ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে টানা ৬ ঘণ্টা পর দুইটি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ তিনটি সড়ক ছেড়েছেন টেক্সটাইল (পাওয়ারলুম) মিলের শ্রমিকরা। ফলে ওই তিনটি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। মজুরী বৃদ্ধির আশ্বাসের পর মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল পৌনে ছয়টার দিকে সড়ক ছাড়েন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবিতে ভুলতা বিশনন্দী ও ভুলতা গোপালদী আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং গোপালদী মাধবদী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পাওয়ারলুম শ্রমিকরা।এসব সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সকাল থেকে ওই সড়কে যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়েছে। ওই তিনটি সড়কসহ আশপাশে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক যানজট। দুর্ভোগে পড়ে ঢাকা, ব্রাঞ্ছারামপুর, গোপালদীগামী ও মাধবদীগামী যাত্রী সাধারণ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন ঘটনাস্থলে গেয়ে অবরোধকারী শ্রমিক নানা স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেলে পুলিশের সাথে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছে দফায় দফায় অবরোধকারীদের কথা বলে মিমাংসার চেষ্টা করে।
বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাত হোসেন, ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন নেতৃত্বে প্রশাসনের সাথে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে রামচন্দ্রী বাজারে আপোষ মিমাংসার জন্য বৈঠক বসে। প্রায় পৌনে এক ঘন্টা বৈঠক শেষে কাপড়ের গজ প্রতি বিশ পয়সা মজুরী বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি যৌক্তিক দাবী পুরণের আশ^াস দিলে শ্রমিকরা তাদের অবেরোধ কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেয়।
এ আগে সোমবার থেকে তাঁতশিল্পের নগরী হিসেবে খ্যাত আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভা, বিশনন্দী ইউনিয়ন ও সীমান্তবর্তী এলাকা মাধবদী পাইকারচর ইউনিয়নের টেক্সটাইল (পাওয়ালুম) মিলের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন শুরু করে। এতে এসব এলাকার ছোট বড় মাঝারি প্রায় তিন হাজার কারখানা অচল হয়ে পড়ে।
পাওয়ারলুম শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শওকত আলী জানান, চার দফা দাবিতে শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বানে চার দফা দাবিতে ডাকা ধর্মঘট সোমবার শুরু হয়। মঙ্গলবার ছিলো আঞ্চলিক মহাসড়ক ও সড়ক অবরোধ। চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে কাপড়ের গজ প্রতি এক টাকা বৃদ্ধি করতে হবে, প্রতি ঈদে বোনাস ভাতা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কোন দূর্ঘটনা হলে কারখানার মালিককে সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে হবে। কর্মসূচিতে গোপালদী পৌরসভাসহ বিশনন্দী ও পাইকারচর ইউনিয়নের তিনহাজার কারখানার প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক একাত্মতা প্রকাশ করেছে বলে শ্রমিকনেতা শওকত আলী দাবী করেন।
এদিকে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে টেক্সটাইল মিল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছে মিল মালিকরা। তারা ডাইং কারখানাগুলোতে সঠিক সময়ে কাপড় সরবরাহ করতে না পাড়লে ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা করেন। দাইরাদী রাসেল টেক্সটাইল রাসেল মিয়া জানান, শ্রমিকদের কাপড়ের গজ প্রতি ১ টাকা বাড়ানো মালিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনিকে সুতার দাম অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচই উঠেনা। অনেকে পাওয়ারলুম কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। বাপদাদার পৌত্রিক কারবার হওয়ায় আমার মত অনেকে অনেকটা লোকসান দিয়ে কারখানা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
এ ব্যপারে ইউএনও সাজ্জাত হোসেন বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের কোন সংগঠন নেই। বিক্ষিপ্তভাবে তারা ধর্মঘট করে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টার করে। আমিসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টীম শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের শ্রমিক নেতা না তাকায় বিষয়টি মিমাংসার জন্য দেরি হয়ে যায়। পরে ওই এলাকা ব্যবসায়ী ও আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মাজ থেকে প্রতিনিধি নিয়ে রামচন্দ্রদী বাজারে আলোচনা বসি।
বৈঠকে এক প্রকার মালিকদের উপর চাপ প্রয়োগ করে কাপড়ের গজ প্রতি বিশ পয়সা বৃদ্ধি করার ঘোষনা দেয়া হয়। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকরা তা মেনে নেয়। বাকি দাবী গুলো পর্যায়ক্রমে পুরণ করার আশ^াস দিলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সড়ক থেকে যার যার বাড়িতে চলে যায়।
আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ এ কাজে দুস্কৃতির ইন্ধন থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রামচন্দ্রদী, গোপালদী, বিশনন্দীসহ এর আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৫:৫৯ ৮৯ বার পঠিত | ● অবরোধ . প্রত্যাহার ● আড়াইহাজার ● শ্রমিক