কাজীরচর এলাকার সামছুল হক হাওলাদার পুত্র নাঈম হাওলাদার(২৩),উজিরপুর থারার যুগীহাটী গ্রামের -মোঃ নেজারুল হাওলাদারের পুত্র রিয়াদ হাওলাদার(২৩), মুলাদী উপজেলার খাসেরহাট কাজীরচর এলাকার আবুল খানের পুত্র সাব্বির খান (১৯) মুলাদী উপজেলার খলশীচর এলাকার জুয়েল হাওলাদারের পুত্র তাজিম হাওলাদার(১৭), ও বরগুনা জেলার লবনগোলা গ্রামের আনোয়ার কন্টকাটারের পুত্র তাসিন হাওলাদার (১৬) বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে নিহত মাহাবুলের লাশ ময়না তদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ী উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা গ্রামে দাফন করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন , পারিবারিক বিরোধ ও শিকারপুর ট্রলার ঘাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ হত্যাকান্ডের মূল কারন। নিহত মাহাবুল বিনয়ী স্বভারের মানুষ হলেও তার পরিবারের অন্যরা আপন ভাই ও ভাই’র ছেলেদের সাথে বিরোধ ছিলো যা শিকারপুরের প্রায় সব মানুষই জানতো। নিহত মাহাবুলের বড় ভাই জামাল হোসেন ও ছোট্র ভাই শহিদুল হাওলাদার এক পক্ষে থাকার কারনে মাহাবুল কেনাঠাসা হয়ে ছিলো।
খেয়াঘাটের ইজারা ডাকে টেন্ডারে মাহাবুলকে বিতারিত করে বড় ভাই জামাল হোসেন নিজের নামে আনেন তারপর থেকে দু ভাই শহিদুল ও জামাল হোসেন নিহত মাহাবুলকে খেয়াঘাটে ট্রলার চালাতে দিতে রাজি ছিলেন না মাহাবুল স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে কান্না কাটি করার পর ওই ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে মাসে ১০ দিন মাহাবুলের ট্রলার ঘাটে চলাচলের অনুমতি পান।
ভাইদের পক্ষ অবলম্বন করা মাহাবুলের পিতা সেকান্দার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে মাহাবুলকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছিলো অল্প ক’দিন আগে সে মামলায় আদালত থেকে মাহাবুল অব্যাহতি পান। আগষ্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর মাহাবুলের ট্রলারটি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বেশ কয়েকদিন মাহাবুলের ট্রলার বন্ধ থাকার পর তার বাড়ির পাশে জেলা বিএনপির এক নেতার কাছে গিয়ে মাহাবুল তার পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটানোর বর্ননা দিলে ওই নেতার হস্তক্ষেপের কারনে মাহাবুল শিকারপুর ঘাটে পুন: রায় ট্রলার চালাতে শুরু করেন।
বরিশাল জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রাধীন ১৪৩২ বাংলা সালের টেন্ডারে শিকারপুর খেয়া ঘাটের মাহাবুল ইজারা নিবে এমন শংকায় শহিদুলের পুত্র সুজন হাওলাদার ৩১ জানুয়ারী শুক্রবার রাত মাহাবুলকে আপহরন করে হত্যাকরে লাশ বস্তা বন্দি করে নদীতে নিক্ষেপ করেন। শিকারপুর বাজারের একাধিক ব্যাবসায়ী জানিয়েছেন, ট্রলার চালক মাহাবুলের সাথে পারিবারিক বিরোধ ও ঘাটের টেন্ডার ইজারা কারনে তার ভাইদের সাথে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ চলছিলো সে কারনেই জীবন দিতে হলো মাহাবুলের।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, দু উপজেলা উজিরপুর-বাবুগঞ্জ নদীপারাপারের ট্রলার চালক মাহাবুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৬ কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক নিহত’র ভাতিজা সুজন হত্যাকান্ডের বর্ননাসহ আদালতে জাবান বন্দি দিয়েছেন। ঘাতক সুজন হাওলাদার হত্যাকান্ডটি বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে নানা ভাবে ছলচতুরীর আশ্রয় নিয়েও ব্যার্থ হয়েছে। বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি নিবিড় ভাবে তদন্ত করছে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ২০:২৫:২৪ ২৮৫ বার পঠিত | ● উজিরপুর ● বরিশাল ● হত্যা