ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান দোকান শ্রমিক মো. হাসান। পরদিন ৬ আগস্ট ফেইসবুকে ভিডিও দেখে ছেলের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হলেও তার লাশ পেতে সময় লেগেছে সাড়ে ৬ মাস। ডিএনএ পরীক্ষার পর
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্র) শনাক্ত করা হয় হাসানের মরদেহ। ঢাকা মেডিকেল থেকে লাশ বুঝে পাওয়ার পর শনিবার সকালে আনা হয় ভোলার বাড়িতে। হাসানের লাশ তার ভোলার বাড়িতে আনার পর স্বজনদের আহাজারিতে সৃস্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ। এমন নৃশংস হত্যার বিচার চয়েছেন সন্তান হারা পরিবার। দ্বিতীয় জানাযা শেষে দাফন করা হয়েছে বাড়ির পাশের মসজিদের কবরস্থানে।
শনিবার সকালে হাসানের লাশবাহি গাড়ি এনে রাখা হয় সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের সাহামাদর গ্রামের বাড়ির সামনে। এসময় বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। এর মধ্যেই কফিনে রাখা ছেলে মরদেহ ঘরে তুলতে বার বার ছুট আসছিলেন মা গোলেনুর বেগম। কোন বাধাই তাকে আটকানো যাচ্ছিল না। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে ৬ মাস পর ছেলের মরদেহ পেয়ে পাগল প্রায় মা। দিশেহারা মায়ের গগণ বিদারী বিলাপ। মো. হাসানের বাবা মনির হোসেনের ছোট্ট বাড়িতে সমবেদনা জানাতে ছুটে আসা পাড়া প্রতিবেশি ও স্বজন সবাই একই শোকে কাতর।
নিহতের বাবা মনির হোসেন জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের কবল থেকে দেশকে মুক্তির জন্য অন্যদের মতো দোকান শ্রমিক হাসানও ৫ আগস্ট বিকালে যাত্রাবাড়ির সুতিখালপাড় এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে বের হয়ে মিছিলে অংশ নেন। এর পর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না হাসানের। পরদিন (৬ আগস্ট) যাত্রাবাড়ি রাস্তার উপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়ে তার প্যাঁচানো হাসানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ছবি দেখে হাসানকে চিনতে পারলেও সন্ধান মিলছিল না। মানববন্ধন, মাইকিং ও সামাজিক মাধ্যমে অনেক প্রচার- প্রচারণা চালিয়েছেন।
অনেক খোঁজাখুজির পর গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে থাকা মো. হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবার।
১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ি থানার মাধ্যমে হাসানের বাবা- মায়ের ডিএনএ’র নমুনা দেয়া হয় সিআইডিকে। বাবা-মায়ের সাথে ডিএনএ মিলে যাওয়ায় বহস্পতিাবর (১৩ ফেব্র) সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে মারদেহের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রথম জানাযা শেষে তার লাশ নিয়ে গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে কফিন মিছিলও করা হয়।
এদিকে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে হাসানের মরদেহ আনা হয় তার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের সাহামাদার গ্রামের বাড়িতে। অনেক খোঁজাখুজি আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া মো. হাসানের মরদেহকে ঘিরে চারিদিকে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকল ১০ টায় জাতীয় পতাকায় মোড়ানো হাসানের দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় সাহামাদার হাই স্কুল মাঠে। দাফন করা হয় বাড়ির পাশের উত্তর সাহামাদার মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে। ছেলের মরদেহ দাফন করে এসে এমন নৃশংস হত্যা বিচার চেয়েছেন নিহতের বাবা মনির হোসেন সহ স্বজনরা।
এদিকে লাশ দাফনের পর হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ফ্যাসিবাদ নিমুল ও আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে শ্লোগান দেন। এছাড়া নিহতের অসহায় পরিবারের সহায়তা চেয়েছেন মিছিলকারীরা।
চার ভাই বোনের মধ্যে মো. হাসান সবার বড়। দরিদ্র বাবাকে আর্থিক সহায়তার জন্য ৮ বছর আগে ঢাকার কাপ্তান বাজারে একটি ইলেকটনিক্সের দোকানে চাকুরী নেন তিনি। ৫ আগস্ট সরকার বিরোধী মিছিলের গিয়ে নিহতের প্রায় সাড়ে ৬ মাস পর লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরলেন হাসান।
এন/ এন
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫১:২৫ ১১৫ বার পঠিত | ● ছাত্র আন্দোলন ● নিহত ● ভোলা ● হাসান