ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নারায়ণগঞ্জ: দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল আযহা। ঈদের নামাজের পর পশু কোরবানির মধ্য দিয়েই শুরু হয় এই ঈদের তাৎপর্য। অধিকাংশ বিত্তবান মুসলিম পরিবার পশু কোরবানি দেওয়ায় প্রায় প্রতিটি ঘরেই থাকে কোরবানির ব্যস্ততা।
ঈদের দিন সকালে মুসলিম পরিবারে পশু কোরবানি, চামড়া ছাড়ানো, হাড় ও মাংস কাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। কোরবানির কাজে ব্যবহৃত দা, ছেনি, ছুরি, চাপাতি সারা বছর তেমন ব্যবহার না হলেও ঈদের দিনে এসব যন্ত্রের ব্যবহার খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই তো কোরবানিকে সামনে রেখে কামারপাড়া ভিড় বাড়তে শুরু করেছে মুসল্লিদের।
সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা গোপালদী কামার পল্লীসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে- প্রতিটি কামার দোকানে দা, ছুড়ি, চাপাতি তৈরিতে দিনরাত কাজ করছেন কামাররা। লোহার টুকরা আগুনে পুড়িয়ে সেগুলো পিটিয়ে দা, ছেনিসহ বিভিন্ন লোহার সরঞ্জাম তৈরির টুং টাং শব্দে মুখর কামার পল্লী। কামার পল্লীতে কেউ চুলায় ভাপি (বাতাস দেওয়ার বিশেষ যন্ত্র) টানছে, কেউ লোহা পিটছে, কেউবা শান দিচ্ছে।
অনেক কামার দোকানে ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। কামার পাড়ার টুং টাং শব্দ সকাল থেকে শুরু করে চলে গভীর রাত অবধি। গোপালদী কামার পল্লীর ষাট বছর বয়সী কামার আবদুল মান্নান মিয়া ছোট একটি দোকানে বসে চাপাতিতে শান দিচ্ছেন। কথা বলার সময় নেই।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক গ্রাহক বললেন, ভাই, চাপাতিটা একটু আগে করে দেন, সামনে অনেক কাজ। আবদুল মান্নান মিয়া জানালেন, বছরের অন্য সময় কাজ কম থাকলেও ঈদের আগে এত চাপ পড়ে যে নিশ্বাসে নেয়ার সময় পাই না। সকাল থেকে রাত মধ্য রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তিনি আরও জানান, একেকটা ছুরি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চাপাতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। যারা শান দিতে আসে, সেখানেও আয় হয়। ঈদের এই সময়টাই তাদের রোজগার হয় অনেক বেশি।
কামারপট্টির একদম শেষ মাথায় থাকা তরুণ কামার সোহাগ হোসেন জানায়, তার বাপ-দাদার পেশা ছিল কামারগিরি। এখন অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। কারণ সারা বছর কাজ কম। কিন্তু তিনি এখনো ধরে রেখেছেন। ঈদের সময় ভালো আয় হলেও বছরের বাকি সময়টা মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। সে আরও জানায়, মেশিনে তৈরি যন্ত্রপাতির সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার কাঁচামালের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। লোহা কিনে এনে হাতের কাজ করলে খরচ পড়ে বেশি, লাভ হয় কম।
ক্রেতা জাকির হোসেন জানান, এখানকার কামারদের কাজ খুব ভালো হয়। তাই অনেক দুরদুরান্ত থেকে এখারে এসে তাদের প্রয়োজনীয় কোরবানীর পশু কাটার যন্ত্রপাতি ক্রয় করে নিয়ে যায়।
দা ও চাপাতি শান দিতে জালাকান্দিতে থেকে আসা মোশারফ হোসেন জানান, সারা বছর সংসারে দা ব্যবহার হলেও ছুরি ও চাপাতি গুলো কোরবানির পর অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে। এক বছর সেগুলো ব্যবহার না করায় মরিচায় জং ধরে থাকে। তাই কোরবানি আসলেই দা, ছুরি ও চাপাতির শান দিতে নিয়ে আসি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫০:৫৮ ১৭৩ বার পঠিত | ● আড়াইহাজার ● কামারপাড়া ● ব্যস্ততা