ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » নবীনগরে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯

নবীনগরে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯


মাহাবুব আলম লিটন,নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫


নবীনগরে অপহৃত শিশু উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে ডিজিএফআই পরিচয় দিয়ে স্থানীয় সৌদি প্রবাসী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মালুর ছেলে রিফাত মিয়াকে (১৯) অপহরণ করার পর যৌথবাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীর ছেলে অপহৃত রিফাতকে উদ্ধারসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
আজ বুধবার  সকালে উদ্ধারকৃত রিফাতসহ ক্যাপ্টেন পরিচয় দেওয়া রেজাউল করিম রেজাকে কে নবীনগর থানা হস্তান্তর করা হয়। থানায় হস্তান্তরের বিষয়টা নিশ্চিত করেন থানা ডিউটি অফিসার এস আই বিল্লাল হোসেন। মঙ্গলবার রাতে জেলার কসবা উপজেলা থেকে রিফাতকে উদ্ধারসহ রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রেজার তথ্য অনুযায়ী গতকাল গাড়ির নাম্বার ও ড্রাইভারের ফোন নাম্বারের সূত্রধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণের সাথে জড়িত থাকা ৮ জনকে গতকাল খুলনা থেকে আটক করা হয়।
এই মিশনে ড্রাইভারসহ ১২জন ছিলো, এদের মাঝে কয়েকজন ডিজিএফআইয়ের ও বিমান বাহিনীর সদস্য রয়েছে, আটক হওয়ার পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন রেজা।
আটককৃত রেজা, কসবা পৌর সদরের মৃত মিলন মিয়ার ছেলে, সে বিমান বাহিনীর সাবেক লিডিং এয়ারক্রাফটম্যান হিসেবে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চাকরি করছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাকি ৮ জনকে নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়নি।
আটককৃত অন্যান্য হলেন, ডুমুরিয়া থানার সাহাপুর গ্রামের জাহিদুর রহমান(৩৪) ডুমুরিয়া থানার খরসংগ গ্রামের আশরাফুল কবির(২৮),মাসুম বিশ্বাস (৩২),মধুরাম সাহাপুর গ্রামের রাজন কুম্ভ (৩২),আন্দুলিয়া গ্রামের মোঃ নয়ন আকোঞ্জী(২২),খরসংগ গ্রামের মোঃ আলমগীর মোল্লা (২৮),যশোর জেলার কেশবপুর থানার ,ভরতভাইনা গ্রামের আব্দুল গফুর সরদার (৩৭),ডুমুরিয়া থানার শাহাপুর গ্রামের মোহাম্মদ তৈবুর রহমান (২৫)।
রিফাতের বাবা ব্যবসায়ী মালু মিয়ার অভিযোগ, খোদ পুলিশের উপস্থিতিতেই আগের দিন সোমবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতের দিকে দুর্বৃত্তরা নিজেদেরকে ডিজিএফআই পরিচয় দিয়ে তার ছেলে রিফাতকে নির্বিঘ্নে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে অপহরণের চার ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে মোবাইল ফোনে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে নগদ ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও রিফাতের বাবা সৌদি প্রবাসী শহীদুল ইসলাম মালু মিয়া জানান।

তিনি আরো বলেন,ফোন দিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাই। ওসি স্যার তখন আমাকে বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। তবে পুলিশ পাঠাচ্ছেন।

এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই থানা থেকে দুই দারোগা আবদুল মন্নাফ ও রাম কানাই সরকারের নেতৃত্বে ৭/৮ জন পুলিশ আমার বাড়িতে আসেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো- আমি দেখলাম, পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের বদলে পুলিশ সেসময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে শলা পরামর্শ করল। এ সময় আমার সামান্য দূরে থাকা দারোগা মন্নাফ সাহেবকে কমপক্ষে ২০ বার ফোন করি। কিন্তু তিনি আমার ফোন না ধরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলাপচারিতা করে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই নগদ টাকা, স্বর্ণ ও আমার ছেলেকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে আমার বাড়ি থেকে চলে যায়। এদের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশও আমার বাড়ি থেকে চলে যায়।

তিনি (মালু) পরদিন মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও (এজাহার) দায়ের করেন।
এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ জনকে আসামি করা হয়। ওই তিন আসামি হলেন লাউর ফতেপুর গ্রামের কামাল মিয়া ও কামাল খন্দকার এবং বাড়িখলা গ্রামের আবু কালাম আজাদ।

উদ্ধারকৃত রিফাত জানায়, মঙ্গলবার দিনভর কসবা রেললাইনের পাশে সীমান্তের কাছাকাছি মাইক্রোবাসে আমাকে বসিয়ে রাখা হয়। আমি তাদের সাথে চুক্তি করি, আমাকে ছেড়ে দিলে ৩ কোটি টাকা এনে দিবে। চুক্তি মোতাবেক দুই ধাপে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তারা বাকি টাকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে একটি অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। ওই অ্যাকাউন্ট নাম্বার আমার পরিবারের কাছে পাঠালে, অ্যাকাউন্ট নাম্বারের সূত্রধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাকে উদ্ধার ও রেজাকে আটক করে।

এস আই মোন্নাফ ও এস আই রামকানাই পুলিশের সামনে দিয়ে ডিজিএফআইয় পরিচয় দিয়ে কিভাবে নিয়ে যায় এই প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়প বলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কথা বলবেন।
এ বিষয়ে থানায় কোন প্রেস ব্রিফিং হয়নি। থানার অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে থাকায় তার সাথে কথা বলা যায়নি।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার (এসপি) এহতেশামুল হক সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘অপহরণ হওয়া যুবক রিফাতকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে আটকও করা হয়েছে। বাকিরা অন দা ওয়ে তে আছে এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছে নি। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল প্রথমে ভেবেছিল সত্যি পরে যখন রিফাতকে নিয়ে যায় তখন টের পাওয়া গেছে তার প্রতারক চক্র। কিন্তু আবার পুলিশ ১৮ ঘন্টার মধ্যে তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে এটাও সত্যি। তবে পুলিশের কোন গাফিলতি থাকলে এটা তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৬:২০   ২৪৯ বার পঠিত  |         







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


যারা ধর্ষণের মিথ্যা তথ্য প্রচার করে হাতিয়াকে কলংকিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে: মাহবুবের রহমান শামীম
হাতিয়ায় দরজার বাহিরে তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন
হাতিয়ায় হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে এনসিপির বিরুদ্ধে হিন্দুসম্প্রদায়ের মানববন্ধন
নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী
হাতিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় বিটিভির সাংবাদিক সহ আহত ৩০



আর্কাইভ