ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » খরস্রোতা তিস্তা এখন মরা নদী, তবুও থামছেনা ভাঙ্গন

খরস্রোতা তিস্তা এখন মরা নদী, তবুও থামছেনা ভাঙ্গন


মোন্নাফ আলী,উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫


 

 খরস্রোতা তিস্তা এখন মরা নদী, তবুও থামছেনা ভাঙ্গন

 

কুড়িগ্রাম: খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন মরা নদী। এক সময়ের বারো মাসি তিস্তা নদী এখন ৬ মাসি নদীতে পরিনত হয়েছে। কিন্ত বর্ষার এলেই তিস্তা তার পুর্বরূপ ধারন করে ভেঙ্গে নিয়ে যায় নদী পাড়ের হাজার হাজার বাড়ীঘর ও আবাদী জমি ও গ্রামের পর গ্রাম। সব হারিয়ে নিঃস্ব ভুমিহীন হয় হাজারো মানুষ। নদীর এমন ভাঙ্গা গড়ায় স্থানন্তরিত হয়েছে তিস্তা পাড়ের সহস্রাধিক পরিবার। হারিয়ে গেছে অনেক গ্রাম। বদলে গেছে এলাকার মানচিত্র। তবুও স্থায়ী ভাবে নদী শাসনের উদ্দ্যোগ নেয়নি সরকার। ভাঙ্গন দেখা দিলে আপদকালীন সময় কিছু ব্যবস্থা নেয়া হলেও তাকোন কাজে আসে না।

ফলে গত দুই যুগে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের সিংগ ভাগ এলাকা নদী গিলেছে। গৃহহারা হয়েছে ৮ হাজার পরিবার। অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের। রাস্তা ঘাট, ব্রীজ কালভাট, সরকারী বেসরকারী স্থাপনাসহ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লক্ষ কোটি টাকার। দিশেহারা তিস্তা পাড়ের মানুষ তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় জেগেছে। এখন তাদের একটাই দাবী তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্থবায়ন চাই। সেই লক্ষে গত ১৭/১৮ ফেব্রয়ারী তিস্তা পাড়ে ২দিন ব্যাপী লাখো মানুষের অবস্থান সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের তথ্য মতে,গত ২৪ বছরে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৯টি ওয়ার্ড,২৮টি গ্রাম,২৩ কিলোমিটার এলাকা, ৬৭ হাজার একর জমি,সাড়ে ৮ হাজার পরিবার, ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্টান, ৬টি হাট বাজার ও ২২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এর মধ্যে বজরা ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ড,৮টি গ্রাম,৩ হাজার পরিবার, ৫০ হাজার একর জমি, ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্টান,১টি ক্লিনিক, ২টি স্লুইজ গেট, ১০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। দলদলিয়া ইউনিয়নের ৮টি ওয়ার্ড, ১০টি গ্রাম, ১হাজার ৩০০ পরিবার,১০ হাজার একর জমি, ৭ কিলোমিটার এলাকা ও ৮ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। থেতরাই ইউনিয়নের ওয়ার্ড ৭টি, গ্রাম ১০টি, পরিবার ৩ হাজার, শিক্ষা প্রতিষ্টান ৪টি, কৃষি জমি ১ হাজার একর,স্লুইজ গেট ১টি,ইউনিয়ন পরিষদ,পোষ্ট অফিস,২টি হাট বাজার ও ৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। গুনাই গাছ ইউনিয়নের ২টি ওয়ার্ড, ৫টি গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্টান ৪টি, হাট বাজার ১টিও ২কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,খরস্রোতা সেই তিস্তায় পানি নেই। নদীতে জেগে উঠেছে শত শত চর। নৌকা চলে না মানুষ হেটে নদী পাড়া পাড় হচ্ছে। থেতরাই ইউনিয়নের খারিজা নাটশালা চরের বাসিন্দা তৈয়মুর শেখ(৮০) বলেন, মোর এই বয়সে ১১ বার বাড়ী ভাঙ্গা দিছি। জীবনের ব্যাকটি(সময়) গ্যালো নদীর লগে( সাথে) যুদ্ধ করতে। অহনও(এখন) চলছে যুদ্ধ,নদী বাঁন্দি দিলে বাকী জীবনটা কষ্ট থাকি বাঁচনো হয়।

থেতরাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.আতাউর রহমান বলেন, তার ইউনিয়নের তিন ভাগ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন নদীতে পানি নাই। বর্ষা আসলেই নদীর ভয়াবহরুপ হয়। দেখা দেয় বন্যা ও নদীর ভাঙ্গন। শুরু হয় মানুষের জীবন ও ঘরবাড়ী রক্ষার লড়াই। গৃহহারা মানুষের
আত্ননাদ ও আহাজারীতে দিশেহারা নদী তীরবর্ত্তী মানুষ। গৃহহারা ভুমিহীন ৩ হাজার পরিবার অভাব অনটনে দিশেহারা। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে মানুষের দুঃখ দুর দশা বর্ননাতীত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনে কৃষি জমি বিলিন হয়ে যায়। আবার সেই জমিতে পলি পড়ে আবাদী হয়। চরের জমির পরিমানস প্রায় ৬ শত হোক্টর।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফিজানুর রহমান বলেন,এ পর্যন্ত তিস্তার ভাঙ্গনে ৮/৯ হাজার পরিবার গৃহহারা হয়েছে। এ সমস্ত পরিবারের জন্য আপদকালীন সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্ত তাদের পুর্নবাসনের কোন কর্মসচী নেওয়া হয়নি।

রিভারইন পিপলের পরিচালকও বেগম রোকেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.তুহিন ওয়াদুদ বলেন,তিস্তা সড়ক সেতু নির্মানের পর থেকে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গনে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নদীটি উত্তরাঞ্চলের বলে সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিস্তা
পাড়ের মানুষের আহাজারী সরকার শুনতে পায় না। তাই এবার আওয়াজ উঠেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উনয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.রাকিবুল হাসান বলেন,বজরা,গুনাইগাছ,থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনে লাখ লাখ কোটি টাকর সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ওই ৪ ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত ৮টি এলাকায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষন কাজের টেন্ডার হয়েছে। খুব শিঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তবে তিস্তা মহা পরিকল্পনার বিষয়টি সরকারের, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

এইচ/এল

 

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪২:৫৫   ৩৭৮ বার পঠিত  |         







রংপুর থেকে আরও...


অভিযোগ ধামাচাপা দিতে পাইলট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দৌড়ঝাঁপ
পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
অবৈধ সার ব‍্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
রমজানে পীরগঞ্জে বাজার বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম
উলিপুরে সাংবাদিকদের সাথে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর মতবিনিময়



আর্কাইভ