ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: বাংলাদেশে কেউ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করতে পারবেনা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ধানসিঁড়িঁ রিসোর্টে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স-মাস্টার্স সমমানে অধ্যয়নরত দ্বীপ হাতিয়ার কৃতি সন্তানদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পর কেউ কোথাও মিছিল করতে পারেনি, আমরা ৬ জানুয়ারী মুষ্টিময় কয়েকজন মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছি। গত ৪ বছর আগ থেকে যখন অনেকে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে তখনও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে গুলি খেয়ে তার দুইদিন পর আবারো রাস্তায় নেমেছি। নিজের জীবন বাজি রেখে আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করেছি। তাই বাংলাদেশে আর কেউ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করতে পারবেনা।
তিনি আরো বলেন, আমার পাশেও যদি কোন আওয়ামী লীগ থাকে তাহলে আপনারা আমাকে তাদেরকে চিহিৃত করতে সহযোগিতা করবেন। কারণ আমার পাশে কেউ পিট বাঁচাতে আবার কেউ পেট বাাঁচাতে আসবে। আপনারা যদি বলেন এই মানুষটি সাধারণ মানুষের উপর কখনো জুলুম করেছে বা অত্যাচার করেছে সে যেই হোক তাকে আমার পাশে রাখবো না। কোন ধরনের সন্ত্রাসী কোন ধরনের অত্যাচারী আমার পাশে জায়গা পাবেনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাহাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নেওয়াজ শরীফ ওয়াজেদ, আনিস মাহমুদ সাকিব, ইসমাইল হোসেন, আব্দুর রব নাসিম, তাহমিদ তাজওয়ার হোসাইন, তাওফিকুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম কলেজের সমন্বয়ক তানভীর শরীফ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাতিয়া প্রতিনিধি ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউসূফ রেজা, ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মতিউর রহমান প্রমুখ। বক্তারা আধুনিক হাতিয়া বিনির্মাণে আব্দুল হান্নান মাসুদের কাছে হাতিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান অতিথি আরো বলেন‘শান্তির হাতিয়া’ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে এক থাকতে হবে। হাতিয়ার আশপাশে যে চর উঠবে তা আর কোনো ভূমিদস্যুকে খেতে দেওয়া হবে না। অন্তত হান্নান মাসউদ বেঁচে থাকতে সেই স্বপ্ন কেউ আর দেইখেন না। আমরা মানুষের মুক্তির লড়াই করি। আমরা মানুষকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছি, আমাদের এ সংগ্রাম চলমান আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী-এমপি না। তবুও হাতিয়ার মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত।
গত ছয়মাসে আমি হাতিয়ায় ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ চালু করেছি। ঈদের পরেই নদী ভাঙনরোধে হাতিয়ার বিভিন্নস্থানে বস্তা পড়বে। এই সুযোগ কেবল আমার সঙ্গে যারা চলে তাদের জন্য নয়। এটি হাতিয়ার সবার জন্য। তাছাড়া নতুন খবর হলো, হাতিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়েল অ্যানার্জি উৎপাদনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। তারা ১৫ মেগাওয়াটের ওয়েট অ্যানার্জি উৎপাদন করবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আবদুল হান্নান মাসউদ আরো বলেন,আজকে থেকে আমরা সংঘাত হানাহানি বন্ধের ওয়াদা করলাম। ভবিষ্যতে কেউ আমাদের গালি দিলেও কারো গায়ে হাত তুইলেন না। কাঁধে হাতে দিয়ে বুঝিয়ে বলবেন ভাই কেনো গালি দিয়েছেন। মানুষকে সমালোচনা করতে সুযোগ দেবেন। বেশি বেশি সমালোচনা করলে আমরা পরিশুদ্ধ হবো। কারো সঙ্গে বিরাগ বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়বেন না। আমরা দ্বীপ হাতিয়ায় হানাহানির রাজনীতি বন্ধ করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, হাতিয়ায় যাতায়াতে ৫০০ টাকার স্পিডবোট ভাড়া ৩০০ টাকা করা হয়েছে। এ সুবিধা হাতিয়ার সবাই ভোগ করছেন। শুনেছি লাগেজ প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা নেওয়ার বরাদ্দ দিয়েছেন কোনো এক নেতা। সেসব নেতাকে বলে দিচ্ছি আমার হাতিয়ার মানুষের পকেটের দিকে যারা হাত বাড়াবেন তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, হাসিনাকে দেশ ছাড়া করেছি, হাতিয়া থেকে চাঁদাবাজকেও বিতাড়িত করবো। কেউ নিজেকে হাতিয়ার সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর মতো ভেবে তার মতো হতে যাইয়েন না। মোহাম্মদ আলীর পরিণতি দেখেন। ঘাট বাণিজ্য করে কোটি টাকা কামিয়ে এখন তিনি কোথায়। দূর্গম এ জনপদে ওইরকম আর কোনো চাঁদাবাজের উত্থান হতে দেওয়া হবে না।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ার সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ার মানুষকে আমরা অর্থ বিত্ত করে দেব ইনশাআল্লাহ। হাতিয়ার মানুষের ব্লু ইকোনমি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্লু ইকোনমি হবে। এই ব্লু ইকোনমি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ উন্নত হবে। হানাহানি লেগে থাকলে এসব উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, আমরা মারামারির রাজনীতি বন্ধ করবো। আমরা লাঠালাঠির রাজনীতি বন্ধ করবো। এর মধ্য দিয়ে হাতিয়ার মানুষের মুক্তি মিলবে। সেদিন আমাদের গায়ে হাত তুলেছিল আমরা হাজার হাজার মানুষ থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে আমরা মারামারি করি নাই। মারামারি করলে দিন দিন মারামারি বাড়তে থাকবে। আমরা শান্তি চাই। তাই শান্তিপূর্ণ হাতিয়া গড়ে তুলবো। হাতিয়ার এ মডেল দেখে সারাদেশের সব উপজেলা হাতিয়াকে হিংসা করবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩১:৪৪ ১৯০ বার পঠিত | ● আব্দুল হান্নান মাসউদ ● হাতিয়া