ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » অটোরিকশা চালককে করে শাস্বরোধ হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

অটোরিকশা চালককে করে শাস্বরোধ হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে ২০২৫


অটোরিকশা চালককে করে শাস্বরোধ হত্যা, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে ব্যটারী চালিত অটোরিকশাচালক জামান হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তিন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আড়াইহাজার উপজেলার বাগদী গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আক্তার হোসেন (৩০),মৃত আহমদ আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৩৫) এবং নাগেরচর গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৭)। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানান যায়, ২০২০ সালের ২৯ মার্চ সন্ধায় জীবিকার তাগিদে অটো রিক্সাটি নিয়ে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল জামান আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন সন্ধায় এ ঘটনায় তার ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় নিখোঁজের জন্য একটি সাধারণ ডায়রী করেন। ৩১ মার্চ সকাল ১১টার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে মদনগঞ্জ নরসিংদী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার মারুয়াদী এলাকায় সড়কের পাশ এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহটির মুখ লাল রঙের টেপ দিয়ে মোড়ানো, হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা এবং দুই চোখ উপড়ানো ছিল। পরে নিহত ব্যক্তিকে জামান হোসেন হিসেবে শনাক্ত করে তার পরিবার। নিহত জামান ছিলেন আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাগদী গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে।
হত্যাকা-ের পর জামানের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, “আসামিরা পরিকল্পিতভাবে জামানকে হত্যা করে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয়। নিহতের হাত-পা রশি দিয়ে বাধা, দুই চোখ উপড়ানো ও মুখ লাল রংয়ের টেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল। এটি একটি নির্মম ও নৃশংস হত্যাকা-। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।”
রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের স্বজনরা। নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বেগম বলেন, তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিলো। মৃত্যুর এক দুই দিন আগে একটি নতুনঅটোরিকশা কিনেছিলো। করোনার কারণে সরকালি নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঘর থেকে বের হচ্ছিলনা। কিন্তুসংসার চালানোর মতো হাতে কোন টাকা ছিল না। তাই দুইদিন ঘরে বসে থাকে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে ২০২০ সালের ২৯ মার্চ সন্ধায় ঝুঁকি নিয়ে সদ্য কেনা নতুন অটোরিকশাটি নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। আর যাওয়ার সময় বলে যায় রাতে ফিরে আসবে। কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি।
মামলার বাদী নিহতের ভাই জাকির হোসেন বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক। উচ্চ আদালত যাতে এই রায় বহাল থাকে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৯:৪৭   ১৭৮ বার পঠিত  |         







ঢাকা থেকে আরও...


কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
মধুখালীতে গাঁজাসহ ‘হাতকাটা রাজিব’ গ্রেপ্তার
সদরপুরে নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
দোহারে ইট ভাটায় পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, কাটছে ফসলী জমি
ভূঞাপুরে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সেলিনা



আর্কাইভ