ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরগুনা: আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের পদোন্নতি জনিত বদলীতে এক সাগরিক সংবর্ধনায় তিনি নিজে কাঁদলেন উপস্থিত অন্যদেরকেও কাঁদালেন । এসময় হলরুম জুরে পিনপতন নিরবতার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষে শুধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখের পানিতে বিদায় জানিয়েছেন সকলের প্রিয়জন মানবতার ফেরিওয়ালাকে। এরকম এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে সোমবার দুপুর ১২টায়। আমতলী উপজেলা পরিষদের হলরুমে।
সোমবার দুপুরে আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের পদোন্নতি জনিত বদলীর কারনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক সাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার, আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, যুগ্ম আহবায়ক তারিকুল ইসলাম টারজন, পৌর বিএনপি ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কবির উদ্দিন ফকির, ইসলামী আন্দোলনের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জিহাদী, জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশ আমতলী শাখার সাবেক সেক্রেটারী মো. আব্দুল মালেক, সাংবাদিক জাকির হোসেন, হায়াতুজ্জামান মিরাজ, জসিম উদ্দিন হাওলাদার, রেজাউল করিম, সোহাগ বিশ্বাস, নাসরিন শিপু, সায়মন. বকুলনেছা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি আকতার, চিলা হাসেম বিশ্বাস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয়তাবাদী মাধ্যমিক শিক্ষক ফোরামের আহবায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন, মো. মামুন, উপজেলা এতিম খানা সমিতির সভাপতি মাওলানা মোকছেদুল্লাহ, যুবদল নেতা মো. জাকির হোসেন প্রমুখ।
বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ইউএনও আশরাফুল আলম স্যারের মত একজন সৎ দক্ষ ইউএনও বাংলাদেশে আছে কি না সন্দেহ।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে উমরের শাসন ব্যবস্থার সাথে তুলনা করা যায়। তিনি রাতেও বিভিন্ন মানুষের বাড়ি গিয়ে সেবা দিতেন।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কবির উদ্দিন ফকির বলেন, আমরা আমতলী বাসী আশরাফুল আলম স্যারের মত একজন ভালো মানুষ এবং দক্ষ নির্লোভ ইউএনও আর পাবো কি না সন্দেহ।
ইসলামী আন্দোলন আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জিহাদী বলেন, ইউএনও আশরাফুল আলম স্যার একজন ধার্মিক ভ্যাক্তি ছিলেন। তিনি যে রকম ধার্মিক ছিলেন সে রকম সৎ ন্যায়পরায়ন এবং নিরঅঙ্কর মানুষ ছিলেন। তার কাছে কোন ব্যাক্তি যে কোন কাজের জন্য হাজির হলে তিনি খালি হাতে ফিরে আসতেন না।
সাংবাদিক জাকির হোসেন বলেন, ইউএনও আশরাফুল আলম ছিলেন একজন মানবতার ফেরিওয়ালা। দূর্যোগ কালীন সময়ে তিনি ত্রানের মালামাল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তির বাড়ি হাজির হয়ে তার হাতে তুলে দিতেন। স্যারের অফিসের দরজা সব সময় ধনী গরীব সকল মানুষের জন্য খোলা থাকত। তার কাছে সেবা নিতে এসে কেউ খালি হাতে ফেরত যেতে হয়নি। তিনি ছিলেন একজন সৎ দক্ষ, জনবান্ধন ও ন্যায়পরায়ন ইউএনও। সব সময় তিনি সকল মানুষ এবং সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে জনগনের সেবক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দিতেন। তিনি আরো বলেন ইউএনও আশরাফুও আলম সততার দিকে তার তুলনা তিনি নিজেই। অন্য কারো সাথে স্যারকে তুলনা করা যায় না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিতিনিধি আবদুল্লাহ বলেন, জুলাই আগস্টেও পর আমতলীর ইউএনও যে ভাবে মানুষের সেবা দিয়েছেন তা অতুলনীয়। এরকম একজন জনবান্ধব ইউএওকে বিষেশ ক্ষতার মাধ্যমে এডিসি নয় আরো উচ্চ পদে আশীন করা দরকার।
আমতলী পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বিধবা খাদিজা বেগম বলেন, আমি একজন অসহায় দরিদ্র মানুষ। আমার ঘরের চাল নাই। থািহ পায়রা নদীর পারে। বইন্যায় সব লইয়া গ্যাছে। স্যারের ধাওে যাওয়ার পর মে মোওে টিন দিয়া সাহায্য হরছে। আল্লায় যেন হ্যাওে ব্যামালা বাঁচাইয়া রাহে। মুই দুই আত তুইল্যা আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
আমতলী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের জলিল বয়াতি বলেন, সারের মত ভালো মানুষ মোরা আর পামু না। আল্লায় যেন হের হায়াত দারাজ করে। এভাবেই যেন শত শত মানুষ ইউএনও আশরাফুল আলমের প্রসংসা করেছেন। অনেকেই তাকে ওমরের শাসন ব্যবস্থার সাথে তার সময়ের তুলনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউএনও আশরাফুল আলমকে নিয়ে তার এক ভক্ত আব্দুল মুমিন খান নামে একজন লিখেছেন ‘দুই বছরের স্বল্পসময়ে আমতলীবাসীর হৃদয়ের যে গভীরে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন, যুগ যুগ চলে গেলেও সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। প্রতিটি সৎ ও ঈমানদার নাগরিকের চোখের পানি মিশ্রিত দুয়া তাঁর সম্বল হয়ে থাকবে সারাজীবন।’
ইউএনও আশরাফুল আলমের নাগরিক সংবর্ধনা চলাকালে ষাটোর্ধ রহিম হাওলাদার নামে একজন সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউএনওর সাথে হাত মিলিয়ে কেঁদে ফেলেন। অশ্রুশিক্ত চোখে তার জিঞ্জাসা স্যার আপনাকে কি আর দেখতে পাবো না। এভাবেই নারী পুরুষ অনেকেই নীরবে চোখের পানি ফেলে তার বিদায়ের সাক্ষী হয়েছেন। ইউএনও আশরাফুল আলমের প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়েছেন সামনা সামনি বক্তেব্যে কিংবা রেষ্টুরেন্টের চায়ের টেবিলের আলোচনায়। সবার যেন একই কথা এরকম ইউএনও কি আমতলী আর আসবে? আমরা কি এই স্যারের মত সব সময় সেবা পাবো?
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী পৌরসভা কার্যালয়ের হলরুমে পৌরপ্রশাসক ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের এক বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার সচিব মো. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সভায় বক্তব্য রাখেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার, বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ, হিসাব রক্ষক মো. নাসির উদ্দিন, সাংবাদিক জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন হাওলাদার প্রমুখ।
সভায় সচিব রফিকুল ইসলাম কেকে ফেলেন এবং তিনি বলেন, আমার ২৬ বছরের চাকুরী জীবনে এরকম একজন ইউএনও সৎ দক্ষ জনবান্ধব পৌরপ্রশাসক হতে পারে তা আমার জানা ছিল না। তিনি বলেন পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বজু বছরের পুরানো বকেয়া দেড় কোটি টাকা বেতন ভাতা এক সঙ্গে প্রদান করেছেন। এটা আমাদের হৃদয়ের স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। ওই দিন সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাবে এক বিদায়ী সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম।। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জামাল হোসাই, কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল, বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মহিদুজ্জামান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মানজুরুল হক কাওছারসহ সকল কর্মকর্তা বৃন্দ। পরের দিন সোমবার আমতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে এক সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. আব্দুল আজিজ মিয়া।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সভায় বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা কর্মকর্তা মানজুরুল হক কাওছার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জামাল হোসাই, বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার, বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম মস্তফা, সাংবাদিক জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও মো. রেজাউল করিম প্রমুখ।
বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, আমি আমতলী উপজেলা বাসীর নিকট থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তা দেখে আমি অভিভুত। এ ঋণ আমি কোন দিন শোধ করতে পারবো না। তিনি আরো বলেন, আমি একজন আল্লাহর খাদেম হয়ে শাসক নয় সেবক হয়ে সাধারন মানুষের সেবা দিয়েছি। তিনি আমতলীবাসীর সবার নিকট তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, আমি চাই আমতলীর সকল মানুষ সব সময় ভালো থাকবে এটাই আমি প্রত্যাসা করি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩১:১৭ ৫০৬ বার পঠিত | ● আমতলী ● ইউএনও ● বিদায়