ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: রমজান মাসে শুধু চিড়া,মুড়ি আর চিনির সরবত দিয়ে ইফতারি করি। মেয়ে একটা তরমুজ কিনতে বলছে তাও কেনার সামার্থ্য নেই। কিস্তি দিতে দিতে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকায় আয়ের পথও বন্ধ থাকায় বিপাকে জেলেরা। ধার দেনা করে এ সপ্তাহের কিস্তি পরিশোধ করেছি।
পরের সপ্তাহের কিস্তি যে কিভাবে পরিশোধ করব তা ভাবতেও পারছি না। কিস্তি না দিতে পারলে অফিসের লোকেরা গালমন্দ করে। অফিসের লোকদের বলছি একমাস পরে কিস্তি নিতে কিন্তু তাও তারা মানছেন না। ধারদেনার পথও বন্দ হয়ে গেছে। এখন কিস্তি হচ্ছে গলার কাটা। নদীতে নিষেধাজ্ঞা দিলে ও নিষেধাজ্ঞা নেই কিস্তিতে। এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন বাউফল উপজেলার নিমদী গ্রামের জেলে কবির।
তিনি বলেন, আমি গ্রামীন ব্যাংক ও আশা এনজিও থেকে ঋন নিয়ে নৌকা ও জাল ক্রয় করি। গ্রামীন ব্যাংকে প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা ও আশায় প্রতি সপ্তাহে ২৫০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে জাল ফেলতে পারছি না। কিন্তু কিস্তিতে তো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিস্তি তো সময় মত ঠিকই দিতে হচ্ছে। আমরা গরীব মানুষ আমাদের কষ্ট বুঝার কেই নেই। কবির এর মত একই অবস্থা তাঁর বৃদ্ধ পিতা নুর হোসেন গাজী ও দুই ভাই ফারুক গাজী ও ইব্রাহিম গাজীর। সবাই ঋণে জর্জড়িত।
নুর হোসেন গাজী বলেন, নদীতে মাছ ধরে ও বেসরকারী এনজিও কোডেক ও আশা থেকে ঋণ নিয়ে কোন ভাবে সংসার চালাই। ১মার্চ থেকে মৎস বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে জাল ফেলতে পারছি না। বিকল্প কোন আয়ের পথও নেই । ফলে আয়ের উৎস বন্ধ হওয়ায় ঋনের কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। কিভাবে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করব তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। আমার চার ছেলে। তাদের মধ্যে তিন জনই জেলে। ছোট ছেলে আমার সাথে থাকে। অন্যরা সবাই আলাদা থাকে। ছেলে ফারুক গাজীর স্ত্রী ও দুই ছেলে, ইব্রাহিমের স্ত্রী ও দুই মেয়ে, কবিরের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁরাও ঋণে নিয়ে সংসার চালায়। নিয়মিত দতে হচ্ছে কিস্তি। আমি বাবা হয়েও আমার ছেলেদের পাশে দাড়াতে পারছি না। কারণ আমিও যে ঋনে জর্জড়িত।
মৎস অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ২ মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ঘোষনা
করেন মৎস অধিদপ্তর। এই সময়ে চার কিস্তিতে ৪০ কেজি করে মোট ১শ ৬০ কেজি খাদ্য সহায়তা হিসাবে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে জেলেদের। অথচ নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হলেও উপজেলার জেলেদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারী খাদ্য সহায়তার চাল। সহায়তা না পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে অধিকাংশ জেলেদের বিকল্প কোন আয় না থাকায় জেলেরা পরেছেন বিপাকে।
বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, যত দ্রুত সম্ভব জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।
এইচ/এল
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৫:১৭ ১০৬ বার পঠিত | ● জেলেরা ● থাকায় ● নিষেধাজ্ঞা ● পটুয়াখালী ● বাউফল ● বিপাকে