ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বাজারের সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বাজারের সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ


মাহাবুব আলম লিটন,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫


যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বাজারের সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা বাজারে আবারও দখলদারদের দৌরাত্ম শুরু হয়েছে। নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে ১৮ কিঃমিঃ (বাঙ্গরা বাজার) এ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত ভূমিতে দীর্ষদিন ধরে দখল করে ব্যবসা করে আসছে ভূমিদুস্যরা। ওই সরকারি জায়গায় প্রায় ৩৫০টি দোকান রয়েছে।

উপজেলার বাঙ্গরা বাজারটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ন বানিজ্য এলাকা। ওই এলাকার কোম্পানিগঞ্জ-নবীনগর সড়কের দুই পাশের সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে উঠায় প্রচন্ড যানযট সৃষ্টি হয়। এই সড়কটি মুরাদনগর,কুমিল্লা,চট্রগ্রাম ও ঢাকাসহ সারাদেশে যোগযোগের একমাত্র সড়ক। এই সড়কটির যানজটের কারনে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মুমুষরোগী, চাকুরীজীবি,ব্যবসায়ী, প্রবাসীসহ সাধারন যাত্রীদের পড়তে চরম ভোগান্তিতে। এই ভোগান্তি নিরসনে গত বছর প্রশাসনের কঠোর অভিযানে বাজারের অবৈধ এই দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছিল।

কিন্তু দেশের পেক্ষাপট পরিবর্তনে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে আবারও এই বাজার দখলের অভিযোগ উঠেছে,এবং তার চাঁদাবাজির অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু কাউছার আহামেদ। তার এই চাদাবাজির অডিও রেকর্ড হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।” ভাইরাল হওয়া সেই অডিও রেকডে কাউছার চাঁদা চেয়ে সোহান নামে এক এনজিও কর্মীকে বলছেন, “আমি নিজেই আদালত। ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ছিল, তাই কিছু বলিনি। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, আমি যা বলবো তাই হবে!” প্রশাসনিক কিছু অসাধু কর্মকর্তার মদদে তিনি কোটি কোটি টাকার সরকারি জায়গায় অবৈধ বাণিজ্য চালাচ্ছেন। অবশ্য এ অভিযোগ কাউছার সম্পূর্ন অস্বীকার করেছেন।

বুধবার (১৯/০৩) সরেজমিন জানা যায়, বাজারের জেলা পরিষদের একমাত্র যাত্রী ছাউনির জায়গা কাউছার দখল করে ৩টি দোকান নির্মাণ করেছেন এবং সেগুলো মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দেয়া হয়েছে। এবং বাজারের পুনরায় নির্মানকৃত প্রতিটি দোকান থেকেই মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের করছেন ।

প্রশাসনের নাকের ডগায় ফের গত দুইদিন ধরে রাতারাতি গড়ে উঠেছে শত শত দোকান। বাঙ্গরা বাজারের দখলবাজি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। কিন্তু ওই প্রভাবশালী যুবদল নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।

জিনদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবি মিয়া’র এর কথা কথা হলে তিনিও তার নাম সরাসরি বলতে অস্বীকার করে বলেন,আমি কিছু জানিনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন বলেন, আগে আওয়ামীলীগ নেতারা এ দখলবাজিন্য চালিয়েছে এখন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ দখলবানিজ্য চালচ্ছে। ওই যুব দল নেতার নেতৃত্বে পূর্বেকার দখলদার পুনরায় দোকানপাট নির্মাণ করছে।

এ ব্যাপারে যুবদল নেতা আবু কাউছার আহামেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাই দোকানগুলো লিজ নিয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন,আমার বিরুদ্ধে এটি ষড়যন্ত্র,রাজনৈতিক ভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি মহল এ অপপ্রচার চালাচ্ছে ।

এ ব্যপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী বলেন,বাঙ্গরা বাজারের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা, তারা এটা ব্যবস্থা নিবে। আমি তাদেরকে বলেছি,আপনাদের জায়গা বে-দখল হয়ে যাচ্ছে,আপনারা ব্যবস্থা নেন,। এর দায় আমাদের ঘাড়ে আসছে, আমি গতকাল সরজমিন গিয়েছিলাম, আমি স্বপ্রনোদিত হয়ে কোন ব্যবস্থ্ ানিতে পারি না, আমি তাদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দিব। পূর্বেকার ইউএনও মহোদয় ডিসির স্যারের অনুমতিতে অভিযান চালিয়েছেন। ডিসি স্যার অনুমতি পেলে আমি অভিযান চালাতে পারি।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০৪:৪০   ৩২৩ বার পঠিত  |         







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


যারা ধর্ষণের মিথ্যা তথ্য প্রচার করে হাতিয়াকে কলংকিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে: মাহবুবের রহমান শামীম
হাতিয়ায় দরজার বাহিরে তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন
হাতিয়ায় হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে এনসিপির বিরুদ্ধে হিন্দুসম্প্রদায়ের মানববন্ধন
নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী
হাতিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় বিটিভির সাংবাদিক সহ আহত ৩০



আর্কাইভ