ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি! ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস সাধু বাবার আস্তানায় ধর্ষণের শিকার নারী টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন খোকন কলাপাড়ায় সৌদিপ্রবাসী নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী “দোন”

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী “দোন”


মু.মিজানুর রহমান বাদল,( মানিকগঞ্জ )
প্রকাশ: সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫


কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী “দোন”

মানিকগঞ্জ:কয়েক যুগ আগে গ্রামের কৃষকরা অভাব অনটনের মধ্যে আধুনিক সেচযন্ত্র না থাকায় নদী-খাল বিলের পানি দিয়ে জমি চাষ করতে কালের স্বাক্ষী ঐতিহ্যবাহী ঢোন। সেই সময় একমাত্র ভরসা ছিল দেশীয় তৈরি করা দোন। ওই দোন ব্যবহার করে কৃষিকাজে ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে পানি ফসল উৎপাদন করা হতো।বর্তমান কালের বিবর্তনে আধুনিক সেচযন্ত্রের ভিড়ে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সেচ যন্ত্র “দোন”। শত শত বছর ধরে মানুষ কৃষি কাজে পানি সেচের জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছ। এর মধ্যে অন্যতম পদ্ধতি ছিলো এই “দোন”। যার সাহায্যে বিীভন্ন সময়ে নারী পুরুষেরা ফসলের ক্ষেতে অতি সহজে সেচ দেয়া হতো।
সারাদেশে প্রায় বিলুপ্ত হলেও মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের খেলেশ্বর গ্রামের কৃষক খৈমুদ্দিন তার ৩ বিঘা ধান ক্ষেতে এবং ছয়আনী গ্রামের প্রবীন কৃষক বহর আলী তার ১ বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে যাচ্ছেন “দোন” দিয়ে।
এভাবে পানি সেচ দিলে খরচ অনেক কম হয়। ক্রস আকারে দুটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সঙ্গে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়। এক প্রান্তে দোনের মাথা অন্য প্রান্তে মাটির ভরা (ওজন) দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে পানি উঠে আসে। এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়ে যায়।
আম অথবা কাঁঠালজাতীয় গাছের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝ খানে খোদাই করে ড্রেন তৈরী করে পানি সেচ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো। কোন কোন স্থানে নারিকেল, তাল, সুপারি গাছ দিয়েও এ দোন তৈরী করা হতো। আবার কেউ কাঠের তক্তা দিয়েও এই দোন তৈরী করতো।
দোন দিয়ে পানি সেচ দেয়া অবস্থায় কৃষক মো.বহর আলী ( ৭৪) জানান, ৩০-৪০ বছর আগেও এ এলাকার সকল কৃষক বোরো ধান খেতে দোন দিয়ে পানি সেচ দিত। সবাই বন্ধ করে দিলেও তিনি ঐতিহ্য হিসেবে আজও তার ১বিঘা জমিতে দোনের সাহায্যে পানি সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে একটু পরিশ্রম হলেও সেচ খরচ নেই। ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক কম হয় বলেও তিনি জানান ।
বয়স্কদের কাছ থেকে যানা যায়, আগেকার দিনে ফসলি জমিতে পানি সেচের জন্য টিন ও বাঁশের তৈরী অথবা টিন ও কাঠের তৈরী দোন ব্যবহার হতো। নদী, খালবিল বা জলাশয় থেকে কৃষকরা ফসলি জমিতে পানি সেচের জন্য এই দোন ব্যবহার করতো। উঁচু- নিচু জমিতে পানি সেচ দিতে দোন ছিলো অতুলনীয়। গ্রাম বাংলার কৃষকদের আবিষ্কার ছিলো এই দোন।
বর্তমানে দিন যাচ্ছে দেশ আধুনিকতার ছোঁয়া পাচ্ছে। এখন থেকে প্রায় ৩০-৪০ বছর আগেও টিন ও কাঁঠের তৈরী দোন ব্যবহার করে ফসলি জমিতে পানি সেচ দেয়া হতো। এতে খরচ যেমন কম হতো তেমনি ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ না দিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারও হতো।
আধুনিক প্রযুক্তির সেচযন্ত্র যেমন, শ্যালো, ডিপ, এলএলপিসহ বিভিন্ন ধরণের সেচযন্ত্র আসায় সেই প্রাচীন যুগের কৃষকদের তৈরী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী দোন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আধুনিকতার ছোয়ায় নতুন নতুন সেচযন্ত্র তৈরী হয়েছে যার ফলে খরচাও অনেক বেড়ে গেছে। দেশে বর্তমানে সব জমি শতভাগ সেচের আওতায় আসায় দোন এর সাহায্যে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়না। ফলে কৃষকরা এখন আর “দোন” ব্যবহারও করে না।
সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, আধুনিক কৃষিতে এখন আর কেউ দোন দিয়ে পানিসেচ দেয় না। সিংগাইরে এর ব্যবহারের বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, এক সময়ে সারাদেশে খাল -বিল, নদী -নালাসহ প্রাকৃতিক জলাধার থেকে কৃষকেরা দোন দিয়ে জমিতে পানি সেচ দিত।এতে ভূ উপরিস্থ পানি ব্যবহার হওয়ায় পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়ত না। ফসলের উৎপাদন খরচও হতো অনেক কম।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৫:২৪   ১৬২ বার পঠিত  |         







ঢাকা থেকে আরও...


গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি!
টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান
নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন
দোহারে দুস্থ সুবিধাভোগীদের মাঝে বকনা বাছুর, মুরগী ও ভিজিএফের চাল বিতরন
আলফাডাঙ্গায় উলামা-মাশায়েখ ও তাওহীদি জনতার বিক্ষোভ মিছিল



আর্কাইভ