ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: চরফ্যাসনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে হামলা করে সংঘবদ্ধ মামলার আসামি ছিনতাই ঘটনায় মামলা দায়েরের ৪ দিন পরও পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ছাড়াও ধর্ষণ মামলার আসামি ইসমাইলের হদিস করতে পারেনি পুলিশ। যুবতীকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণকা-ের ভিডিও ধারণ করার এক বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আইচা থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগী যুবতী নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, ভিক্টিম বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণকা-ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ঢালচর তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ধর্ষণ মামলার ৩নং আসামি ইসমাইলকে (২২) তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢালচর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহ আলম ফরাজী, সহসভাপতি মোক্তার ফরাজি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফেরদাউস, জিয়া পরিষদের সভাপতি মামুনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপির একাংশের শতাধিক কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ মিছিল করে তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে ইসমাইলকে ছিনিয়ে নেয়।
পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ার হোসেন। এদিকে আসামি ছিনতাই ঘটনার ৫ দিন পরও পুলিশ মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ধষর্ণ মামলার আসামি ইসমাইলের হদিস করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আইচা থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী যুবতীর সঙ্গে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোলাইমানের ছেলে ইসমাইলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ৬ মার্চ গভীর রাতে প্রেমিক ইসমাইলের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হন ভিক্টিম। এরপর ইসমাইল ভিক্টিমকে মুখচেপে পাশের মেঘনা নদীর তীরের খোলামাঠে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা লোকমান হোসেন এলাহীর ছেলে নিবির (২১), আলাউদ্দিনের ছেলে আক্তার (২০), নুরে আলম দালালের ছেলে শরীফ (১৯) এবং গণি মাঝির তুলা ছেলে মনির (২৫) ভিক্টিমকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণকান্ডের ভিডিও ধারণ করে। এজাহারে ভুক্তভোগী তরুণী দাবি করেছেন, ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেওয়ায় পরিবারের পরামর্শে এতদিন মুখ খোলেননি। কিন্তু প্রায় এক বছর পর ধর্ষণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় তিনি মামলা দায়ের করেছেন।
প্রায় ১৫ দিন আগে ধর্ষণের ভিডিওটি আসামি শরীফের আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঢালচর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ শরীফকে আটক করে। সেখানে ঢালচর বিএনপির একটি প্রভাবশালী গ্রুপের তদ্বিরে এক লাখ টাকার সমঝোতায় ১২ ঘণ্টা আটক রাখার পর পুলিশ শরীফকে ছেড়ে দেয়। শরীফ ঢালচরের স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী ঘরানার মানুষ হিসেবে পরিচিত। এদিকে ভিডিও ফাঁস, শরীফকে আটক এবং ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর ধষর্ণ মামলা দায়ের হলে পুলিশ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে। একই পুলিশের দ্বারা আওয়ামী ঘরানার আসামিকে ছেড়ে দিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির ছেলেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দলটির অপর পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে ইসমাইলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহেআলম ফরাজি ও সিনিয়র সহসভাপতি মোক্তার ফরাজীসহ সবাই গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। ঢালচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাতাব্বর বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। স্থানীয়রা জোটবদ্ধ হয়ে ওই ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে।
ঢালচর তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালে ৬ মার্চ ঢালচর ইউনিয়নে এক যুবতীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সেই ধর্ষণকা-ের ভিডিও ধারণ করার এক বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আইচা থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে ওই যুবতী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সেই মামলায় ০৩ নং আসামি ইসমাইল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢালচর ইউনিয়ন বিএনপির শতাধিক কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ-মিছিল করে তদন্ত কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন এবং সেখান থেকে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৬ জনকে আসামি করে ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিও ছড়ানোর দায়ে আটক শরীফকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শরিফ নামে এক যুবকের ফেসবুকে ধর্ষণকা-ের ভিডিওটি ভাইরাল হলে ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে ওই যুবকের ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিওটি পাওয়া যায়নি তাই তাকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে ভিক্টিম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিরা পালিয়ে আছেন। পুলিশের কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আরও একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তাই এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৯:২১ ১৯৬ বার পঠিত | ● আসামী ● চরফ্যাসন ● ছিনতাই ● পুলিশ