ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: বাউফলের মদনপুরার চন্দ্রপাড়া গ্রামে গণকবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মানে বাঁধা ও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর অভিযোগে স্থানীয় শিপন,নাহিদ,জামাল আবু মোতালেবসহ ১০ যুবকের বিরুদ্ধে গত ১২ ফেব্রুয়ারী পটুয়াখালী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন ওয়াকফ স্টেট ও মোতোয়ালি মুশফিকুর রহমান।
বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে বাউফল থানা অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি এজাহার পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। কিন্তু বাউফল থানা পুলিশ মামলাটি এজাহার নিলেও মামলার এজাহার সম্পর্কিত তথ্য উপাথ্য সংগ্রহ পুর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে বাদি শংকিত হয়ে পড়েছে।
মামলা সুত্রে জানাগেছে, গনকবরস্থানের জমি ৩৭১ খতিয়ানের মালিক আজাহার ব্যাংকের কাছে ১৯৮৭ সনে বন্ধক রেখে ঋন নেন। পরেও তথ্য গোপন করে ১৯৯৫ সনে প্রয়াত আব্দুল খালেক মাতব্বরের কাছে ব্যাংকে মর্গেজ রাখা জমি বিক্রি করেন।এর পরে ১৯৯৯ সালে আব্দুল বারেক মাতব্বর মারা যান। ২০০৬ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খেলাপী হিসাবে দেয়া জমি আজাহার মৃধার জমি নিলামে দেন পটুয়াখালী অর্থঋন আদালত।
জমি স্থানীয় চন্দ্র পাড়া গ্রামের তংকালিন এ্যাড মুজাহিদুল ইসলাম নিলাম ক্রয়সুত্রে দখল নামা,বয়নামা এবং রেকর্ডীয় সুত্রে মালিক হয়ে আজাহারের ভোগদখলীয় ১৭৪৩ দাগে ৫৭.৫০ শতাংশ জমি ভোগদখল প্রদান করেন। পরে আরো এ দাগে আরো ১৭ শতাংশ জমি কবলাসুত্রে তিনি মালিক হন। স্থানীয় জনমানুষের দাবী ফলে বর্তমান ব্যারিষ্টার মুজাহিদুল ইসলাম গ্রামের অনাথ,গরীব মানুষের জন্য একটি গণকবরের জন্য অক্ষয় ও মোত্তালি করে দেন। গনকবরটি রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য একজন মোত্তালি মুশফিকুররহমানকে দায়িত্ব দেন।
গনকবরের বাউন্ডারি ওয়াল দিতে গেলে স্থানীয় যুবক,শিপন,নাহিদ,জামাল আবু মোতালেবের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি যুবক লাঠি সোটা,সাবল,লোহার রড নিয়ে মুশফিকুররহমানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে ওয়াল করতে হলে তাদের ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। পরে এঘটনায় বাদি হয়ে পটুয়াখালী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি চাঁদাবাজি ধারায় আদালতে নালিশী পিটিশন করেন।
এ বিষয়ে মুশফিকুর রহমান জানান, গনকবরটি এলাকার স্বার্থে ব্যারিস্টার মুজাহিদুল ইসলাম অক্ষয় ও মোতোয়ালি করে দেন। এটার রক্ষনা বেক্ষণের দায়িত্ব তিনি আছেন।কিন্তু এই ভালো কাজটিতে স্থানীয় শিপন,নাহিদসহ ১০ যুবক চাঁদা না দিলে কাজ করতে দিবেনা বলে হুমকী দেয়। আদালতে মামলা করেছি,থানায় এজাহার নিয়েছে।কিন্তু আসামী না ধরায় সে হুমকীতে আছেন।
এ বিষয়ে নাহিদুল ইসলাম বলেন,আমরা কোন চাঁদা কিংবা ভয়ভীতি দেখাইনি। তবে এ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির সাথে।
ব্যারিস্টার মুজাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, চাঁদার দাবীতে গনকবরস্থানের প্রায় ২৭.০৪ শতাংশ জমি জবরদখল করেছে স্থানীয় যুবকরা। মামলা হয়েছে।
বাউফল থানার ওসি তদন্ত আতিকুল ইসলাম বলেন,আদালতের নির্দেশে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি এজাহার নিয়ে তিনি তদন্ত করছেন। তদন্ত অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:০১:৩২ ১৪৪ বার পঠিত | ● গনকবর ● দখল ● বাউফল ● মামলা