ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: নবাবগঞ্জে যাত্রীছাউনি দখলে নিয়ে সেখানে বানিজ্যিক দোকানঘর নির্মান করার অভিযোগ আ. লীগ নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার প্রভাব না থাকলেও দখলের প্রভাবে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন দখলদার আজগর আলী। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের কোমরগঞ্জ লঞ্চঘাটের যাত্রীছাউনি দখল করে মার্কেট তৈরি করে ভাড়া দিয়েছে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণের ভাই আজগর আলী।
এ ঘটনা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ৫ আগস্টের পরও তিনি নদীর পারে একটি জমি দখল করে ঘর তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, কোমরগঞ্জ লঞ্চঘাটে প্রায় ৩০ বছর আগের যাত্রী ছাউনিটি ভেঙে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ঢাকার জেলার সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামানের ভাই আজগর আলী জায়গাটি দখল করে নেন। এরপর সেখানে পাকা ঘর নির্মান করে ৫টি দোকান ভাড়া দিয়েছেন। যাত্রী ছাউনি দখল করে মার্কেট করলেও তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খোলেনি।
দখল করা জমিতে দোকান ভাড়া চালাচ্ছেন সুজন বস্ত্রালয়ের মালিক সুজন পাল।
তিনি বলেন, তিনি আজগর মিয়ার কাছে থেকে প্রায় তিন বছরের বেশী সময় ধরে দোকান ভাড়া নিয়েছেন।আড়াই লাখ টাকা এ্যাডভান্স জমা দিয়ে বর্তমানে মাসে চারঁ হাজার টাকা করে ভাড়া দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আগে এখানে লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনি ছিল কিনা তিনি বলতে পারেন না।
ফারহান ফ্যাশনের মালিক বলেন, তিনি ভাড়ায় দোকান চালান। তিন বছর আগে আড়াই লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসে ৪ হাজার টাকা ভাড়ায় চুক্তিনামা করেছে।
এছাড়া একটি হোটেলও রয়েছে তার দখলে। তিনিও ১ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দেন। অর্থাৎ সবাই আজগর আলীকে ভাড়া দেন।
জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, এসব জায়গা লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনি ছিল। আওয়ামী সকারের আমলে তারা মার্কেট নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন। তিনিও ২০ বছর আগে শুধু স্ট্যাম্পে সই-সাক্ষর করে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মো. ফালুর নিকট হতে দোকান পজেশন কিনে নেন।
তবে কোনো সাব কবলা দলিল নেই। তিনি দাবি করেন, কোমরগঞ্জের হাট-বাজারসহ সব জায়গার বেশির ভাগই খাস ও সরকারি। সরকার চাইলে চলে যাবো।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে আজগর আলী বলেন, তিনি কারো জমি দখল করে মার্কেট করেননি। ২০২০ সালে তিনি মুরাদ নামের একজনের কাছ থেকে যাত্রী ছাউনি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কিনেছেন। তবে রেজিস্ট্রি দলিল নেই। এছাড়া শেখ শাহিন ও মো. শানালের নিকট থেকে দখল পজিশন কিনে নেন।
কোমরগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুম্মন আলী বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। জমি দখলের বিষয়গুলো উপজেলা প্রশাসন কোনো নির্দেশনা নিলে সহায়তা করবো। এর বাইরে আমার কি করার আছে?
বিআইডব্লিউটির পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনির জায়গা দখলের সুযোগ নেই। বিষয়টি কেউ জানায়নি। দ্রুত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৫:৫৭ ২৩৯ বার পঠিত | ● দখল ● দোকান ● দোহার ● নবাবগঞ্জ ● যাত্রীছাউনি